সার্কিট হাউস থেকে অনলাইনে সিন্ডিকেট সভা চুয়েট উপাচার্যের

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ শিক্ষক সদস্যই অনুপস্থিত

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি | শনিবার , ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ at ৫:৩৩ পূর্বাহ্ণ

টানা শাটডাউন, অসহযোগ কর্মসূচি ও প্রশাসনিক সংকটের মধ্যেই চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সর্বোচ্চ নীতি–নির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপাচার্য পরিবর্তন ও নিয়োগকে কেন্দ্র করে চলা তীব্র আন্দোলনের মুখে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় অনলাইন মাধ্যমে আয়োজিত এ সভায় উপাচার্য ছাড়া চুয়েটের অভ্যন্তরীণ কোনো শিক্ষক প্রতিনিধি বা অনুষদ ডিন অংশ নেননি। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে নগরীর সার্কিট হাউসে উঠে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম জরুরি ভিত্তিতে এ সভা করেন।

চুয়েটের সিন্ডিকেটে উপাচার্যসহ মোট পদ ১৭টি। তবে সহ–উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের পদ দুটি শূন্য থাকায় বর্তমান কার্যকরী সদস্য সংখ্যা ১৫। গতকালের ভার্চুয়াল বৈঠকে উপাচার্যসহ মাত্র ৬ জন সদস্য অংশ নেন। সভায় উপস্থিত অন্য সদস্যরা হলেন–চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) মো. মাহবুবুল হক পাটোয়ারী, চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান এবং বিটিবিএলের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) ও টিএসসি’র অবসরপ্রাপ্ত মহাপরিচালক প্রকৌশলী খান আতাউর রহমান।

সভায় অংশ নেওয়া সিন্ডিকেট সদস্য ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান গণমাধ্যমে জানান, চুয়েটের অভ্যন্তরীণ ছয়জন শিক্ষক সদস্যের কেউই এই অনলাইন বৈঠকে যুক্ত ছিলেন না।

এদিকে এভাবে হঠাৎ খুদে বার্তা পাঠিয়ে সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক মহলে ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। সভা আহ্বানের বিধিসম্মত ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলে চুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসাইন গণমাধ্যমকে বলেন, উপাচার্য কেবল একটি বার্তা পাঠিয়ে সভা ডেকেছেন। তবে এভাবে মেসেজ পাঠিয়ে সরাসরি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করা যায় কিনা বা এটি বিশ্ববিদ্যালয় বিধিমালার কতটুকু অনুকূলে, তা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী রেজিস্ট্রার দপ্তরের মাধ্যমে সিন্ডিকেটের সভার আনুষ্ঠানিক নোটিশ জারি হওয়ার কথা।

এই প্রশাসনিক জটিলতার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে চুয়েটের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. শেখ মোহাম্মদ হুমায়ুন কবিরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তিনি আগেই রেজিস্ট্রারের অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। ফলে দাপ্তরিক বা বিধিসম্মত প্রক্রিয়ায় রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে সভার নোটিশ ইস্যু করা সম্ভব হয়নি।

তবে চুয়েট শিক্ষকদের অনুপস্থিতিতে মাত্র ৬ জন সদস্যকে নিয়ে সিন্ডিকেটের বৈঠক সম্পন্ন হলেও বন্ধ থাকা শিক্ষাকার্যক্রম চালুর বিষয়ে স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত বা সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা আসেনি। সভার সিদ্ধান্ত জানতে উপাচার্যের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন গণমাধ্যমে জানান, সভার মূল আলোচ্য ছিল ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও ভুল–বোঝাবুঝি দূর করা; কোনো নীতিনির্ধারণী বা বড় সিদ্ধান্ত সেখানে হয়নি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ১৯৭ রোল কাপড় উধাওয়ের ঘটনায় দুজন গ্রেপ্তার
পরবর্তী নিবন্ধককরোচ প্রধান দিপকে ও নেহা বোরা আটক