নাগরিক হিসেবে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করতে চাই

হাটহাজারীতে পূজার উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে মীর হেলাল । দুর্গোৎসব চট্টগ্রামের মানুষের পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের প্রতীক : শামীম

| শুক্রবার , ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ at ৫:২৬ পূর্বাহ্ণ

ধর্ম, জাতি, বর্ণ ও গোত্রের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য নয়, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তিনি বলেন, সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য আমরা আগে কাজ করতে চাই। হাটহাজারীতে বিভিন্ন সনাতনী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের উদ্যোগে হাটহাজারী উপজেলার চৌধুরীহাট পল্লী সংগঠন সমিতির মাঠে পূজার উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মীর হেলাল বলেন, হাটহাজারীর মানুষের সঙ্গে আমাদের আত্মার সম্পর্ক। নির্বাচনের আগে আপনাদের কাছে এসেছিলাম। আপনারা আমাকে ভালোবেসে ভোট দিয়েছেন। আপনাদের সেই ভালোবাসা ও আস্থার মর্যাদা রাখার চেষ্টা করব।

ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, হিন্দু, বৌদ্ধ কিংবা অন্য কোনো ধর্মের মানুষের ওপর কেউ অন্যায়ভাবে আক্রমণ করলে বা ক্ষতি করতে চাইলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

সভাপতির বক্তব্য চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, দুর্গাপূজা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি চট্টগ্রামের মানুষের পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহাবস্থানেরও প্রতীক। উৎসবের আনন্দ যাতে সমাজের সব শ্রেণি–পেশার মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে, সে লক্ষ্যেই জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রায় ১০ হাজার শাড়ি আর লুঙ্গি বিতরণ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার প্রতিটি উপজেলায় শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিল। দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে থাকা যেমন আমাদের দায়িত্ব, তেমনি বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবেও মানুষের পাশে থাকা আমাদের অঙ্গীকার। আজ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই উৎসবের আয়োজনেও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ আপনাদের পাশে রয়েছে। আমরা চাই, ধর্ম–বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলেমিশে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধনে আবদ্ধ থাকুক।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী রওশন ইসলাম, নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মো. ইখতিয়ার উদ্দিন আরাফাত, হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মোমিন, হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাথী উদয় কুসুম বড়ুয়া, শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব দে পার্থ, চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সেলিম, দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক গাজী ইউসুফ, হাটহাজারী উপজেলা পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল দত্ত ও মোহাম্মদ ইউসুফ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধনগরীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ৩৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা অনুদান দিল চসিক
পরবর্তী নিবন্ধ৭৮৬