হাসিনার সম্পদ বাজেয়াপ্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিল রাষ্ট্রপক্ষ

| বুধবার , ৪ নভেম্বর, ২০২৬ at ৬:২৬ পূর্বাহ্ণ

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্থাবর–অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ বাস্তবায়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মঙ্গলবার চিঠি দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষ। কৌঁসুলি গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম এদিন বিকালে বলেন, শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের সম্পদ বাজেয়াপ্ত চেয়ে একটি চিঠি প্রসিকিউশনের একজন কর্মকর্তাকে দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি বিক্রি করে সেই অর্থ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিতরণের ব্যবস্থা নিতে ওই চিঠিতে অনুরোধ জানানো হবে বলে দুপুরে জানান ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম। গতকাল মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। খবর বিডিনিউজের।

আমিনুল ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনার পক্ষে নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে কোনো আপিল করা হয়নি। ফলে তার সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ বাস্তবায়নে কোনো আইনগত বাধা নেই বলে মনে করে প্রসিকিউশন। শেখ হাসিনার পক্ষে কোনো আপিল হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে আমিনুল ইসলাম বলেন, একজনের আপিলে আরেকজনের পার্ট তো কাভার করবে না। শেখ হাসিনার পক্ষে তো কোনো আপিল হয়নি।

প্রধান কৌঁসুলি জানান, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ আরও কয়েকজনের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ রয়েছে। যাচাই–বাছাই করে প্রায় ১১ থেকে ১২ জনের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের বিষয়টি পাওয়া গেছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমানোর চেষ্টায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত বছরের ১৭ নভেম্বর শেখ হাসিনা এবং তার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

হাসিনা ও কামালের সর্বোচ্চ সাজা ঘোষণার পর রায়ে বলা হয়, অভিযুক্ত শেখ হাসিনা এবং অভিযুক্ত আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের বাংলাদেশে থাকা সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হবে। একইসঙ্গে জুলাই আন্দোলনে নিহত বিক্ষোভকারীদের মধ্যে যারা এই মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত তাদেরকে উল্লেখ্যযোগ্য পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশও সরকারকে দেয় আদালত।

ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ার পরও কোনো আসামি আপিল করতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনের ২১ ধারার কথা উল্লেখ করেন প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, আইনের ২১(১) ও ২১(২) ধারায় সরকার ও আসামি উভয় পক্ষের আপিলের জন্য ৩০ দিনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। ২১(৩) ধারায় বলা হয়েছে, ওই সময়ের মধ্যে আপিল না করলে পরে আর আপিল দায়ের করা যাবে না।

ভবিষ্যতে কোনো আসামি বিলম্ব মার্জনার আবেদন করে আপিল করতে চাইলে সেটি গ্রহণের সুযোগ আছে কি না, এমন প্রশ্নে আমিনুল বলেন, বিশেষ আইন হওয়ায় এ ক্ষেত্রে লিমিটেশন অ্যাক্টের প্রয়োগ হবে না বলে তাদের অবস্থান। আমিনুল ইসলাম বলেন, আমরা মনে করি, যেহেতু এটা একটা স্পেশাল ল, সেই স্পেশাল ল–এর উপরে কোনো ডিলে কনডোনেশনের সুযোগ থাকে না। লিমিটেশন অ্যাক্টের কোনো প্রয়োগ থাকে না। ৩০ দিন অতিক্রান্ত হয়ে যাওয়ার পর সেই ক্ষেত্রে রায়ের অন্যান্য অংশ বাস্তবায়নে আইনগত কোনো বাধা নেই। আর আসামি যখন গ্রেপ্তার হবেন, তার রায় কার্যকর হবে।

সময় পার হওয়ার পরও আপিল বিভাগে আপিল গ্রহণের নজির থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধরনের সময়োত্তীর্ণ আপিল এখন পর্যন্ত নিষ্পত্তি হয়নি। আপিল বিভাগে বিচারাধীন একটি আপিলের ক্ষেত্রেও প্রসিকিউশন সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরবে।

প্রধান কৌঁসুলি জানান, যেসব আসামি পলাতক আছেন এবং যাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ আছে, খুব দ্রুত তাদের সম্পত্তি সরকারের হেফাজতে নেওয়া হবে। সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ বাস্তবায়নে কী পরিমাণ অর্থ পাওয়া যেতে পারে, তা জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এ বিষয়ে তাদের কাছে কোনো হিসাব নেই। সম্পত্তি শনাক্ত ও মূল্যায়নের পরই এর পরিমাণ জানা যাবে।

তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের রায়টা হচ্ছে এভাবে যে, আসামিদের সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বিক্রি করে সেই বিক্রয়লব্ধ অর্থ জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিতরণ করার জন্য। এখন সেই ৫০ শতাংশ সম্পত্তি কী আছে, স্থাবর–অস্থাবর সম্পত্তি কী রকম আছে, তার ভ্যালুয়েশন কত, সেটা ওই সম্পত্তি শনাক্ত ও বিক্রয় সাপেক্ষে বোঝা যাবে। এখন এটা সরকার করবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবাঁশখালী ও হাটহাজারীতে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা
পরবর্তী নিবন্ধঅস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ পেলেন ৪২৯ সহকারী স্টেশন মাস্টার