কৃষিজমি নির্বিচারে গ্রাস করে নয়, উৎপাদনশীল জমির বড় অংশ সুরক্ষিত রেখেই কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ তীরে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে নতুন শহর। কর্ণফুলী টানেল, ৬ লেনের নতুন সড়ক হয়ে কক্সবাজার মাতারবাড়ি পর্যন্ত বৃহৎ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার চিন্তা থেকে আধুনিক নতুন শহরের মডেল নিয়ে এগুচ্ছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)।
আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলার প্রায় ৭ হাজার ৩১৫ একর এলাকা ঘিরে এই পরিকল্পনায় একদিকে যেমন আবাসন, শিল্প ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের জন্য জায়গা রাখা হচ্ছে। অন্যদিকে সংরক্ষণ করা হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৩৮৮ একর কৃষিজমি। শিল্পায়ন ও নগরায়নের চাপে কৃষিকে পুরোপুরি হারিয়ে না ফেলে একটি পরিকল্পিত, স্বয়ংসম্পূর্ণ ও টেকসই শহর গড়ে তোলা এই পরিকল্পনায় প্রাধান্য পাচ্ছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মাস্টারপ্ল্যান ২০২৫–২০৫০–এর আওতায় প্রণীত ‘আনোয়ারা অ্যাকশন এরিয়া প্ল্যানে’ এই প্রস্তাব করা হয়েছে। পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য ওয়ান সিটি টু টাউন ধারণার বাস্তবায়ন। অর্থাৎ কর্ণফুলীর উত্তর তীরে বর্তমান চট্টগ্রাম নগরের পাশাপাশি দক্ষিণ তীরে আনোয়ারা–কর্ণফুলী এলাকায় আরেকটি পরিকল্পিত নগরকেন্দ্র গড়ে তোলা। এর মাধ্যমে মূল চট্টগ্রাম শহরের জনসংখ্যা, আবাসন, যানবাহন ও অবকাঠামোর ওপর চাপ কমানোর লক্ষ্য রয়েছে। ৩ ধাপে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, পেশাজীবী, শিল্পোদ্যেক্তা, কেইপিজেড, চায়না ইকোনমিক জোন কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মতামত সংগ্রহ করে ডিটেইল প্ল্যানিং করা হবে বলে জানিয়েছেন সিডিএ সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে এই অ্যাকশন এরিয়ার মোট আয়তন প্রায় ৭ হাজার ৩১৫ দশমিক ৫ একর। এলাকাটিতে প্রায় ৬০ হাজার ৪৩৪ মানুষের বসবাস। তবে ২০৫০ সাল নাগাদ এই সংখ্যা ৭ লাখ ২৪ হাজার ২২৩ জনে পৌঁছাতে পারে বলে পরিকল্পনায় প্রক্ষেপণ করা হয়েছে। একই সময়ে কর্মসংস্থান বর্তমান প্রায় ১৯ হাজার ৬২০ থেকে বেড়ে ১ লাখ ৯০ হাজার ৮৩৩–এ পৌঁছানোর হিসাব করা হয়েছে।
নগরায়ন হবে, কৃষিও থাকবে : পরিকল্পনাটির গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, দ্রুত নগরায়ন ও শিল্পায়নের মধ্যেও কৃষিজমির একটি বড় অংশ সংরক্ষণ। বর্তমানে অ্যাকশন এরিয়ার প্রায় ৫৭ শতাংশ জমিই কৃষিকাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। আবাসিক ব্যবহার প্রায় ২৭ শতাংশ, জলাশয় ৯ শতাংশ, শিল্প ও স্টোরেজ প্রায় ২ শতাংশ এবং সড়ক প্রায় ২ শতাংশ। বর্তমানে প্রায় ৪ হাজার ১৪৭ একর কৃষি জমি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৩৮৮ একর ভবিষ্যতেও কৃষি ব্যবহারের জন্য সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে। সিডিএ সূত্র জানায়, ৩ ফসলী ও দো’ফসলী কোন জমির উপর কোপ পড়বে না। এর বাইরে আবাসিক ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের উপযোগী জমির উপরই পরিকল্পিত শহর হবে।
অন্যদিকে আবাসিক, বাণিজ্যিক, প্রাতিষ্ঠানিক, মিশ্র ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় উন্মুক্ত ও সবুজ এলাকার সমন্বয়ে প্রায় ২ হাজার ৮৮২ একর জমি প্রকল্পে ব্যবহারের জন্য নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। এটি মোট পরিকল্পনা এলাকার প্রায় ৩৯ শতাংশ। শিল্পের জন্য সরাসরি প্রায় ৫৫০ দশমিক ১ একর বা সাড়ে ৭ শতাংশ জমি নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি শহরের জন্য নির্ধারিত এলাকার মধ্যেও কুটির ও সহায়ক শিল্পের সুযোগ থাকবে।
শিল্পাঞ্চল ঘিরেই বাড়ছে নগরের প্রয়োজন : কর্ণফুলী টানেল চালুর পর কর্ণফুলীর দক্ষিণ তীরের সঙ্গে চট্টগ্রাম নগরের যোগাযোগে বড় পরিবর্তন এসেছে। একই এলাকায় কোরিয়ান ইপিজেড (কেইপিজেড), চায়নিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন, কাফকোসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অবস্থান আনোয়ারা–কর্ণফুলীকে ভবিষ্যৎ শিল্প ও কর্মসংস্থানের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করছে। এর সঙ্গে বাড়বে মানুষের বসতি। শিল্পশ্রমিকসহ নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন, সরকারি ‘সাইট অ্যান্ড সার্ভিস’ প্রকল্প এবং বেসরকারি পরিকল্পিত আবাসনের মাধ্যমে চাহিদা মেটানোর প্রস্তাব রয়েছে।
২০৫০ সালের সম্ভাব্য ৭ লাখের বেশি মানুষের বসবাসের বিষয়টি মাথায় রেখে নগরের ঘনত্বও নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবিত সামগ্রিক ঘনত্ব প্রতি একরে ৯৯ জন এবং নেট ঘনত্ব প্রতি একরে ২৫১ জন। ভবনের উচ্চতা নির্ধারণে সিভিল এভিয়েশনসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের নির্দেশনা গুরুত্ব পাবে। কিছু এলাকায় উচ্চ ভবন হবে না, তবে বেশিরভাগ এলাকা সুউচ্চ ভবনের জন্য উম্মুক্ত থাকবে।
বদলে যাবে সড়ক যোগাযোগ : নতুন নগর ও শিল্পাঞ্চল সচল রাখতে প্রায় ৪৭ দশমিক ৮ কিলোমিটার প্রধান সড়ক নেটওয়ার্কের প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে ১১ দশমিক ৪ কিলোমিটার প্রাইমারি ডিস্ট্রিবিউটর, ২১ দশমিক ২ কিলোমিটার সেকেন্ডারি ডিস্ট্রিবিউটর এবং ১৫ দশমিক ২ কিলোমিটার লোকাল ডিস্ট্রিবিউটর সড়ক থাকবে। প্রায় ১৯ দশমিক ৬৮ কিলোমিটার নতুন সড়ক নির্মাণ এবং ২৩ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার বিদ্যমান সড়ক প্রশস্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। সড়কের গুরুত্ব অনুযায়ী ৪০ থেকে ১২০ ফুট পর্যন্ত প্রশস্ত পথের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সংযুক্ত সড়কগুলোর ন্যূনতম প্রশস্ততা হবে ২০ ফুট।
আনোয়ারা–পটিয়া সড়ককে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক যাত্রী ও পণ্য পরিবহন করিডর হিসেবে ১৬০ ফুট পর্যন্ত প্রশস্ত করার প্রস্তাবও রয়েছে। টানেলের অ্যাপ্রোচ সড়কের সঙ্গে স্থানীয় সড়কগুলোর সমন্বয় এবং আর ১৭০–কে মাতারবাড়ী–আনোয়ারা–চট্টগ্রাম বন্দর সংযোগকারী সহায়ক পণ্য পরিবহন করিডর হিসেবে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
হাজার ট্রাকের টার্মিনাল : শিল্পায়নের সঙ্গে ভারী যানবাহনের চাপ সামাল দিতে ২৪ দশমিক ৫ একর জমিতে এক হাজার ট্রাক ধারণক্ষমতার একটি ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে। এতে মহাসড়ক ও প্রধান সড়কের পাশে অনিয়ন্ত্রিত ট্রাক পার্কিং কমবে এবং পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাপনা সহজ হবে বলে পরিকল্পনায় ধারণা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ৩ দশমিক ২ একর জমিতে নতুন বাস টার্মিনাল তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এটি স্থানীয় ও আঞ্চলিক বাস রুটের ইন্টারচেঞ্জ হিসেবে ব্যবহৃত হবে। ভবিষ্যতে দক্ষিণ কর্ণফুলী অঞ্চলে রেল বা কমিউটার ট্রানজিট সমপ্রসারণের সুযোগও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
স্কুল–কলেজ, হাসপাতাল, পার্ক : নতুন শহর মানে শুধু সড়ক, ভবন ও শিল্পকারখানা নয়। ২০৫০ সালের জনসংখ্যার চাহিদা বিবেচনায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক অবকাঠামোরও হিসাব করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন করে আটটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চারটি উচ্চবিদ্যালয় বা কলেজ, নয়টি ক্লিনিক, একটি হাসপাতাল এবং ১৮টি হাটবাজার বা কিচেন মার্কেট প্রয়োজন হবে। এসবের জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৮ একর, উচ্চবিদ্যালয়–কলেজে ১০ একর, ক্লিনিকে ১৩ দশমিক ৫ একর, হাসপাতালে ৬ একর এবং বাজারের জন্য ১৮ একর জমি রাখার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি খেলার মাঠের জন্য ২০ একর এবং পার্ক ও লেকের জন্য ৪০ একর জমির প্রস্তাব করা হয়েছে।
কালা বিবির দীঘি, মনু মিয়ার দীঘি ও মুরালী খালের আশপাশের এলাকাকে বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে উন্নয়নের সুযোগ চিহ্নিত করা হয়েছে। ছোট জলাশয়গুলোকেও স্থানীয় পর্যায়ের বিনোদন ও পরিবেশগত কেন্দ্র হিসেবে সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে।
খাল–জলাশয় বাঁচিয়েই নগর : নতুন শহরের বড় চ্যালেঞ্জ হিসাবে দেখা হচ্ছে জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশন। তাই নগরায়নের কারণে বিদ্যমান খাল ও জলাশয় যেন ভরাট বা বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টিও পরিকল্পনায় গুরুত্ব পেয়েছে। প্রাকৃতিক ড্রেনেজ করিডর সংরক্ষণকে নতুন নগরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি পানি, বিদ্যুৎ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা সেবার জন্যও পৃথক জমি রাখা হবে। এর মধ্যে ওয়াসার জন্য ১০ একর, বিদ্যুৎ সুবিধায় ৫ একর, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ৪ একর, ফায়ার সার্ভিসে আড়াই একর এবং থানার জন্য এক একর জমি সংরক্ষণের প্রস্তাব রয়েছে।
বাস্তবায়ন হবে তিন ধাপে : বিশাল এই নগর পরিকল্পনা একসঙ্গে বাস্তবায়নের পরিবর্তে তিন ধাপে এগোনোর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রথম ধাপ ২০২৫–২০৩৫, দ্বিতীয় ধাপ ২০৩৫–২০৪৫ এবং তৃতীয় ধাপ ২০৪৫–২০৫০ সাল। প্রথম পর্যায়ে কেইপিজেড ও আঞ্চলিক মহাসড়ক আর ১৭০–এর মধ্যবর্তী এলাকায় উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পরিকল্পনার প্রধান সমন্বয়কারী সংস্থা হিসেবে থাকবে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। আনোয়ারায় সিডিএর একটি জোনাল অফিস স্থাপনেরও প্রস্তাব রয়েছে। বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের জন্য জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে আরবান ডেভেলপমেন্ট সমন্বয় কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে।
অর্থ আসবে সরকারি–বেসরকারি দুই খাত থেকে : নতুন শহর নির্মাণে শুধু সরকারি অর্থায়নের ওপর নির্ভর না করে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি), সরকারি–বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) এবং ভূমিভিত্তিক অর্থায়নের বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি পাঁচ বছর অন্তর পর্যালোচনারও প্রস্তাব রয়েছে। কৃষিজমি সংরক্ষণ, ভূমি ব্যবহারের নিয়ম মানা, জলাবদ্ধতা হ্রাস, পরিবেশগত মান, আবাসন, নাগরিক সুবিধা ও অর্থায়নের অগ্রগতি হবে এই পর্যালোচনার অন্যতম সূচক।
এলাকাবাসী যা ভাবছে : নতুন শহর প্রস্তাবনার পর স্থানীয়দের মধ্যে এক ধরনের অতংক দেখা দিয়েছে। কেইপিজেড, টানেল, ইকোনমিক জোনসহ প্রায় সব উন্নয়ন প্রকল্পে বড় ধরনের অধিগ্রহণ হয়েছে। ভিটে ভূমি জমি হারিয়েছে সাধারণ মানুষ। এবারের প্রস্তাবনায় বড় ধাক্কা লাগতে পারে কৃষি জমিতে। তাই এলাকাবাসীর দাবি কোন তিন ফসলী ও দুই ফসলী কৃষি জমি যেন অধিগ্রহণের আওতায় না থাকে। আনোয়ারা পেশাজীবী পরিষদ সদস্য এস এম মঈন উদ্দীন আজাদ বলেন, পরিকল্পিত নগরায়ন, সমন্বিত আবাসিক–বাণিজ্যিক এলাকা সময়ের দাবি। তাতে কৃষি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হলে খাদ্য নিরাপত্তায় প্রভাব পড়বে। বিষয়টি মাথায় রেখে বিস্তারিত পরিকল্পনা করতে হবে।
সিডিএ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য : আনোয়ারা–কর্ণফুলীর নতুন শহর নিয়ে বড় আশার কথা জানিয়েছে সিডিএ। মহাপরিকল্পনার প্রকল্প পরিচালক এবং সিডিএর উপ–প্রধান নগর পরিকল্পাবিদ মো. আবু ঈসা আনছারী বলেন, কর্ণফুলীর দক্ষিণ তীরে নগরায়নের চাপ বাড়ছে। সম্পূর্ণ নতুন একটি শহর গড়তে মহাপরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। কৃষি জমি অক্ষত রেখে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা থাকবে। আনোয়ারার চাতরী, বৈরাগ ও বারখাইন ইউনিয়নের কিছু এলাকা ও কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়ন এই প্রকল্পের আওতায় থাকবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে স্টেকহোল্ডারদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। টানেল হয়ে এই প্রকল্পের সাথে চট্টগ্রাম শহরের মাত্র ১০ মিনিটের দূরত্ব, আবার কঙবাজার মাতারবাড়ি পর্যন্ত যাতায়াতের সহজ সুযোগ রয়েছে। তাই প্রকল্পটি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। আবার স্থানীয়দের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি প্রাধান্য দেওয়া হবে।
সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন আজাদীকে বলেন, দক্ষিণ চট্টগ্রামের আনোয়ারা–কর্ণফুলী– পটিয়া উপজেলায় সিডিএ স্যাটেলাইট টাউন করার পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে। আনোয়ারা–কর্ণফুলী প্রকল্পের গণশুনানি ও মতামত সংগ্রহের কাজ চলমান। ডিসেম্বরে এ প্রকল্পের গ্যাজেট প্রকাশের পর রূপরেখা বাস্তবায়ন ও অবকাঠামো পরিকল্পনা তৈরির কাজ শুরু করা হবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আনোয়ারায় ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাব তৈরি হয়েছে। চায়না ইকোনোমিক জোনের কাজ শুরুর পর এখানে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বসবাস শুরু হবে। সব মিলিয়ে দেশি বিদেশি, উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষের বসবাস উপযোগী আবাসন, স্কুল, কলেজ, সড়ক যোগাযোগ থেকে শুরু করে সব ধরনের সুযোগ সুবিধা রেখে একটি মডেল টাউন গড়ে তোলা হবে। ইনশাল্লাহ এই নতুন শহর বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম নগরে মানুষের চাপ অনেকাংশে কমে আসবে।










