রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত কাজের জন্য আজ বুধবার সকাল থেকে সামিটের এলএনজি টার্মিনাল চার দিন সরবরাহ বন্ধ রাখবে। এতে করে চট্টগ্রামসহ জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের যোগান কমবে। রান্নার চুলা থেকে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সিএনজি স্টেশনে সংকট দেখা দিতে পারে। এ নিয়ে চট্টগ্রামের গ্রাহকদের মাঝে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
তবে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) শীর্ষ কর্মকর্তারা বলেছেন, যেভাবে উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি চড়ানো হচ্ছে সেরূপ কিছু চট্টগ্রামে ঘটবে না। ইতোমধ্যে বড় বড় শিল্প গ্রাহকদের যোগান কমিয়ে চট্টগ্রামের আবাসিক এবং সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনসহ গ্যাসের যোগান যাতে সর্বত্র রাখা যায় তার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে গ্যাসের যোগান কমে গেলে কোনো কোনো এলাকায় সাময়িক সংকট দেখা দিতে পারে।
এদিকে আগামী চার দিন সারা দেশে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে ‘গুজব’ আখ্যা দিয়ে এতে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পেট্রোবাংলা। সংস্থাটি বলেছে, সামিটের এলএনজি টার্মিনালে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা কমবে, তবে পুরোপুরি বন্ধ হবে না।
জানা যায়, কক্সবাজারের মহেশখালীতে সামিট গ্রুপের এলএনজি টার্মিনালের রিগ্যাসিফিকেশন কার্যক্রম চার দিনের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ সকাল ৮টা থেকে ৭ নভেম্বর বিকাল ৪টা পর্যন্ত টার্মিনালটির কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। এ সময় টার্মিনালটিতে যান্ত্রিক রক্ষণাবেক্ষণের কার্যক্রম চালানো হবে। সামিটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি হঠাৎ নেওয়া কোনো জরুরি সিদ্ধান্ত নয়। আগে থেকেই নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচি।
এই চার দিন জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৩২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সরবরাহ কমে যেতে পারে। ফলে আগে থেকে গ্যাসের চাপ ও সরবরাহ ঘাটতিতে থাকা চট্টগ্রামের আবাসিক, শিল্প, বিদ্যুৎ ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে নগরীর যেসব এলাকায় স্বাভাবিক সময়েও চুলায় পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যায় না, সেসব এলাকায় পরিস্থিতি খারাপ হবে।
কেজিডিসিএলের ডিজিএম মোহাম্মদ রফিক আহমেদ খান দৈনিক আজাদীকে বলেন, গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত থাকবে। আমাদের প্রতিদিন দেওয়া হতো ২৫৫ থেকে ২৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। আজ থেকে দেওয়া হবে ২৩৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। বিএসআরএম, কেএসআরএম, আবুল খায়েরসহ কয়েকটি বড় শিল্প গ্রাহককে গ্যাস কমিয়ে দিচ্ছি। এতে কিছু গ্যাস সাশ্রয় হবে। ওটা দিয়ে আবাসিকসহ প্রয়োজনীয় খাতগুলোতে যোগান স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করব। এ লক্ষ্য নিয়ে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি কাজ করছে। তবে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় কোনো কোনো এলাকায় স্বল্প চাপ, কোথাও তীব্র স্বল্প চাপ বা কোনো কোনো এলাকায় সাময়িকভাবে গ্যাস না–ও থাকতে পারে। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আবাসিক গ্রাহকসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে গ্যাসের যোগান যাতে স্বাভাবিক রাখা যায় আমরা সেই চেষ্টা করছি।
চট্টগ্রামের গ্যাস সেক্টর পুরোটাই আমদানিনির্ভর। আমদানিকৃত এলএনজির যোগান কমে গেলে চট্টগ্রামে গ্যাসের স্বাভাবিক সংকট তৈরি হয়। আগে আশুগঞ্জ–বাখরাবাদ লাইন ব্যবহার করে সিলেট ও কুমিল্লা অঞ্চলের গ্যাস চট্টগ্রামে আনা যেত। এখন সেই সুযোগ নেই।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সামিটের এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ হলে ন্যাশনাল গ্রিডে গ্যাসের যোগান কমে যাবে। চট্টগ্রামেও কমবে। গ্যাসের যোগান কমলে তার প্রভাব চট্টগ্রামের আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিল্প, বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদনসহ সর্বত্রই পড়বে। তারা বলেন, ন্যাশনাল গ্রিড থেকে চট্টগ্রামে ২৩৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তা যদি ঠিক থাকে তাহলে পরিস্থিতি তেমন নাজুক হবে না। অবশ্য গ্যাসের যোগান কমার সাথে সাথে চাপও কমে। আর চাপ কমে গেলে বিভিন্্ন এলাকায় গ্যাস পৌঁছাবে না। বিশেষ করে নগরীর যেসব এলাকায় আগে থেকে গ্যাসের চাপ কম, সেসব এলাকায় রান্নার চুলা জ্বালানো কঠিন হবে। আবাসিক গ্রাহকদের পাশাপাশি সিএনজি স্টেশন, হোটেল–রেস্তোরাঁ ও শিল্পকারখানাও ভোগান্তিতে পড়বে।
চট্টগ্রামে দৈনিক ৩৫০–৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে শিল্পকারখানায় প্রয়োজন ৫০–৬০ মিলিয়ন ঘনফুট, আবাসিক খাতে ৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট, কাফকো সার কারখানায় ৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট, চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানায় (সিইউএফএল) ৪৪ মিলিয়ন ঘনফুট, রাউজান বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৪০ থেকে ৪২ মিলিয়ন ঘনফুট এবং শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৩২ থেকে ৩৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হয়।











