সারাদেশের মতো চট্টগ্রামেও একীভূত পাঁচ ব্যাংকের সমন্বয়ে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর আগে গত ২৫ আগস্ট সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের আমানতের ওপর কোনো ধরনের ‘হেয়ারকাট’ থাকছে না এমন ঘোষণা দেন গভর্নর। একই সঙ্গে ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তি আমানতকারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী আমানতের মূল অর্থ তুলতে পারবেন বলেও জানানো হয়। এরপর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক ১ সেপ্টেম্বর থেকে রোববার পর্যন্ত গ্রাহকদের আবেদন নেন। ১ সেপ্টেম্বর আবেদন করা গ্রাহকদের গতকাল থেকে টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। তবে এর পরের দিনগুলোতে আবেদন করা গ্রাহকদের নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
জে আর টি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ও ইউনিয়ন ব্যাংকের খাতুনগঞ্জের শাখার গ্রাহক আবু বক্কর রনি বলেন, আমি গত ১৬ মাস থেকে আন্দোলন করছি। অবশেষে আমি প্রয়োজনীয় টাকা তুলতে পেরে খুবই খুশি। গত দু্ই বছর ধরে ব্যাংকে আমার টাকা আটকে ছিল। আমাদের সকলের সমন্বিত আন্দোলনের ফলে এটি সফল হয়েছে। তবে গত দুই বছর ধরে টাকা তুলতে না পেরে আমার ব্যবসায় অনেক ক্ষতি হয়েছে। এখন টাকা পেয়ে পাওনাদারদের টাকা পরিশোধ করতে পেরেছি। আজকে (গতকাল) আমরা পেয়েছি যারা গত ১ সেপ্টেম্বর আবেদন করেছে, আগামীকাল (আজ) পাবে যারা ২ সেপ্টেম্বর আবেদন করেছে, এভাবে পর্যায়ক্রমে এক সপ্তাহের আবেদনের টাকা পাবেন গ্রাহকেরা। তবে ডিপিএস এবং এফডিআরের ক্ষেত্রে কেউ যদি সম্পূর্ণ টাকা তুলে ফেলতে চান, তবে তাকে মুনাফা ছাড় দিতে হবে। যেহেতু ব্যাংকের অবস্থা খারাপ। তবে এরমধ্যে ব্যাংক একটি অপশন রেখেছে, যাদের ইমারজেন্সি টাকা দরকার, তবে ব্যাংকের অনুমতিক্রমে মুনাফা পাবেন, এটাকে বলছে ইমারজেন্সি এঙিট।
এদিকে অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার ব্যয়ের টাকা ব্যাংক থেকে তুলতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়া গ্রাহক মো. আলাউদ্দিন ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের (এফএসআইবি) হালিশহর জোনাল অফিস থেকে টাকা উত্তোলন করেছেন। তিনি বলেন, আমার মা এখন অনেকটাই সুস্থ। সরকারকে ধন্যবাদ আমাদের মতো গ্রাহকদের কথা বিবেচনা করে টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করে দেয়ার জন্য।
বাংলাদেশ ভুক্তভোগী ব্যাংক আমানতকারী এসোসিয়েশনের সদস্য সচিব আজম উদ্দিন দৈনিক আজাদীকে বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে গ্রাহকদের মুখে হাসি ফুটেছে। এটি আমাদের জন্যও স্বস্তিদায়ক। এই টাকার জন্য আমরা দীর্ঘ সময় মাঠে ময়দানে আন্দোলন করেছিলাম। অবশেষে এর একটি সঠিক সমাধানের পথ খুঁজে নেয়ায় সরকারকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। এই টাকার জন্য অনেকের চিকিৎসা বন্ধ ছিল, অনেকে মেয়ের বিয়ে দিতে পারেনি।
উল্লেখ্য, বিশেষ ব্যবস্থায় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে গত ১ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রাহকদের কাছ থেকে আবেদন জমা নেওয়া হয়। গতকাল থেকে এসব গ্রাহকদের নির্দিষ্ট শাখা থেকে টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে।











