শ্রদ্ধাঞ্জলি

অধ্যাপক ডা. ওমর ফারুক ইউসুফ | শনিবার , ২৯ আগস্ট, ২০২৬ at ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ

প্রফেসর এল এ কাদেরী ছিলেন চট্টগ্রামের চিকিৎসাঙ্গন ও সমাজকল্যাণের এক উজ্জ্বল ও নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব। তাঁর কর্মময় জীবন ছিল চিকিৎসাসেবা, চিকিৎসাশিক্ষা এবং জনকল্যাণে আত্মনিয়োগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি এ অঞ্চলে নিউরোসার্জারি চিকিৎসার বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

একই সঙ্গে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ), চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি হিসেবে তিনি চিকিৎসক সমাজের পেশাগত উন্নয়ন ও কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতি, ইউএসটিসি, মা ও শিশু হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসা, শিক্ষা ও সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। মানুষের প্রতি তাঁর গভীর দায়বদ্ধতা, মানবিক মূল্যবোধ এবং সমাজের কল্যাণে নিরলস প্রচেষ্টা নতুন প্রজন্মের চিকিৎসক ও সমাজকর্মীদের অনুপ্রেরণা দিয়ে চট্টগ্রামের চিকিৎসা ও সামাজিক অঙ্গনে একজন স্মরণীয় ব্যক্তি হয়ে থাকবেন । নিজের কাজ নিজেই করতে ভালোবাসতেন। তিনি ছিলেন আমার শিক্ষক, অভিভাবক ও পরম শুভাকাঙ্ক্ষী। জীবনের নানা সময়ে তাঁর কাছ থেকে যে স্নেহ, সহযোগিতা, পরামর্শ ও সাহস পেয়েছি, তা আমার হৃদয়ে চিরকাল অমলিন থাকবে। তাঁর মায়াময় হাসি, সদালাপী স্বভাব, বিনয়ী অথচ ব্যক্তিত্ববান আচরণ এবং মানুষের প্রতি অকৃত্রিম মমত্ববোধ তাঁকে সবার কাছে আপন করে তুলেছিল। তিনি ছিলেন কর্মঠ, আত্মনির্ভরশীল ও সুশৃঙ্খল একজন স্নেহময় পিতা, স্বামী, শিক্ষক ও মহামানব।

কিছু মানুষ চলে যান, কিন্তু তাঁদের রেখে যাওয়া আলো কখনো নিভে যায় না। তাঁদের কর্ম, মানবিকতা ও ভালোবাসা মানুষের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকে। প্রফেসর এল এ কাদেরী ছিলেন তেমনই একজন আলোকিত মানুষচট্টগ্রামের চিকিৎসাঙ্গন ও সমাজকল্যাণের এক নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব।

তাঁর পঞ্চম প্রয়াণবার্ষিকীতে কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসার সাথে পবিত্র স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি। মহান আল্লাহ তাঁর আত্মার মাগফিরাত করুন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন।

লেখক : অধ্যাপক ডা. ওমর ফারুক ইউসুফ, উপাচার্য, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

পূর্ববর্তী নিবন্ধশ্রদ্ধার্ঘ্য- আমার বাবা
পরবর্তী নিবন্ধবাবার অমূল্য উপহার