চট্টগ্রাম কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের সাবেক সুপারিনটেনডেন্ট মো. ইদ্রিসের স্ত্রী ফখরে জাহান বেগমের ৩ কোটিরও বেশি টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের খোঁজ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সরকারি চাকরিজীবী স্বামীর অসদুপায়ে অর্জিত অর্থ দিয়েই মূলত তিনি এসব সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। নিজের অবৈধ আয় দিয়ে মো. ইদ্রিসও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। এসব ঘটনায় এ দম্পতির বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে দুদক।
গতকাল দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম–১ এর উপ–সহকারী পরিচালক মেরিন আক্তার বাদী হয়ে নিজ কার্যালয়ে মামলা দুটি দায়ের করেন। মো. ইদ্রিস ফেনী জেলার বাসিন্দা। তবে স্ত্রী–পরিবারসহ তিনি নগরীর মেহেদীবাগের ইক্যুইটি লাভিনিয়া’র একটি ফ্ল্যাটে থাকেন।
মো. ইদ্রিসের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার এজাহারে বলা হয়, তিনি সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে অসদুপায়ে অর্জিত অর্থ দিয়ে নিজ নামে ৩৬ লাখ ১১ হাজার ৫৬৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে তা নিজের দখলে রেখেছেন।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে তার নামে মোট ১ কোটি ৩২ লাখ ১৫ হাজার ৫৪৯ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। বিপরীতে ১৯৯০–৯১ করবর্ষ থেকে ২০২৩–২৪ করবর্ষ পর্যন্ত বৈধ আয় ও অন্যান্য উৎস থেকে বৈধ তহবিল বা সঞ্চয় হিসাব যাচাই করে তার অর্জিত সম্পদে ৩৬ লাখ ১১ হাজার ৫৬৯ টাকার অবৈধ বা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের সত্যতা মেলে। যা দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। স্ত্রী ফখরে জাহান বেগমের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার এজাহারে নিজ নামে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৫১ হাজার ৫৯২ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এজাহারে বলা হয়, অনুসন্ধানে ফখরে জাহানের নামে মোট ৩ কোটি ২০ লাখ ৭২ হাজার ৫৯২ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ পাওয়া যায়, যার মধ্যে বৈধ আয় ও অন্যান্য উৎস বাদে ৩,১৫,০১,৫৯২ টাকার অবৈধ সম্পদের প্রমাণ মিলেছে। এই মামলায় তার স্বামী মো. ইদ্রিসকে দ্বিতীয় আসামি করা হয়েছে। সরকারি চাকরিজীবী স্বামীর অসদুপায়ে অর্জিত অর্থ দিয়ে এসব সম্পদ অর্জন করেছেন তিনি। আর এতে সহায়তা করেছেন মো. ইদ্রিস। এর মাধ্যমে তারা দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা এবং দুদক আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন বলেও এজাহারে বলা হয়। দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম–১ এর উপপরিচালক আল আমিন দৈনিক আজাদীকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, তদন্তে অন্য কোন তথ্য ও অন্য কারো সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে আমলে নেওয়া হবে।












