অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতিকে আনুষ্ঠানিক কাঠামোয় আনতে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি

কর্মশালায় বিভাগীয় কমিশনার

| মঙ্গলবার , ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ at ৭:০৭ পূর্বাহ্ণ

অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতিকে আনুষ্ঠানিক কাঠামোয় রূপান্তরের জন্য সরকারি–বেসরকারি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন।

আইএলও বাংলাদেশের গত ২৫ অক্টোবর নগরীর একটি হোটেলের হলরুমে আয়োজিত ডিভিশনাল কনসালটেশন ওয়ার্কশপ অন দ্য ন্যাশনাল বিজনেস ফরমেলাইজেশন স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড রোডম্যাপ শীর্ষক বিভাগীয় পরামর্শ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন বলেন, অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি থেকে আনুষ্ঠানিক অর্থনীতিতে উত্তরণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবর্তনকে সবার আগে মানসিকভাবে গ্রহণ করতে হবে। আমাদের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হলেও কাঙ্ক্ষিত রূপান্তর অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবায়িত হয় না। এ ক্ষেত্রে চাহিদা ও জোগানের বিষয়গুলো যথাযথভাবে চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। চাহিদা ও যোগানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করা গেলে অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে আরও সুশৃঙ্খল ও গতিশীল করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের শ্রম অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ শামছুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের শ্রমবাজার ও অর্থনীতির একটি বড় অংশ অনানুষ্ঠানিক খাতের অন্তর্ভুক্ত। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের প্রায় সিংহভাগ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির আওতাভুক্ত হওয়ায় সব খাতকে একসঙ্গে আনুষ্ঠানিক কাঠামোয় নিয়ে আসা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমিক উদ্যোগ, কার্যকর পরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অংশগ্রহণ প্রয়োজন। কর্মশালায় চিটাগাং উইম্যান চেম্বারের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি ও অংশগ্রহণে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিল্প পুলিশ–০৩, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাহমুদা বেগম বলেন, শিল্প খাতে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ বজায় রাখা এবং সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক রাশেদা আক্তার বলেন, অনানুষ্ঠানিক ব্যবসাকে আনুষ্ঠানিক কাঠামোয় নিয়ে আসা উদ্যোক্তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইএলও বাংলাদেশের কনসালট্যান্ট আলি সাবেত। তিনি ব্যবসা আনুষ্ঠানিককরণের প্রয়োজনীয়তা, এ–সংক্রান্ত কৌশল ও রোডম্যাপ এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। কর্মশালা সঞ্চালনা ও সূচনা বক্তব্য দেন, আইএলও বাংলাদেশের ন্যাশনাল প্রজেক্ট অফিসার রুমান ইসতিয়াক রাফিন।

কর্মশালায় চসিক, কাস্টমস, এঙাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ইপিবি, বিএসটিআই, বিসিক, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, চিটাগাং চেম্বার, নাসিব, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, বিভাগীয় শ্রম দপ্তর, শিল্প সম্পর্ক শিক্ষায়তন (আইআরআই) এবং চিটাগাং উইম্যান চেম্বারসহ বিভিন্ন ব্যাংকের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধফ্যাশন, লাইফস্টাইল, সৃজনশীলতায় সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত