উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব প্রত্যাখ্যান শিক্ষকদের সংবাদ সম্মেলন ও মৌন মিছিল

চুয়েটে আন্দোলনের ২০তম দিন

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি | সোমবার , ১২ অক্টোবর, ২০২৬ at ৮:০৭ পূর্বাহ্ণ

সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে টানা ২০তম দিনেও উত্তপ্ত ছিলো চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)। শিক্ষক সমিতির আন্দোলন জোরদারের ঘোষণার পাশাপাশি যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আরাফাত রহমানকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তকে সরাসরি ‘প্রহসনমূলক’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এর ফলে স্থবির হয়ে পড়া বিশ্ববিদ্যালয়টিতে শিক্ষা ও প্রশাসনিক সংকট আরও ঘনীভূত হলো। গতকাল রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভবনের সামনে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে টানা আন্দোলন আরও বেগবান হয়। বেলা ১১টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচির পর দুপুর ১টায় চুয়েট শিক্ষক সমিতি এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলন শেষে দুপুর দেড়টায় শিক্ষক–কর্মকর্তারা উপাচার্য ভবন থেকে একটি মৌন মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহীদ মিনার প্রদক্ষিণ করে পুনর্নির্ধারিত স্থানে এসে শেষ হয়। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক ও পানি সম্পদ কৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. সামিউন বাসির চলমান শিক্ষা সংকটের চিত্র তুলে ধরে বলেন, ‘আন্দোলনের কারণে ইতোমধ্যে বিভিন্ন বর্ষের ১৫টি চূড়ান্ত পরীক্ষা স্থগিত হয়ে গেছে এবং ১২ কার্যদিবসের ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয়নি। এটি দীর্ঘায়িত হলে শিক্ষার্থীরা মারাত্মক সেশনজটের মুখে পড়বে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সায়েম স্যারের পুনর্বহালের কোনো বিকল্প নেই। সরকারের কাছে আমাদের আকুল আবেদন, আর কালক্ষেপণ না করে বিষয়টি যৌক্তিকভাবে দ্রুত সমাধান করা হোক।’

এরআগে, শনিবার শিক্ষক সমিতির কার্যকরী পরিষদের জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে দাবিসমূহ বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত পূর্বঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতি (অতিরিক্ত দায়িত্বসহ) ও অবস্থান ধর্মঘট আরও কঠোরভাবে চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। অন্যদিকে, ক্যাম্পাস থেকে দূরে থাকা অবস্থায় ভিসি কর্তৃক অধ্যাপক আরাফাত রহমানকে দুই দিনের জন্য উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব হস্তান্তরের খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এক বিবৃতিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান, যাকে শিক্ষার্থীরা উপাচার্য হিসেবে মানেন না, তার প্রদত্ত কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বা রুটিন দায়িত্ব চুয়েট ক্যাম্পাসে কার্যকর হতে দেওয়া হবে না।

দায়িত্ব হস্তান্তরের এই প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়েও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। কোনো দাপ্তরিক আদেশ পাননি জানিয়ে চুয়েটের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. মঈনুল ইসলাম বলেন, ‘পূর্বে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব হস্তান্তরের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অফিস আদেশ বা নোটিশ জারি হতো। তবে এবার কে কতদিনের জন্য দায়িত্ব পেয়েছেন, সে সংক্রান্ত কোনো প্রশাসনিক চিঠি আমরা পাইনি।’ অনুরূপ সুর মিলিয়ে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ জানান, বিষয়টি তিনি কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মারফত জানতে পেরেছেন, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য তাদের জানা নেই।

উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে কুয়েটের অধ্যাপক শরিফুল ইসলামকে চুয়েটের নতুন ভিসি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ এবং পরবর্তীতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমিতি একযোগে পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে। ফলে চুয়েটের স্বাভাবিক অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড বিগত তিন সপ্তাহ ধরে পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপটিয়ায় টেক্সিতে তুলে গরু চুরির চেষ্টা
পরবর্তী নিবন্ধলালখান বাজার-দামপাড়া থেকে পোস্টার ব্যানার অপসারণ