জামিনের বিরোধিতা না করায় আইনজীবীকে সরালো দুদক

হাবীবুর রহমান | সোমবার , ৩১ আগস্ট, ২০২৬ at ৭:১৫ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে বিচারের জন্য আসা দুদকের একটি মামলার ৩ আসামির জামিনে বিরোধিতা না করে উল্টো আপত্তি নেই বলে আদালতকে জানিয়েছেন দুদকেরই এক আইনজীবী। বিষয়টি নজরে পড়ার পর সংশ্লিষ্ট ওই আইনজীবীকে সরিয়ে দিয়ে দুদকের অপর একজন আইনজীবীকে উক্ত মামলা পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি দেড় মাস আগের হলেও গতকাল জানাজানি হয়।

আদালত সূত্র জানায়, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক হাটহাজারীর নজুমিয়া হাট শাখা থেকে ২০১২ সালের ১২ আগস্ট থেকে ২০১৯ সালের ৫ মে পর্যন্ত দুই দফায় ২ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের মধ্যে বিতরণ না করে আত্মসাৎ করা হয়েছেএমন অভিযোগে ২০২২ সালে ৫ জনের বিরুদ্ধে দুদকের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়। ৫ আসামি হলেনডায়নামিক ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সভাপতি মো. হারুন অর রশীদ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মো. আসাদুজ্জামান, প্রধান নির্বাহী মো. নূরুল আমিন, সোসাইটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মো. মেজবাহ উদ্দিন এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপক শেখ মো. মোরশেদ। তদন্ত শেষে চার্জশিট দাখিল হলে গত জুলাই মাসের শুরুর দিকে মামলাটি মহানগর দায়রা জজ আদালত হয়ে চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে বিচারের জন্য আসে। এরপর ১২ জুলাই আগে থেকে জামিনে থাকা ৩ আসামি যথাক্রমে ডায়নামিক ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মো. আসাদুজ্জামান, সোসাইটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মো. মেজবাহ উদ্দিন এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপক শেখ মো. মোরশেদ আত্মসমর্পণ করে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। মূলত তখনই উক্ত জামিন আবেদন বিষয়ে আপত্তি না থাকার কথা আদালতকে জানান দুদক পিপি আবদুল গাফফার। বিষয়টি আদালতের আদেশেও তখন উঠে আসে।

আদালত সূত্র আরো জানায়, মূলত এরপরই আবদুল গাফফারকে উক্ত মামলার পরিচালনা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। আর উক্ত মামলা পরিচালনার জন্য নতুন করে দায়িত্ব দেওয়া হয় দুদকের আরেক আইনজীবী এনামুল ইসলামকে।

এ বিষয়ে এনামুল ইসলাম দৈনিক আজাদীকে গতকাল জানান, সাধারণ নিয়ম হচ্ছেযখন একটি মামলা বিচারের জন্য প্রস্তুত হয়ে আসে তখন আসামি পক্ষকে আদালতে হাজির হতে হয়। জামিনে থাকলেও হাজির হতে হয়। হাজির হয়ে জামিনে থাকা আসামি সাধারণত জামিনের মেয়াদ বর্ধিতকরণের জন্য আবেদন করেন। এক্ষেত্রে সাধারণত দুদক পক্ষ উক্ত আবেদনের বিরোধিতা করে। কিন্তু শোনা যায়, সংশ্লিষ্ট মামলাটিতে আসামিদের জামিন বর্ধিতকরণ চেয়ে করা আবেদনের বিরোধিতা করা হয়নি। তবে সেদিন আমি কোর্টে হাজির ছিলাম না। পরে দুদকের পক্ষ থেকে আমাকে মামলাটি পরিচালনার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি বলেন, জামিনের বিরোধিতা না করার কারণে নাকি রুটিন ওয়ার্ক হিসেবে দায়িত্ব রিশাবল করা হয়েছেসে বিষয়টি আমার জানা নেই। আর এটাতো অনেক আগের ঘটনা। তিনি আরো বলেন, যখন আসামিরা জামিন বর্ধিতকরণ চেয়ে আবেদন করেছিলেন তখন রুটিন ওয়ার্ক হিসেবে মামলা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন আবদুল গাফফার। তখনও মামলাটিতে বিশেষ মামলা নম্বরও পড়ে নি। মূলত বিশেষ মামলা নম্বর পড়লেই আমরা যারা দুদকের আইনজীবী রয়েছিতাদের মধ্য থেকে একজনকে এনডোর্স করা হয়। এর আগে রুটিন ওয়ার্ক হিসেবে মামলার পরিচালনায় আমাদের মধ্য থেকে যে কেউ মামলা পরিচালনায় নিয়োজিত থাকতে পারেন। সেই হিসেবে একজনের কাছ থেকে আরেকজনের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর তেমন কোনো বিষয় নয়। পরে চার্জগঠন হয়ে মামলাটি বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে বলেও জানান পিপি এনামুল। এ বিষয়ে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম২ এর উপপরিচালক রিয়াজ উদ্দিন দৈনিক আজাদীকে বলেন, সময়ে সময়ে প্রয়োজনের ভিত্তিতে মামলা পরিচালনার দায়িত্ব রিশাবল করা হয়। কোনো মামলা পরিচালনায় সমস্যা দেখা দিলেও এটি হয়ে থাকে। এ কাজ আমাদের রুটিন ওয়ার্ক হিসেবে হয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ‘এ রাস্তায় ছিনতাই হয়’ বলার কিছুক্ষণ পর ছিনতাইয়ের শিকার দুই বান্ধবী