আগামী ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ৫ দিন দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি ঘিরে কক্সবাজার ও রাঙামাটিতে পর্যটকের ঢল নামবে বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় উদ্যোক্তারা। ইতোমধ্যে কক্সবাজার ও রাঙামাটি শহরসহ আশপাশের এলাকা ও সাজেক ভ্যালির রিসোর্ট–কটেজ, হোটেল–মোটেলগুলোতে অগ্রিম বুকিং বেড়েছে। তবে আগামী দু–একদিনের মধ্যে কক্ষ বুকিংয়ের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন খাত–সংশ্লিষ্টরা। টানা পাঁচ দিনের ছুটিকে কেন্দ্র করে দেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজারে বিপুল পরিমাণ পর্যটকের সমাগম আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। আগামী ২০ অক্টোবর থেকে ছুটি শুরু হবে। তবে আগেই কক্সবাজারে বেড়াতে আসতে শুরু করেছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পর্যটকরা। গতকাল শুক্রবার বিপুল পর্যটক সমাগম হয়েছে। পর্যটকের চাপ আগামী শনিবার পর্যন্ত থাকবে বলে মনে করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুর্গাপূজার ছুটি কাটাতে কক্সবাজারে বেড়াতে আসার অপেক্ষায় বিপুল পর্যটক। ইতোমধ্যে শহরের হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও গেস্ট হাউসের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে। এতে পর্যটন শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো নতুনভাবে চাঙা হয়ে উঠেছে। বিপুল পর্যটকের নিরাপত্তাসহ সার্বিক বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কক্সবাজার হোটেল–মোটেল ও গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, এবারের ছুটিতে পর্যটকদের সাড়া বেশ ভালো পাওয়া যাচ্ছে। তারকা ও মাঝারি মানের হোটেল–মোটেলের ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ কক্ষ ইতোমধ্যে বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। কিছু রিসোর্ট ও কটেজে অল্প কিছু কক্ষ খালি থাকলেও আজকালের মধ্যে সেগুলোও বুকিং হয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। হোটেল কক্স টুডের জেনারেল ম্যানেজার আবু তালেব বলেন, পাঁচ দিনের এই ছুটিতে এই হোটেলের প্রায় শতভাগ কক্ষ বুকিং হয়েছে এবং আগত পর্যটকদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছেন।
পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও পরিবহন ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার শহর ও এর আশপাশে পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, গেস্ট হাউস ও কটেজে মোট প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার পর্যটকের রাতযাপনের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে গত বছরগুলোতে টানা ছুটিতে অতিরিক্ত পর্যটকের চাপে অনেককে থাকার জায়গার অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছিল এবং গাড়ির ভেতরেও রাত কাটাতে হয়েছিল।
পরিবহন খাতের ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে ৯০ থেকে ৯৫টি পরিবহন কোম্পানির প্রায় আট থেকে নয় হাজার বাস ঢাকা ও অন্যান্য জেলা থেকে কক্সবাজারে চলাচল করছে। ইতোমধ্যে এসব বাসের বেশির ভাগের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শেষ হয়ে গেছে। একইসঙ্গে ঢাকা–কক্সবাজার রুটের ট্রেনের সব আসনও সম্পূর্ণ বুকিং হয়ে গেছে বলে রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে।
পর্যটকদের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজমল হোসেন জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। জেলা পুলিশের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় করে আইনশৃক্সখলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক দল মাঠে থাকবে এবং পর্যটকদের নিরাপত্তাকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, চলতি পর্যটন মৌসুমে এবারের ছুটিতে কক্সবাজারে সর্বোচ্চসংখ্যক পর্যটকের সমাগম ঘটতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সমুদ্রসৈকতে শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এদিকে পর্যটকদের বরণে প্রস্তুতির কথা জানালেন রাঙামাটির পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। রাঙামাটির প্রথম ইকো রিসোর্ট ‘রাইন্যা টুগুন ইকো রিসোর্টের’ ব্যবস্থাপনা পরিচালক ললিত সি. চাকমা বলেন, আগামী ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত রাইন্যা টুগুনের ৯৫ শতাংশ কটেজ অগ্রিম বুকিং আছে। আশা করি, দুয়েকদিনের মধ্যে সেটি শতভাগ হয়ে যাবে। এবার পূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে রাঙামাটিতে পর্যটকদের সীমাহীন ঢল নামতে পারে আশঙ্কা করছেন তিনি।
রাঙামাটি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা বলেন, পূজার ছুটিতে আমাদের পর্যটন মোটেলে ৯০ শতাংশ রুম বুকিং হয়ে গেছে। দুয়েকদিন পরে হয়তো ১০০ শতাংশ হতে পারে বলে আশা করছি। আমরা ঝুলন্ত সেতুসহ আমাদের বেশ কয়েকটি বিনোদনের জায়গাগুলো সংস্কার করেছি। পর্যটকদের বরণে আমরা প্রস্তুত রয়েছি।
রাঙামাটি শহরের হোটেল গ্র্যান্ড মাস্টারের পরিচালক মোহাম্মদ শাহিন আল মামুন বলেন, ২০–২৪ পর্যন্ত আমাদের শতভাগ বুকিং আছে। পর্যটকদের বরণে আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে। এবার অন্যান্য বছরের চেয়ে পর্যটকদের সমাগম বেড়েছে।
কাপ্তাই হ্রদের মাঝে দ্বীপে অবস্থিত ‘দ্য গ্র্যান্ড হিল তাজ’ রিসোর্টের পরিচালক রাজন রক্ষিত জানান, আমাদের ১১টা কক্ষ রয়েছে, গত ১৫ অক্টোবর থেকে আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত সবগুলো কক্ষই বুকিং আছে। রিসোর্টের কক্ষ ছাড়াও তাবুতে রাত্রিযাপনের সুযোগ আছে। তাবুতে রাত্রিযাপনের জন্যও বুকিং পাচ্ছি। সব মিলিয়ে রাঙামাটিতে পর্যটকদের সমাগম ভালোই।
রাঙামাটির সাজেক ভ্যালিতে অবস্থিত রুইলুই হলিডে রিসোর্টের স্বত্ত্বাধিকারী মিশু দে বলেন, ৫ দিন পর আজ (শুক্রবার) সাজেকে কিছু পর্যটক এসেছেন। যেহেতু অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত এবং প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা আদেশ প্রত্যাহার হয়েছে শনিবার থেকে পর্যটক উপস্থিতি বাড়বে বলে আশা করা যাচ্ছে। তবে আজ আমাদের রিসোর্টে পর্যটক কিছুটা কম এসেছেন।
সাজেক রিসোর্ট ও কটেজ মালিক সমিতির সভাপতি সুপর্ণ দেববর্মণ বলেন, আমাদের রিসোর্ট–কটেজগুলো ১৬ অক্টোবর হতে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শতভাগ বুকিং রয়েছে। আশা করছি পূজার ছুটিতে সাজেকে পর্যটদের ব্যাপক সমাগম ঘটবে। ইতোমধ্যে পর্যটক আসা শুরু হয়েছে।










