তাফসিরের অর্থ ও সংজ্ঞা: তাফসির শব্দটি আরবি “ফাসরুন” ধাতু থেকে উদ্ভূত। এর আভিধানিক অর্থ কোনো বিষয় প্রকাশ করা, ব্যাখ্যা করা, অস্পষ্ট বিষয়কে স্পষ্ট করা এবং কোনো কঠিন বক্তব্যের মমার্থ তুলে ধরা। ইমাম রাগিব ইসফাহানি (রহ.) তাঁর “আল–মুফরাদাত ফি গারিবিল কুরআন” গ্রন্থে “ফাসর” শব্দের অধীনে কোনো বিষয়ের অর্থ স্পষ্ট করার ধারণা তুলে ধরেছেন।
পারিভাষিক সংজ্ঞা: তাফসির শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ আলেমগণ তাফসিরকে এমন একটি জ্ঞান শাস্ত্র হিসেবে বিবেচনা করেছেন যার মাধ্যমে পবিত্র কুরআনের অর্থ, বিধান, উদ্দেশ্য এবং আল্লাহ তা’আলার অভিপ্রেত মর্ম মানুষের সাধ্যানুযায়ী স্পষ্ট করা হয়। ইমাম জালালুদ্দিন সুয়ুতি (রহ.) এর “আল–ইতকান ফি উলুমিল কুরআন” গ্রন্থে তাফসিরশাস্ত্রের বিভিন্ন বিষয় আলোচিত হয়েছে। সংক্ষেপে বলা যায় তাফসীর হলো এমন একটি শাস্ত্র যার মাধ্যমে নির্ভরযোগ্য দলিলের আলোকে পবিত্র কুরআনে আয়াত সমূহের অর্থ শানে নুযুল ভাষাগত ও ব্যকরণগত দিক বিধিবিধান এবং শিক্ষণীয় বিষয় ব্যাখ্যা করা যায়।
তাফসির শাস্ত্রের বিষয়বস্তুর প্রধান বিষয় সমূহ: ১. কুরআনের শব্দ সমূহের ব্যাখ্যা দুর্বোধ্য শব্দ, আভিধানিক অর্থ ও শব্দের উৎপত্তি বিশ্লেষণ। ২. আয়াতের বাক্য গঠন নাহু, সরফ, বালাগাত এবং কুরআনের ভাষা শৈলী ব্যাখ্যা। ৩. শানে নুযুল আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার কারণ ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা। ৪. শরিয়তের বিধি বিধান: ইবাদত, লেনদেন, সামাজিক জীবন ও অন্যান্য শরিয়ত সম্মত বিধানের ব্যাখ্যা। ৫. আকিদা ও ঈমান: তাওহিদ, রিসালাত, আখিরাত এবং অন্যান্য বিশ্বাস সংক্রান্ত বিষয়ের আলোচনা। ৬. ঘটনাবলি ও উপদেশ: নবী রাসূলগণের ঘটনাবলি, শিক্ষণীয় উপদেশ ও নৈতিক নির্দেশনা। ৭. নাসিখ ও মানসুখ: শরিয়ত সম্মত দলিলের ভিত্তিতে যেসব আয়াতের বিধান রহিত হওয়ার বিষয় আলোচিত হয় সেগুলোর পর্যালোচনা। ৮. কুরআনের উদ্দেশ্য তুলেধরা: আয়াতের শিক্ষা ব্যক্তিগত সংশোধন ও সামাজিক কল্যাণের দিকগুলো তুলে ধরা। (তথ্য সূত্র: ইমাম যারকাশি, আল–বুরহান ফি উলুমিল কুরআন, ইমাম সুয়ুতি “আল ইতকান ফি উলুমিল কুরআন।) ৯. তাফসিরের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য: তাফসির শাস্ত্রের প্রধান উদ্দেশ্য হলো, পবিত্র কুরআনের সঠিক মর্ম উপলব্ধি করা। মহান আল্লাহর নির্দেশনা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করা। এবং সে অনুযায়ী জীবন পরিচালনার পথ সুগম করা। পবিত্র কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াতে করীমায় আল্লাহ তা’আলা এরশাদ করেছেন, এটি এক বরকতময় কিতাব যা আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি যাতে মানুষ এর আয়াত সমূহ নিয়ে গভীর চিন্তা ভাবনা করে এবং বুদ্ধিমান ব্যক্তিরা উপদেশ গ্রহণ করে। (আল কুরআন, সূরা: সাদ, ৩৮: ২৯)
এ আয়াত দ্বারা প্রতীয়মান হয় কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো, এর আয়াত সমূহ নিয়ে চিন্তা গবেষণা করা এবং তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা আর, এ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে তাফসির শাস্ত্রের জ্ঞান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পবিত্র কুরআনে আরো এরশাদ হয়েছে, আমি আপনার প্রতি যিকর (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি। যেন আপনি ঐসব বিষয় বিবৃত করেন, যে গুলো তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে। (সূরা: নাহল, ১৬:৪৪)
তাফসির শাস্ত্রের ক্রম বিকাশ: পবিত্র কুরআনের তাফসিরের সূচনা হয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগেই পরবর্তী সময়ে বর্ণনা, শিক্ষাদান, সংকলন ও কিতাব রচনার বিভিন্ন পর্যায় অতিক্রম করে তাফসির শাস্ত্র সমৃদ্ধি লাভ করে। প্রথম পর্যায় : রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র যুগ এটি তাফসির শাস্ত্রের মৌলিক যুগ ও সূচনা যুগ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন কুরআনের প্রথম শিক্ষক, এবং সর্বাধিক নির্ভর যোগ্য ব্যাখ্যাদাতা, সাহাবিগণ কোনো আয়াতের অর্থ বা বিধান বা ব্যাখ্যা জানতে চাইলে তিনি প্রদান করতেন। দ্বিতীয় পর্যায়: সাহাবায়ে কেরামের যুগ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওফাতের পর সাহাবায়ে কেরাম আরো ব্যাপক পরিসরে কুরআনের শিক্ষা ও ব্যাখ্যা প্রচার প্রসারের দায়িত্ব পালন করেন। সাহাবীগনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মুফাসসির ছিলেন, ১. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.), ২. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.), ৩. হযরত আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) ৪. হযরত উবাই ইবনে কাব (রা.) সাহাবাগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান, আরবি ভাষা এবং আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পেক্ষাপটের আলোকে কুরআনের তাফসির করতেন। তৃতীয় পর্যায়: তাবেয়িগণের যুগ: তাবেয়িগণ সাহাবায়ে কেরাম থেকে কুরআনের জ্ঞান অর্জন করে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে তাফসিরের শিক্ষা প্রচার প্রসার ও বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এ সময় মক্কা মুকাররমা মদিনা মুনাওয়ারা কুফা গুরুত্বপূর্ণ তাফসির চর্চার কেন্দ্র হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করে। প্রসিদ্ধ তাবেয়ি মুফাসসিরদের মধ্যে রয়েছেন হযরত মুজাহিদ ইবনে জাবর (রহ.) হযরত ইকরামা (রহ.) হযরত কাতাদা (রহ.) হযরত হাসান বসরি (রহ.) ও হযরত সাঈদ ইবনে জুবাইর (রা.)। এ যুগে তাফসিরের কেন্দ্র গুলো সুসংগঠিত হয়। চতুর্থ পর্যায়: তাফসির সংকলনের যুগ। এ পর্যায়ে তাফসির শাস্ত্রে বিশেষজ্ঞ আলেমগণ কুরআনের আয়াতের অধীনে সংশ্লিষ্ট বর্ণনা সাহাবিগনের বক্তব্য তাবেয়িগণের মতামত একত্রিত করতে থাকেন এবং তাফসির শাস্ত্রে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচিত হয়। ইমাম আবদুর রাজ্জাক সানআনি (রহ.) ও ইমাম আবি শাইবা (রহ.) এর মতো মুহাদ্দিসগণের কিতাবেও তাফসির সংক্রান্ত বর্ণনা সংরক্ষিত হয়েছে। পঞ্চম পর্যায়: তাফসিরগ্রন্থ রচনার যুগ: এ যুগে তাফসিরের স্বতন্ত্র বিস্তারিত ও পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ রচিত হয় ইমাম ইবনে জরীর তাবরি (রহ.) (ওফাত ৩১০ হি.) এর “জামিউল বায়ান আন তা’বিলি আয়িল কুরআন” এ ধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ তাফসির। পরবর্তী সময়ে আকিদা ফিকহ ও যুক্তিনির্ভর বিশ্লেষণের ওপর অসংখ্য তাফসির গ্রন্থ সমূহ । ১. মাফাতিহুল গায়ব (তাফসিরে কবীর) ইমাম আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ওমর ইমাম আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ওমর ইমাম ফখরীদ্দীন রাজি (রহ.) ওফাত ৬০৬। ২. আনোয়ারুত তানযীল ইমাম বায়যাবি (রহ,) ওফাত ৬৯১ হি.। ৩. মাদারিকুত তানযিল, আবুল বারাকাত আবদুল্লাহ বিন আহমদ নসফী ওফাত ৭০১। ৪. লুবাবুত তা’বিল হযরত আবুল হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ আল বাগদাদী। (তাফসির খাযেন. ওফাত ৭৪১ হি.) ৫. গরায়িবুল কুরআন নিযামুদ্দীন বিন হাসান খোরাসানি, (ওফাত: ৮৫০ হি.) ৬. তাফসিরুল জালালাইন, ইমাম জালালুদ্দিন মহল্লি (রহ.) ও ইমাম জালালুদ্দিন সুয়ুতি (রহ.) ৯১১ হিজরি। ৭. ‘তাফসির সিরাজুল মুনীর’ সামসুদ্দিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল কাহিরি, ৯৭৭ হিজরি, ৮. তাফসির রুহুল মা’আনি–আল্লামা মাহমুদ আলূসি (রহ.) ১২৭০ হি. ৯. তাফসির রুহুল বায়ান–আল্লামা ইসমাইল হক্কী, ১২০০ হি.
তাফসিরের জন্য যে সব শাস্ত্রের জ্ঞানার্জন প্রয়োজন: পবিত্র কুরআন মহান আল্লাহর কালাম এর সঠিক অর্থ অনুধাবন ব্যাখ্যা ও তাফসির করার জন্য শুধু আরবি ভাষা জ্ঞান যাথেষ্ট নয়। আল্লামা বদরুদ্দীন যরকাশী (রহ.) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ “আল–বুরহান ফি উলুমিল কুরআন” এ তাফসিরের নীতিমালা আলোচনা করেছেন। এ ক্ষেত্রে কুরআন হাদিস আরবি ভাষা, ফিকহ, উসুলে ফিকহ ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইসলামি শাস্ত্রের প্রয়োজনীয় জ্ঞান থাকা অপরিহার্য। অন্যথায় কুরআনে অপব্যাখ্যা বিকৃত অর্থ ও ভুল ব্যাখ্যা দেওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। যে সব বিষয়ের জ্ঞান অপরিহার্য। ১. আরবি শব্দ তত্বের জ্ঞান, আল্লাহ তা’আলা এরশাদ করেন, “নিশ্চয়ই আমি একে আরবি কুরআন রূপে অবতীর্ণ করেছি যাতে তোমরা বুঝতে পারো। (সূরা: ইউসূফ ১২:২) ২. সরফ বা শব্দরূপতত্ব: শব্দের গঠন, মূলধাতু, শব্দের রূপান্তর এবং রূপভেদে অর্থের পরিবর্তন বুঝার জন্য ইলমে সরফ এর জ্ঞান প্রয়োজন। ৩. ইলমে নাহু বা বাক্যতত্ব: আরবি বাক্যে শব্দের অবস্থান, বাক্য গঠনের নিয়ম বুঝার জন্য নাহু শাস্ত্রের জ্ঞান অপরিহার্য। ৪. ইলমে ইশতিকাক বা শব্দের উৎপত্তি ও ব্যুৎপত্তিগত জ্ঞান প্রয়োজন। ৫. বালাগাতের জ্ঞান: বাক্যের অর্থ ও প্রসঙ্গ অনুযায়ী বক্তব্যের যথার্থ বিন্যাস উপমা রূপক ও ইঙ্গিতের মাধ্যমে অর্থ প্রকাশের পদ্ধতি বক্তব্যের সৌন্দর্য ও অলংকারশর্ত বৈশিষ্ট এতদসংক্রান্ত বালাগাতের জ্ঞান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ৬. কিরআতের জ্ঞান: ইলমুল কিরাআতের জ্ঞান অপরিহার্য। ৭. শানে নুযুলের জ্ঞান: কোন আয়াত কোন ঘটনা বা পরিস্থিতি ও প্রেক্ষাপটে অবতীর্ণ হয়েছে তা জানতে হবে। ৮. নাসিখ ও মানসুখ সংক্রান্ত জ্ঞান শরিয়তের কোনো পূর্ববর্তী বিধান পরবর্তী দলিলের মাধ্যমে রহিত হয়েছে কিনা তা জানার জন্য নাসিখ মানুসখ সংক্রান্ত জ্ঞান প্রয়োজন। ৯. হাদীস শাস্ত্রের জ্ঞান: হাদীস কুরআন বুঝার গুরুত্বপূর্ণ উত্তম সহিহ, হাসান ও দুর্বল হাদিসের পার্থক্য সনদ বর্ণনাকারীদের অবস্থা এবং বর্ণিত হাদিসের গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে জ্ঞান থাকা অপরিহার্য। ১০. আকিদা ও ইলমে কালামের জ্ঞান: তাওহীদ, রিসালাত, আখিরাত, ইসলামের মৌলিক বিষয়াদির জ্ঞান থাকা জরুরি। ১১. ফিকহ ও উসূলে ফিকহের জ্ঞান: কুরআনে বিধান সংক্রান্ত আয়াতের ব্যাখ্যা করতে ফিকহ ও উসূলে ফিকহের জ্ঞান অপরিহার্য। ১২. মুহকাম ও মুতাশাবিহের জ্ঞান: যে সব আয়াতের অর্থ সুস্পষ্ট তা মুহকাম যে সব আয়াতের অর্থ অনুধাবনে বিশেষ সতকর্তা ও গভীর জ্ঞান প্রয়োজন সেগুলো মুতাশাবিহ। ১৩. কুরআনের ঘটনাবলি ও ইতিহাসের জ্ঞান: পূর্ববর্তী নবী রাসূল তাঁদের জাতি এবং অতীতের বিভিন্ন ঘটনা সম্পর্কে কুরআন ও নির্ভর যোগ্য হাদিসে বণির্ত তথ্য জানা প্রয়োজন কুরআনের ঘটনাবলী থেকে শিক্ষা উপদেশ ও হিদায়ত গ্রহণ করা সহজ হবে। ১৪. মাওহুবি ইলম: আল্লাহ প্রদত্ত উপলদ্ধি ও তাকওয়া ইখলাস, আমল, এবং আল্লাহর কাছে সঠিক উপলব্ধির প্রার্থনাও গুরুত্বপূর্ণ। (সূত্র: ইমাম আহমদ রেযা আওর ইলমে তাফসির, পৃ: ৭০–৭২ কৃত: আল্লামা মুহাম্মদ হানিফ খান রিজভি)
কুরআনের মনগড়া তাফসিরের ভয়াবহ পরিণতি: কুরআনের আয়াতের ব্যাখ্যা করা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও দায়িত্বপূর্ণ কাজ। এ বিষয়ে যথাযথ জ্ঞান যোগ্যতা ও প্রামাণ্য দলিল ছাড়া মনগড়া ব্যাখ্যা করা ভয়াবহ অপরাধ। হাদীস শরীফে এসেছে, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি জ্ঞান ছাড়াই কুরআন সম্পর্কে কোনো কথা বলে সে যেন জাহান্নামে নিজের ঠিকানা তৈরি করে নেয়। (তিরমিযি, হাদীস নং: ২৯৫০)
কুরআনের তাফসির করতে হলে ইলম ও প্রামাণ্য দলিলের ভিত্তিতে করতে হবে, ব্যক্তিগত ধারণা, অজ্ঞতা কিংবা মনগড়া মাতামতকে আল্লাহর কালামের তাফসির হিসেবে পেশ করা জঘন্যতম অপরাধ। নিজের প্রবৃত্তি, অনুমান কিংবা ব্যক্তিগত পছন্দকে আল্লাহর বাণীর ব্যাখ্যা হিসেবে প্রচার করা যাবেনা।
মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে পবিত্র কুরআন সঠিক ভাবে বুঝার, কুরআনের নূরে নিজেদের জীবন আলোকিত করার তাওফিক দান করুন। আমীন
লেখক : অধ্যক্ষ, মাদরাসা–এ তৈয়্যবিয়া ইসলামিয়া সুন্নিয়া ফাযিল (ডিগ্রী); খতীব, কদম মোবারক শাহী জামে মসজিদ।
[ইসলাম সম্পর্কিত পাঠকের প্রশ্নাবলি ও নানা জিজ্ঞাসার জবাব দিচ্ছেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা মুহাম্মদ বদিউল আলম রিজভি। আগ্রহীদের বিভাগের নাম উল্লেখ করে নিচের ইমেলে প্রশ্ন পাঠাতে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
Email : azadieditorial@gmail.com]
মুহাম্মদ আবদুল মুকতাদির
বাহির সিগন্যাল, কাপ্তাই রাস্তার মাথা, চান্দগাঁও, চট্টগ্রাম
প্রশ্ন: মসজিদের নিচতলায় সংস্কার কাজ চলমান থাকার কারণে সাময়িকভাবে দ্বিতীয় তলায় জুমার নামায ও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জমাত আদায় করা যাবে কিনা!
উত্তর: বিশেষজ্ঞ ফকিহগণের বর্ণনামতে সাধারণভাবে মসজিদের দ্বিতীয় তলায় জুমার নামায ও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জামাত আদায় করা জায়েজ। যদি দ্বিতীয় তলাটি ওই মসজিদেরই অংশ হয়। নিচ তলায় সংস্কার কাজ চলার কারণে ধুলোবালি, শব্দ, নির্মাণ সামগ্রী বা সমস্যা জনিত কারণে সাময়িকভাবে দ্বিতীয় তলায় নামাজের ব্যবস্থা করা যুক্তি সংগত। ইমাম ও মুক্তাদির স্থান এক হওয়া এবং ইমামের অবস্থা জানা জামাত সহিহ হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। একই মসজিদের বিভিন্ন তলায় অবস্থান করলেও স্থানগত ঐক্য বজায় থাকতে পারে। ফতোয়া শামীতে উল্লেখ রয়েছে, কোনো আড়াল ইমামের অনুসরণে বাধা হয়না, যদি ইমামের অবস্থা শ্রবণ বা দর্শনের মাধ্যমে অস্পষ্ট না থাকে। (রদ্দুল মুহতার, ১ম খন্ড, পৃ: ৫৮৬)
নামাজের স্থান যদি একই মসজিদের অন্তর্ভূক্ত হয় এবং ইমামের অনুসরনের শর্ত পূরণ হয়। তাহলে শুধু ওপর নিচ তলার ব্যবধানকে নামাজ বাতিলের কারণ বলা যাবেনা। (ফাতাওয়া রযভিয়্যাহ, খন্ড:২৪, পৃ: ৪৩৯)












