এখন থেকে ১০০ গ্রাম প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিলে শিক্ষার্থীরা বিনা মূল্যে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় প্রবেশের সুযোগ পাবে। গতকাল সোমবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা পরিবেশ ও বন উন্নয়ন কমিটির মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে এ ঘোষণা দেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা পরিচালনা কমিটির সভাপতি।
জেলা প্রশাসক বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য পরিবেশের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। যত্রতত্র ফেলে রাখা প্লাস্টিক মাটির সঙ্গে সহজে মেশে না। এতে পানি জমে মশার প্রজননস্থল তৈরি হয় এবং দুর্গন্ধসহ নানা ধরনের পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের পরিবেশ সংরক্ষণে সম্পৃক্ত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার সামনে প্লাস্টিক জমা দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট স্থান রাখা হবে। সেখানে ১০০ গ্রাম প্লাস্টিক জমা দিলেই শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে।
পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, এই পরিবেশটা সবার এবং এই পরিবেশে আমরা বসবাস করি। বসবাসের জন্য এই পৃথিবী ছাড়া আমাদের আর কোনো জায়গা নেই।
সভায় কৃষিজমির টপসয়েল কেটে ইট তৈরির বিষয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানান জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী কৃষিজমির ওপরের উর্বর মাটি কেটে কোনোভাবেই ইট তৈরি করা যাবে না। এ বিষয়ে আইন ও বিধিবিধান কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে বলেও জানান তিনি।
ইট তৈরিতে বিকল্প উৎস থেকে মাটি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, খাল খনন বা উন্নয়নকাজের মাধ্যমে বৈধভাবে পাওয়া মাটি ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে অবৈধভাবে কৃষিজমি বা অন্য কোনো জমির মাটি কাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক বলেন, পরিবেশ রক্ষায় সময়ের সঙ্গে মানুষের আচরণ ও পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনতে হবে। এ প্রসঙ্গে কোডাকের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে সময়মতো নিজেদের পরিবর্তন করতে না পারায় একসময় বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান বদলে গেছে। তিনি আরও বলেন, নিরাপদ রাষ্ট্র, নিরাপদ সমাজ ও নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের চট্টগ্রামের উপপরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামান, পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক জমির উদ্দিন ও চট্টগ্রাম জেলার উপপরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমানসহ বন বিভাগ ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।
আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তারা সভায় ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত ছিলেন।







