শারদীয় দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীকে কেন্দ্র করে পাহাড়ি পরিবেশ ও সম্প্রীতির আবহে পালিত হলো নেপালি বংশোদ্ভূত গুর্খা সম্প্রদায়ের শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী ‘টিকা লাগাউনে’ উৎসব। এ আচারটির মূল তাৎপর্য হলো জ্যেষ্ঠদের কাছ থেকে কপালে টিকা গ্রহণ এবং ছোটদের প্রতি প্রবীণদের পারস্পরিক স্নেহ ও আশীর্বাদ লাভ। পাহাড়ি জনপদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নানা বৈচিত্র্যের পাশাপাশি এ বিশেষ সামাজিক ও ধর্মীয় রীতিনীতিতে গুর্খা জনগোষ্ঠীর নিজস্ব সংস্কৃতির প্রতিফলন ঘটে।
গতকাল বুধবার সকালে শহরের প্রধান প্রধান মন্দির ও মণ্ডপগুলোতে বিজয়া দশমীর অঞ্জলি প্রদান শেষে গুর্খা সম্প্রদায়ের পরিবারগুলোতে ঘরে ঘরে শুরু হয় এই উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। খবর বাসসের।
উৎসবের ধারাবাহিকতায় রাঙ্গামাটির জেল রোডে সুর নিকেতন সংগীত শিক্ষালয় ভবনে এক বিশেষ সামাজিক আচারের আয়োজন করা হয়। সুর নিকেতনের প্রতিষ্ঠাতা মনোজ বাহাদুর গুর্খার উদ্যোগে মোমবাতি প্রজ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটির সূচনা ঘটে। এ সময় মিল্টন বাহাদুর গুর্খাসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রবীণরা কনিষ্ঠদের কপালে টিকা পরিয়ে দেন এবং পরিবারের সমৃদ্ধি ও শুভকামনায় বিশেষ প্রার্থনা করেন।
অনুষ্ঠানে মনোজ বাহাদুর গুর্খা বলেন, আদিকাল থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী নেপালি বংশোদ্ভূত গুর্খা সম্প্রদায় শারদীয় দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীর দিনে টিকা লাগাউনে উৎসব পালন করে আসছে। এই ধর্মীয় ও সামাজিক আচার–অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পাহাড়ের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সামাজিক ভ্রাতৃত্ববোধ এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উৎসবের শেষাংশে আগত অতিথিদের ঐতিহ্যবাহী আপ্যায়ন করা হয়। পরে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্যদিয়ে মিলনমেলার সমাপ্তি ঘটে।












