কর্ণফুলীতে তীব্র স্রোত, চন্দ্রঘোনায় পন্টুন ডুবে বন্ধ হল ফেরি

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি | সোমবার , ৩১ আগস্ট, ২০২৬ at ৭:৫২ পূর্বাহ্ণ

কর্ণফুলী নদীতে অতিরিক্ত স্রোত ও পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় লিচুবাগানচন্দ্রঘোনা ফেরি চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। গতকাল রোববার দুপুর ১টা ২০ মিনিট থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাঙামাটি জেলার সাথে বান্দরবান, রাজস্থলী ও খাগড়াছড়ি জেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াত করতে না পেরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ ও গাড়ির চালকরা। তবে স্রোত কমে এলে পুনরায় ফেরি চলাচল শুরু হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কাপ্তাই হ্রদের পানি দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় বাঁধের ১৬টি জলকপাট তিন ফুট করে খুলে দেওয়া হয়। এর ফলে হ্রদের অতিরিক্ত পানি সরাসরি কর্ণফুলী নদীতে পড়ায় নদীতে তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হয়েছে এবং পানির উচ্চতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে চন্দ্রঘোনা ফেরির পল্টুন ডুবে গেছে। জনস্বার্থে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতেই ফেরি চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ফেরিঘাটের দুই পাশে তৈরি হয়েছে দীর্ঘ গাড়ির সারি। নদীর পাড়ে অপেক্ষা করছেন যাত্রীরা। দুপুরে ফেরি চলাচল বন্ধ হওয়ায় কয়েকটি সিএনজিচালিত টেক্সি ফেরির ওপর আটকা পড়ে। পন্টুন ডুবে যাওয়ায় গাড়িগুলোও নামানো সম্ভব হয়নি। রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লিচুবাগান এবং কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনার সংযোগকারী এই ফেরিঘাটটি দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাথে তিন পার্বত্য জেলার যোগাযোগের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট। এই ফেরি পার হয়ে রাঙামাটি জেলা সদর ছাড়াও বান্দরবান, রাজস্থলী এবং খাগড়াছড়ি জেলায় নিয়মিত যাতায়াত করেন হাজার হাজার মানুষ। এছাড়া পার্বত্য অঞ্চলের উৎপাদিত কৃষিপণ্য ও পাহাড়ি মালামাল সমতলে নিয়ে আসার ক্ষেত্রেও এটি অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক পথ। ফেরি বন্ধ থাকায় চরম বিপাকে পড়া সাধারণ মানুষ জরুরি প্রয়োজনে বাড়তি টাকা খরচ করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছোট নৌকায় নদী পার হতে বাধ্য হচ্ছেন।

ঘাটে আটকে থাকা যাত্রী মো. লোকমান হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জরুরি কাজে বান্দরবান যেতে হবে, কিন্তু এসে দেখি ফেরি বন্ধ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। টেক্সিচালক মো. ইউসুফ জানান, ফেরি বন্ধ থাকায় আমাদের গাড়ি ঘাটে আটকা পড়েছে। যাত্রী পারাপারের কোনো উপায় না থাকায় চরম লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে। এই রুট দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করতে গিয়ে আমাদের প্রতিনিয়ত এমন হয়রানির শিকার হতে হয়।

রাঙ্গুনিয়াকাপ্তাইয়ের কর্ণফুলী নদী তীরের দুপাড়ের লোকজনের দীর্ঘ সময়ের দাবি একটি সেতুর। ১৯৮৯ সালে কর্ণফুলী নদী পারাপারের জন্য ফেরি সার্ভিস চালু করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালে তৎকালীন যোগাযোগ মন্ত্রী অলি আহমদ লিচুবাগান ফেরীঘাটে সেতু নির্মাণ করার জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনসহ ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু সে সময় লিচুবাগান ফেরীঘাটে সেতু নির্মিত না হয়ে গোডাউন দিয়ে কর্ণফুলী নদীর উপর সেতু নির্মাণ করা হয়। এরপর থেকে লিচুবাগান ফেরীঘাটে সেতু নির্মাণ করার জন্য আর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে কাপ্তাই বাঁধের পানি ছাড়লে বা নদীতে স্রোড়লেই যুগের পর যুগ ধরে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

তবে চন্দ্রঘোনা ফেরিঘাট সেতু নির্মাণের কাজ অনেকটাই এগিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সেতুটির সম্ভাব্যতা যাচাই ও নকশা প্রণয়নের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বর্তমানে প্রস্তাবিত প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনে রয়েছে। এই বিষয়ে রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী কীর্তি নিশান চাকমা জানান, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে আগামী ডিসেম্বর নাগাদ প্রকল্পটি একনেকে পাস হতে পারে এবং এরপরই মূল সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে। প্রক্রিয়াটি দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে তিন পার্বত্য জেলার লাখ লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে বলে আশা করছেন এলাকাবাসী।

পূর্ববর্তী নিবন্ধমহেশখালীতে চেকপোস্টে ৮টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার, দুইজন আটক