সড়ক চওড়া হচ্ছে, দুর্ঘটনা কমবে তো?

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক

মোহাম্মদ মারুফ, লোহাগাড়া | বৃহস্পতিবার , ২২ অক্টোবর, ২০২৬ at ৮:২৬ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। প্রতিদিন এ মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করে দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। যানবাহনের ক্রমবর্ধমান চাপের বিপরীতে সড়কের কিছু অংশের সীমিত প্রস্থ, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক, বেপরোয়া গতি ও অনিরাপদ ওভারটেকিং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। লবণ ও মাছবাহী গাড়ি থেকে নিঃসৃত পানিতে সড়ক পিচ্ছিল হওয়ার বিষয়টিও উদ্বেগের। বিশেষ করে লোহাগাড়া–সাতকানিয়া অংশে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ রয়েছে। এ অবস্থায় সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ চলছে।

কেন ঘটছে দুর্ঘটনা : সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। সড়কের নকশা ও অবস্থা, যানবাহনের চাপ, চালকের আচরণ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের কিছু অংশে সড়ক সংকীর্ণ হওয়ায় বিপরীতমুখী যানবাহনের মধ্যে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। বাঁকে সামনে থেকে আসা গাড়ি যথাসময়ে দেখতে না পাওয়া কিংবা ঝুঁকি নিয়ে অন্য গাড়িকে অতিক্রমের চেষ্টা মুখোমুখি সংঘর্ষের আশঙ্কা বাড়ায়।

এছাড়া অতিরিক্ত গতি, চালকের অসতর্কতা, দীর্ঘক্ষণ গাড়ি চালিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়া, যানবাহনের যান্ত্রিক ত্রুটি ও ট্রাফিক আইন অমান্য করার কারণেও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সড়কের পাশে অনিয়ন্ত্রিতভাবে যানবাহন থামানো, যাত্রী ওঠানামা, পথচারীদের চলাচল ও অপর্যাপ্ত সতর্কতামূলক চিহ্নও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে নির্দিষ্ট দুর্ঘটনার কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট ঘটনার তদন্তের তথ্য প্রয়োজন।

প্রশস্ত সড়ক কি কমাবে দুর্ঘটনা

সড়ক প্রশস্ত করা হলে যানবাহন চলাচলের জন্য বাড়তি জায়গা তৈরি হয়। সড়কের নকশা ও বাঁকের উন্নয়ন করা হলে যানবাহন চলাচল সহজ হতে পারে। তবে সড়ক প্রশস্ত হলেই দুর্ঘটনা কমবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। অতিরিক্ত গতি, অনিরাপদ ওভারটেকিং ও ট্রাফিক আইন অমান্য করার কারণে প্রশস্ত সড়কেও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক রয়েছে। ২০২৬ সালের মে মাসে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এ সংখ্যা ৭৭টি উল্লেখ করা হয়েছে।

দুর্ঘটনাপ্রবণ জাঙ্গালিয়ায় চার লেন হচ্ছে দুই কিলোমিটার সড়ক

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়ার জাঙ্গালিয়া এলাকায় প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ চলছে। এর মধ্যে ৯০০ মিটার চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে এবং প্রায় এক কিলোমিটার কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এছাড়া মহাসড়কের সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া অংশে তিনটি প্যাকেজে প্রশস্তকরণের কাজ চলছে।

প্রথম প্যাকেজে সাতকানিয়ার রাস্তার মাথা থেকে লোহাগাড়ার রাজঘাটা সেতু এলাকা পর্যন্ত ৮ দশমিক ৪ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্ত করা হচ্ছে। ৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দের এ কাজ পেয়েছে এমএএইচ কনস্ট্রাকশন। দ্বিতীয় প্যাকেজে লোহাগাড়ার রাজঘাটা থেকে চুনতির মিঠার দোকান এলাকা পর্যন্ত সাত কিলোমিটার সড়ক প্রশস্ত করা হচ্ছে। ৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দের এ কাজ পেয়েছে এমএ কনস্ট্রাকশন। তৃতীয় প্যাকেজে চুনতির মিঠার দোকান থেকে জাঙ্গালিয়া এলাকা পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার সড়ক প্রশস্ত করা হচ্ছে। ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দের এ কাজ পেয়েছে এমএএইচ কনস্ট্রাকশন।

প্রশস্তকরণ প্রকল্পে মহাসড়কের দুই পাশে ছয় ফুট করে প্রস্থ বাড়ানো হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলোতে বাড়ানো হচ্ছে ১০ থেকে ১২ ফুট পর্যন্ত। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সূত্রে জানা গেছে, প্রথম প্যাকেজের কাজ ৫০ শতাংশ, দ্বিতীয় প্যাকেজের ৪০ শতাংশ ও তৃতীয় প্যাকেজের ৬০ শতাংশ শেষ হয়েছে।

সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংগঠন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) লোহাগাড়া উপজেলার সাবেক সভাপতি মোজাহিদ হোছাইন সাগর বলেন, শুধু সড়ক প্রশস্ত করলেই দুর্ঘটনা বন্ধ হবে না। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক ও ঢাল সংশোধন, সড়কের মাঝখানে নিরাপদ বিভাজক, পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক সাইন, রাতের দৃশ্যমানতা ও কার্যকর গতিনিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি বেপরোয়া গাড়ি চালানো, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং ও ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। লবণ ও মাছবাহী যানবাহন থেকে সড়কে পানি পড়ে পিচ্ছিল হওয়ার সমস্যাও প্রতিরোধ করতে হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবাস-ট্রাকের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে থ্রি-হুইলার,ইউ-টার্নে ঝুঁকি
পরবর্তী নিবন্ধলাইন মেরামত চললেও জানানো হয়নি, অভিযোগ লোকোমাস্টারের