জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, আমাদের মনে রাখতে হবে হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়েও পুরোপুরি ডেঙ্গু মোকাবিলা করা সম্ভব হচ্ছে না, তাই আমাদের যে কোনো মূল্যে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ করতে হবে। এ জন্য আমাদের বসতবাড়ি, অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ নানা স্থাপনার আঙ্গিনা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং আশপাশে পানি জমতে দেওয়া যাবে না। ময়লা–আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে।
গতকাল শনিবার দুপুর ১২টায় আনোয়ারায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ‘পরিচ্ছন্ন করি নগর–গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’ স্লোগান এবং ‘দেশব্যাপী জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান–২০২৬’ কর্মসূচির কার্যক্রম উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, পুকুর ডোবা, নালা, নর্দমা পরিত্যক্ত করে রাখা যাবে না। এ ক্ষেত্রে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। সমাজে প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্ববোধ থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের জন্য ভূমিকা পালন করতে পারলে আমরা যে কোনো দুর্যোগ সঠিকভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। এর আগে উপজেলা পরিষদ কনফারেন্স রুমে বিভিন্ন বিভাগীয় কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের সততা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নাগরিকসেবা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি দপ্তরে এসে মানুষ যেন সঠিক সেবা পান, স্বস্তি পান এবং তাঁদের সমস্যার সমাধান হয়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। সরকারি অফিসগুলো আরও গতিশীল হতে হবে। স্থানীয় নাগরিকদের সাথে মানবিক আচরণ করতে হবে। আইনের বাইরে গিয়ে কোনো কাজ করার প্রয়োজন নেই। সেবাপ্রার্থীদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনতে হবে। তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে আন্তরিক হওয়ার নির্দেশনা দেন তিনি।
এরপর উপজেলা চত্বর থেকে একটি সচেতনতামূলক র্যালির নেতৃত্ব দেন তিনি। র্যালিটি উপজেলা সড়ক প্রদক্ষিণ করে আনোয়ারা থানায় গিয়ে শেষ হয়। পরে থানার ভেতরে পরিত্যক্ত পুকুরটি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কার্যক্রমে অংশ নেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।
এ সময় পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম তার বক্তব্যে বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে নালা–নর্দমা পর্যন্ত সব জায়গা পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও যাতে ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী মশা বিস্তার লাভ করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। শুধু ডেঙ্গু নয় মাদকের ভয়াবহতা থেকে যুব সমাজকে বাঁচাতে হবে। তাছাড়া ইভটিজিং, চুরি, ডাকাতিসহ সব ধরনের সামাজিক অপরাধ নির্মূলে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি একজন সুনাগরিক হিসেবে সমাজের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামান, আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিন উদ্দিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবু জাফর মজুমদার, আনোয়ারা থানার ওসি মো. জুনায়েত চৌধুরী, আনোয়ারা উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এম. মনজুর উদ্দীন চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিউল করিম জাকারিয়া চৌধুরী জকু, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক, সাবেক চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবির চৌধুরী আনচার, বিএনপি নেতা আকতার নবী চৌধুরী, আবুল কালাম আবু, মেজবাহ উদ্দীন জাহেদ, হারেচ আহমদ, ইকবাল হায়দার চৌধুরী, ফারুক হোসেনসহ বিভিন্ন বিভাগীয় কর্মকর্তা, আনোয়ারা উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।












