ডিসেম্বরকে সামনে রেখে অস্থিতিশীলতা তৈরির পাঁয়তারা চলছে : শ্রমমন্ত্রী

আন্দোলনের নামে অস্থিরতার নেপথ্যে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ

| সোমবার , ২ নভেম্বর, ২০২৬ at ৬:০৫ পূর্বাহ্ণ

ডিসেম্বরকে সামনে রেখে একটি মহল দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ করেছেন শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। গতকাল রাতে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের সামনে আসেন। তিনি বলেন, আজকের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আপনারা জানেন একটি মহল ডিসেম্বরকে সামনে রেখে চক্রান্ত করছে। সরকারকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের লিপ্ত। ইনশাআল্লাহ আমরা রাজনৈতিকভাবে সেটা মোকাবেলা করব। খবর বিডিনিউজের।

ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুর ও গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় জরুরি এ বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এতে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী কী বলেছেন, জানতে চাইলে শ্রমমন্ত্রী বলেন, উনি বলছেন যে কলকারখানা–শিল্পকারখানা যেন সঠিকভাবে চলে। জনগণের জানমালের যেন নিরাপত্তা থাকে, আমরা সকলে যেন সবাই সজাগ থাকি। এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বলেছেন।

আন্দোলনের নামে অস্থিরতার নেপথ্যে নিষিদ্ধ আ. লীগ : বাসস জানায়, পোশাক শ্রমিকদের নামে সংগঠিত সহিংসতায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সরাসরি উসকানি ও নাশকতায় জড়িত রয়েছে বলে জানিয়েছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। সাধারণ শ্রমিকদের এই যৌক্তিক আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত ও দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে সরকারি দায়িত্বশীল মহল থেকেও জানানো হয়েছে।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বাড়াতে নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে জানিয়ে বলা হয়েছে সরকার, মালিক ও শ্রমিক এই তিন পক্ষের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত মজুরি বোর্ড দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ চূড়ান্ত করবে। এই পরিস্থিতিতে শ্রমিকের ছদ্মবেশে যারা রাষ্ট্রীয় সম্পত্তিতে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করবে, তাদের কঠোর হাতে দমন করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রাকিব খান জানান, আন্দোলন সহিংস রূপ নেওয়ার পর পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১১ জন নেতাকর্মীকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত ও গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, নিষিদ্ধ দলের নেতাকর্মীরা এই নাশকতা চালাচ্ছে।

ডিবি পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা স্থানীয় পোশাক কারখানার শ্রমিক নন। তারা বরিশাল, পটুয়াখালী, কঙবাজার ও গাইবান্ধাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এসে শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে নাশকতার উদ্দেশ্যে মিরপুরে জড়ো হয়েছিলেন। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধডেঙ্গুতে নভেম্বরের প্রথম দিনেই দেশে ৮ মৃত্যু
পরবর্তী নিবন্ধগার্মেন্টস খাতের নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন