কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনায় অবস্থিত এক সময়ের এশিয়া বিখ্যাত কর্ণফুলী পেপার মিলে কর্মচাঞ্চল্য ফেরাতে এবং কারখানার প্রায় বিলুপ্ত হওয়া সোনালি অধ্যায় ফিরিয়ে আনতে প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ সরকারের কাছে বর্তমানে এই কারখানা মাদার ইন্ডাস্ট্রিজ হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কাগজ উৎপাদনকারী এরকম পুরাতন শিল্প কারখানা দেশে দ্বিতীয়টি নেই। ৭৫ বছরের পুরাতন, জরাজীর্ণ অবকাঠামো এবং ভঙ্গুর কলকব্জা দিয়ে স্বল্প সংখ্যক শ্রমিক কর্মচারির মাধ্যমে এখনো এই মাদার ইন্ডাস্ট্রিজে উন্নত মানের কাগজ উৎপাদন হচ্ছে। তবে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অধিকাংশ সময় কারখানাটি বন্ধ থাকছে।
কর্ণফুলী পেপার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শহীদ উল্লাহ্ বলেন, এই কারখানা নিয়ে সরকারের বড় পরিকল্পনা রয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গত ১০ অক্টোবর বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান এবং সরকারের অতিরিক্ত সচিব মো. বাবুল মিঞা কেপিএম পরিদর্শন করেন। অতিরিক্ত সচিব মো. বাবুল মিঞা কেপিএম ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সাথে গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময়ে বলেন, বর্তমান সরকার এই কারখানাকে নিয়ে বড় পরিকল্পনা করছে। গত ১৭ বছর কেপিএম নিয়ে তৎকালীন সরকারের ইতিবাচক কোনো পদক্ষেপ ছিল না। যে কারণে দেশের অন্যতম বৃহৎ কাগজ শিল্প কারখানাটি ধংসের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁচেছে। এই দুররবস্থা থেকে কর্ণফুলী পেপার মিলেকে টেনে তুলতে কাজ করছে সরকার। বিসিআইসির চেয়ারম্যান বলেন, সরকার কখনো কর্ণফুলী পেপার মিল বন্ধ করবেনা। বরং দেশে বন্ধ থাকা সকল কলকারখানা চালু করার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পর কথাও জানান তিনি। মো. বাবুল মিঞা কেপিএম পুনরুজ্জীবীত করার জন্য যে কোনো পদক্ষেপ সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হবে বলে জানান।
কেপিএমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শহীদ উল্লাহ্ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের সাথে সম্প্রতি কর্ণফুলী পেপার মিলের সার্বিক বিষয় নিয়ে সচিবালয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান কেপিএমের সার্বিক বিষয়ে অবগত রয়েছেন বলে জানান। কেপিএমকে পুরোদমে সচল করার বিষয়ে এবং সকল প্রকার সমস্যা দুরকিরণের বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করবেন বলেও জানান। তার আগে তিনি কর্ণফুলী পেপার মিল কারখানা পরিদর্শনে আসার সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন বলে ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন বলেন, তিনি সম্প্রতি কর্ণফুলী পেপার মিলের উৎপাদন কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেছেন। ৭ দশকের পুরাতন হলেও এখনো এই কারখানাকে তিনি সম্ভাবনাময় বলে উল্লেখ করেন। দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনে কেপিএমের উৎপাদিত কাগজ ভূমিকা রেখে আসছে উল্লেখ করে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, জাতীয় নির্বাচনসহ সকল নির্বাচনে কেপিএমের কাগজে ব্যালট পেপার তৈরি করা হচ্ছে। কেপিএম উৎপাদিত কাগজে প্রতি বছর দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হচ্ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ শিল্প প্রতিষ্ঠানকে সচল রাখতে তাঁর অবস্থান থেকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে বলেও তিনি জানান।
শ্রমিক কর্মচারি পরিষদ সিবিএ সভাপতি আবদুল রাজ্জাক বলেন, কেপিএম নিয়ে আমরা গর্ববোধ করি। বাংলাদেশ সরকারের প্রতি সর্বস্তরের শ্রমিক কর্মচারির আস্থা রয়েছে। কেপিএমের স্বর্ণযুগ আবার ফিরে আসবে এই প্রত্যাশায় আমরা সবাই বুক বেঁধে আছি। কেপিএম প্রশাসন বিভাগীয় প্রধান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, কেপিএম সচল থাকলে এই মিলকে ঘিরে পার্বত্য চট্টগ্রামের হয়েক হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম বনাঞ্চল থেকে বাঁশ কাঠ ইত্যাদি কেপিএমে সরবরাহ করে অনেকেই জীবীকা নির্বাহ করেন। কর্ণফুলী পেপার মিল শুধু কর্মরত শ্রমিক কর্মচারি কর্মকর্তাদের রুটিরুজির বিষয় নয়, এই কারখানাকে ঘিরে অসংখ্য মানুষের রুটিরুজির যোগান হয় বলেও তিনি জানান। কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রায়হানুল ইসলাম বলেন, কর্ণফুলী পেপার মিলকে সচল রাখতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিল্প মন্ত্রণালয়ে আমরা প্রস্তাব পাঠিয়েছি। সকলের প্রচেষ্টায় কেপিএম পুনরায় ঘুরে দাঁড়াবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।









