রিভিউ বোর্ডের চেয়ারম্যানের অনুমোদন ছাড়াই কমানো হলো পৌরকর

চসিকের মূল নথির সাথে না মেলায় ধরা উপ-কর কর্মকর্তা মেসকাতকে শোকজ

আজাদী প্রতিবেদন | বুধবার , ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৫:৪৬ পূর্বাহ্ণ

রিভিউ বোর্ডের চেয়ারম্যানের অনুমোদন ছাড়া একই হোল্ডিংয়ের পুনর্মূল্যায়ন দুইবার করিয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) পৌরকর কমানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংস্থাটির রাজস্ব বিভাগের উপ–কর কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আবু মুহাম্মদ মেসকাতুল ইসলামকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে চসিকের সচিব মো. আশরাফুল আমিন আজাদীকে বলেন, জবাব পাওয়ার পর ঘটনার তদন্তে কমিটি করা হবে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

চসিক সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ আগ্রাবাদ ওয়ার্ডের ৫২১৫/৬৬৮৬ নম্বর হোল্ডিংয়ের করদাতা ফাতেমা বেগম ২০২৫–২৬ অর্থবছরের পৌরকর পরিশোধের জন্য আসেন। এসময় তিনি পূর্ববর্তী বছরের পরিশোধিত রসিদ উপস্থাপন করেন। কিন্তু তার উপস্থাপিত রসিদটি অফিসের নথির সাথে মিল পাওয়া যায়নি। ফলে রসিদটি অফিসের মূল নথির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় তা যাচাই–বাছাই করা হয়। এতে দেখা যায় হোল্ডিং’টির ভ্যালু রিভিউ বোর্ডে দুইবার নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

যাচাই–বাছাই করে দেখা গেছে, রাজস্ব সার্কেল–০৭–এর অধীনে থাকা উক্ত হোল্ডিংটির ভ্যালু প্রথমবার ২০২২ সালের ২৩ অক্টোবর সাবেক ৭২ হাজার টাকা ভ্যালু সংশোধন করে ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা করা হয় এবং পরবর্তীতে চূড়ান্ত ভ্যালু ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করে একই ২০২৩ সালের ৪ জানুয়ারি পৌরকর আদায় করা হয়। যার রসিদ নং হচ্ছে ১৪৬৪৬১। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর একই ভ্যালু অর্থাৎ ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকার ভ্যালুকে ১ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এই ১ লাখ টাকার উপর ২০২৩ সালে ২৩ সেপ্টেম্বর পৌরকর আদায় করা হয়। যা রসিদ নং: ২০৮৯৮০। চসিকের এক কর্মকর্তা আজাদীকে জানান, ২য় বার আপিল নিষ্পত্তিকৃত আপীল প্রসেডিংয়ে রিভিউ বোর্ডের চেয়ারম্যান–এর স্বাক্ষর নেই।

চসিকের রাজস্ব শাখা সূত্রে জানা গেছে, কর কমানোর এ ‘অনিয়ম’ যখন হয় তখন আবু মুহাম্মদ মেসকাতুল ইসলাম দক্ষিণ আগ্রাবাদ ওয়ার্ডের কর আদায়কারী হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। এ দিকে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর গত সপ্তাহে মেসকাতুল ইসলামকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেয়া হয়। এতে স্বাক্ষর করেন চসিকের উপ–সচিব ও এঙিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মঈনুল হোসেন চৌধুরী।

কারণ দর্শানো নোটিশে বলা হয়, রিভিউড বোর্ডের চেয়ারম্যান অনুমোদন ব্যতিরেকে একই হোল্ডিংকে দুইবার চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করায় আইন ও বিধির চরম ব্যত্যয় ঘটেছে যা ‘চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কর্মচারী চাকরি বিধিমালা, ২০১৯’–এর বিধি ৪৯–এর উপ–বিধি (ক), (খ) ও (চ) অনুযায়ী অসদাচরণ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

‘চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কর্মচারী চাকরি বিধিমালা, ২০১৯’–এর বিধি ৫০ মোতাবেক কেন বিভাগীয় ডিসিপ্লিনারি (আইনানুগ) ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তা ৭ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে দাখিল করার জন্য মেসকাতুল ইসলামকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে নোটিশে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো এক শিশুর মৃত্যু
পরবর্তী নিবন্ধসারা দেশে হাম ও উপসর্গে মৃত্যু ছাড়াল ১১০০