বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে হ্যাটট্রিক করলেন হাসান মাহমুদ। আবু ধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টের প্রথম ইনিংসে হ্যাটট্রিক করেন হাসান। ইনিংসের ৮৩ ও নিজের ১৮তম ওভারের তৃতীয় থেকে পঞ্চম বলে যথাক্রমে– আফগানিস্তানের ইসমাত আলম, কাইস আহমেদ ও জিয়া উর রহমানকে শিকার করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন হাসান। টেস্ট ইতিহাসে বাংলাদেশের তৃতীয় বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিক করলেন হাসান। তবে টাইগার পেসারদের মধ্যে প্রথম হ্যাটট্রিকম্যান এখন তিনি। এর আগে টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে হ্যাটট্রিক করেছিলেন দুই স্পিনার অলক কাপালি ও সোহাগ গাজী। ২০০৩ সালে পেশোয়ারে পাকিস্তানের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেন কাপালি। টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়েন কাপালি। এরপর দশ বছর পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় বোলার টেস্টে হ্যাটট্রিক করেন সোহাগ। ২০১৩ সালে চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হ্যাটট্রিকের নজির গড়েন তিনি। ১৩ বছর পর বাংলাদেশের তৃতীয় বোলার ও প্রথম পেসার হিসেবে হ্যাটট্রিকের স্বাদ নিলেন হাসান। হ্যাটট্রিক করা ইনিংসে ২১ ওভারে ৫৫ রানে ৫ উইকেট নেন হাসান। ১৭ ম্যাচ ২৯ ইনিংসের টেস্ট ক্যারিয়ারে এই নিয়ে চতুর্থবার ইনিংসে পাঁচ বা ততোধিক উইকেট নিলেন তিনি। এর আগে পাকিস্তান–ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন হাসান। ২০২৪ সালের মার্চে চট্টগ্রামে শ্রীলংকার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে টেস্ট অভিষেক হয় ২৬ বছর বয়সী হাসানের। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের হয়ে ১৭ টেস্টের ২৯ ইনিংসে ৫০ উইকেট নিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশের অষ্টম বোলার হিসেবে টেস্টে ৫০ উইকেট পূর্ণ করেছেন হাসান। এদিকে নিজের হ্যাটট্রিকের কৃতিত্ব অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও উইকেটরক্ষক লিটন দাসকে দিয়েছেন হাসান মাহমুদ। মূলত তৃতীয় উইকেটের সময় রিভিউ নিতে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছিলেন হাসান। তখন তাকে অভয় দিয়ে রিভিউ নেন শান্ত ও লিটন। তাতেই হ্যাটট্রিকের স্বাদ পান হাসান। দিন শেষে সাংবাদিকদের হাসান বলেন, ‘বল সরাসরি প্যাডে লেগেছিল এবং একদম সোজা ছিল। তারপর আমি লিটনের সাথে কথা বলি, ও বলল– ‘হ্যাঁ, এটা হয়তো উইকেটে হিট করবে, বলটা ব্যাকফুটে ছিল।’ এরপর আমরা রিভিউ নিলাম।’ ‘আপনারা দেখেছেন প্রথম ইনিংসে আমরা দু–একটা রিভিউ হারিয়েছিলাম, তাই সবাই ডিআরএস নিয়ে ভাবছিল যে কী হতে যাচ্ছে– উইকেটে হিট করবে কি করবে না! তো হ্যাঁ, এটার কৃতিত্ব অধিনায়ক (নাজমুল হোসেন শান্ত) ও লিটন দাসকে দিতে হবে।’ নিজের বোলিং নিয়ে হাসান বলেন, ‘আমি শুধু অনুভব করছিলাম যে আমার সোজা বল করা উচিত, ব্যস এটাই।
বাকি কাজ নিজে থেকেই হয়ে গেছে, তাই আমি কেবল অফ স্টাম্পের লাইন ধরে বল করে গেছি এবং এটা নিজের মতো কাজ করেছে। সবসময় এভাবেই খেলে যেতে চাই। সামনে ঘরের মাঠে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচ আছে, আবার সাউথ আফ্রিকায় টেস্ট ম্যাচ খেলতে যাব, তাই সেগুলোর দিকে তাকিয়ে আছি।’











