জ্ঞান, যোগ্যতা ও আচরণ দিয়ে শ্রদ্ধা অর্জন করতে হবে শিক্ষকদের : ডিসি

চট্টগ্রামে ৪৬১ নবনিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকের লটারিতে পদায়ন

আজাদী প্রতিবেদন | রবিবার , ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ at ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, শুধু পাঠ্যবই পড়ানো ও শিক্ষার্থীদের পড়া নেওয়ার মধ্যে শিক্ষকের দায়িত্ব সীমাবদ্ধ নয়। নিজের জ্ঞান, যোগ্যতা ও আচরণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধা অর্জন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের কাছে অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠতে হবে শিক্ষকদের।

গতকাল শনিবার নগরীর পিটিআই মিলনায়তনে চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগর পর্যায়ে নবনিয়োগপ্রাপ্ত ৪৬১ জন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের লটারির মাধ্যমে পদায়ন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষকদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, বই এখন ইন্টারনেটেও পড়া যায়। তাই শুধু বই পড়ানোই একজন শিক্ষকের সার্থকতার মাপকাঠি হতে পারে না। শিক্ষার্থীরা যখন শিক্ষকের জ্ঞান, মেধা ও আচরণকে সম্মান করবে এবং তাকে অনুসরণ করবে, তখনই শিক্ষকতা সার্থক হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভয়ভীতির পরিবর্তে শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভয়ের মাধ্যমে প্রকৃত শিক্ষা দেওয়া সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে হবে। তা না হলে দক্ষ ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব হবে না।

নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পর্কে জেলা প্রশাসক দাবি করেন, শতভাগ স্বচ্ছতা ও মেধার ভিত্তিতে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের ব্যস্ততার মধ্যেও নিয়োগপ্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দেখানো হয়েছে। পদায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে লটারির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

কর্মস্থল ও সুযোগ–সুবিধার সীমাবদ্ধতাকে দায়িত্ব পালনের অন্তরায় না করার আহ্বান জানিয়ে মো. জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, আমি দেশকে কতটুকু দিলাম, কী অবদান রাখলাম, রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে যে সেবা গ্রহণ করছি, তার বিপরীতে রাষ্ট্রকে কী দিলাম–এই প্রশ্ন নিজেকে করতে হবে।

নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে দক্ষ ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তুলবেন বলে আশা প্রকাশ করেন জেলা প্রশাসক। শিক্ষার উদ্দেশ্য কেবল ডিগ্রি অর্জন নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ থাকলেও একজন শিক্ষার্থী যদি দেশপ্রেম, সামাজিক দায়িত্ববোধ ও দেশের ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন না হন, তাহলে সেই শিক্ষার সুফল দেশ ও সমাজ পাবে না।

প্রযুক্তির মাধ্যমে বর্তমান প্রজন্ম বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে পারছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষকদেরও নিজেদের জ্ঞান ও দক্ষতা নিয়মিত হালনাগাদ করতে হবে। যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে না পারলে শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখা কঠিন হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধটমটম ছিনতাইয়ে চালককে হত্যা, এরপর রেস্টুরেন্টে বসে ভোজ
পরবর্তী নিবন্ধপিংক বাসে ভ্রাম্যমান স্ক্রিনিং কার্যক্রম