পরিবেশ সুরক্ষা ও মানুষের বসবাসের উপযোগী বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রশ্নে বিএনপির রাজনৈতিক দর্শনে সবসময়ই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খালকাটা কর্মসূচি ছিল পরিবেশ, কৃষি ও জনজীবনের সঙ্গে প্রকৃতির সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়ার একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ। পরবর্তী সময়ে বিএনপি সরকারের সময় বনাঞ্চল, নদী–নালা, খাল–বিল, পুকুর ও জলাশয় সংরক্ষণেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে এসব কথা বলেন বক্তারা। গত মঙ্গলবার বিকেলে কণফুলী উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ ইদ্রিস মিয়া ও সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দীন। মোহাম্মদ ইদ্রিস মিয়া বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, পাহাড় কাটা, বন উজাড়, জলাশয় ভরাট এবং নদী দখল–দূষণের কারণে দেশের পরিবেশ আজ বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে। উন্নয়নের নামে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করা হলে সেই উন্নয়ন দীর্ঘমেয়াদে মানুষের জন্য কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। উন্নয়ন ও পরিবেশ–দুটির মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করেই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে। বিগত সময়ে অপরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবেশের ওপর যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব লায়ন হেলাল উদ্দীন বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণ, বন সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর কর্মপরিকল্পনা প্রয়োজন। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের যে কর্মসূচির কথা বিএনপি ঘোষণা করেছে, তা বাস্তবায়নে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করা হবে।
তিনি বলেন, বৃক্ষরোপণকে কেবল আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। প্রতিটি রোপিত গাছের পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার প্রতিটি উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে পর্যায়ক্রমে গাছের চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নেওয়া হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন– জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক রেজাউল করিম নেচার, সাইফুদ্দীন সালাম মিঠু, সদস্য ফৌজুল কবির ফজলু, ইখতিয়ার হোসেন ইফতু, দিল মোহাম্মদ মনজু, শাহাদাত হোসেন সুমন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মনজুর আলম তালুকদার, মৎস্যজীবী দলের আহবায়ক জসিম উদ্দিন, সদস্য সচিব এস এম জাহেদ, আবু জাফর চৌধুরী, অ্যাডভোকেট নুরুল কবির রানা, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইসমাইল বিন মনির, শাখাওয়াত হোসেন মিশু, সদস্য মোফাচ্ছল হোসেন জুয়েল, শফিউল আলম চৌধুরী, আশরাফ উদ্দিন নয়ন ও ইব্রাহীম মির্জা।












