শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়া স্মৃতি আন্তঃস্কুল ফুটবলের প্রথম আসরের শিরোপা জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে স্টেশন কলোনী উচ্চ বিদ্যালয়। গতকাল শনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত তুমুল উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনালে তারা ১–০ গোলে মাইজপাড়া মাহমুদুন্নবী চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়কে পরাজিত করে।
খেলার প্রথমার্ধ ছিল গোলশূন্য। তবে বৃষ্টিসিক্ত মাঠে খেলার দুই মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত মাইজপাড়া। তাদের একটি শট ক্রসবারের নিচের দিকে লেগে ফিরে এলে নিশ্চিত গোল থেকে বঞ্চিত হয় তারা। এরপর আক্রমণ–পাল্টা আক্রমণে কেউই গোলের দেখা পায়নি।
দ্বিতীয়ার্ধেও দুই দল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল খেলে। খেলা শেষ হওয়ার সাত মিনিট আগে গোল পায় রেলওয়ে স্টেশন কলোনী স্কুল। এ সময় ইয়াসিনের ক্রস থেকে মো. মহরম আলী হেড করে বল জালে পাঠান (১–০)। খেলার বাকি সময়ে মাইজপাড়া চেষ্টা করেও আর খেলায় ফিরতে পারেনি। ফলে স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও দর্শকের সামনে শিরোপার হাসি হাসে রেলওয়ে স্টেশন কলোনী উচ্চ বিদ্যালয়।
ফাইনালের ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন রেলওয়ে স্টেশন কলোনী স্কুলের মো. ইয়াছিন। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন মাইজপাড়া মাহমুদুন্নবী চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের মো. সাকিব। সেরা গোলকিপার হয়েছেন বেপজা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের মো. রাকিবুল হাসান রোহান। টুর্নামেন্টের সেরা গোলদাতা হয়েছেন তিনজন–মো. সাকিব (মাহমুদুন্নবী স্কুল), শাহরিয়ার আলী (পাঠানটুলী স্কুল) ও সামিউল (ছালে জহুর স্কুল)। তারা প্রত্যেকে সাতটি করে গোল করেছেন। এছাড়া সুশৃঙ্খল দল হিসেবে কুলগাঁও সিটি করপোরেশন উচ্চ বিদ্যালয়কে পুরস্কৃত করা হয়।
টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন দল ট্রফিসহ নগদ দুই লাখ টাকা পুরস্কার লাভ করে। রানারআপ দল ট্রফিসহ নগদ এক লাখ টাকা পুরস্কার পায়। তৃতীয় স্থান অর্জনকারী বেপজা স্কুল অ্যান্ড কলেজ নগদ ৫০ হাজার টাকা এবং চতুর্থ স্থান অর্জনকারী কদম মোবারক স্কুল নগদ ২৫ হাজার টাকা অর্থ পুরস্কার লাভ করে।
ফাইনাল খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। টুর্নামেন্ট কমিটির প্রধান সমন্বয়ক নাজিমুর রহমানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন টুর্নামেন্টের চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ এমপি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সাংসদ আবু সুফিয়ান ও বিসিবি পরিচালক ইসরাফিল খসরু। টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক নিয়াজ মোহাম্মদ খান, নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও টুর্নামেন্ট মিডিয়া কমিটির আহ্বায়ক শওকত আজম খাজা, যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবদুর সাত্তার, এস এম সাইফুল আলম, হারুন জামান, শাহ আলম, আর ইউ চৌধুরী শাহীন, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আহমদুল আলম চৌধুরী রাসেল, শিহাব উদ্দিন মোবিন, মন্জুরুল আলম, সদস্য মুজিবুল হক, ইসমাইল বালি, যুবদল সভাপতি মোশাররফ হোসেন দিপ্তী, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সাহেদ, ছাত্রদল আহ্বায়ক সাইফুল আলম, সদস্যসচিব শরিফুল ইসলাম তুহিন, স্বেচ্ছাসেবক দল সদস্যসচিব ইঞ্জিনিয়ার জমির উদ্দিন নাহিদ, তাঁতি দলের আহ্বায়ক সেলিম হাফিজ, সদস্যসচিব মনিরুজ্জামান মুরাদ, জাসাস মহানগর আহ্বায়ক এম এ মুসা বাবলু ও সদস্যসচিব মামুনুর রশীদ শিপন উপস্থিত ছিলেন।
মিডিয়া কমিটির সদস্যসচিব মোহাম্মদ ফারুক, ক্রীড়া দলের মো. মামুন উদ্দিন, নজরুল বাবু, এম এইচ হাসান, হায়দার হোসেন প্রিন্স, মোহাং মুজিব, আনোয়ার হোসেন, মিজানুর রহমান, মোজাম্মেল মানিক, আউয়াল শাহীন, জসিম উদ্দিন খান প্রমুখও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
খেলা শেষে অতিথিরা বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। পরে অনুষ্ঠিত হয় আতশবাজি উৎসব। খেলার আগে ও পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে জাসাস।













