কর্ণফুলী টানেলের ইউটিলিটি ডাক্ট ব্যবহার করে ভান্ডালজুড়ির শোধনাগার থেকে পতেঙ্গা এলাকায় পানি সরবরাহে পাইপলাইন স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই ও ডিটেইলড ডিজাইন প্রণয়নে প্রাথমিক অনাপত্তি পাওয়া গেছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সেতু কর্তৃপক্ষ থেকে গত ১১ আগস্ট এক চিঠির মাধ্যমে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অনাপত্তির বিষয়টি জানানো হয়েছে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সেতু কর্তৃপক্ষের সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার (অপারেশন) মো. আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত এই চিঠিতে বলা হয়, কর্ণফুলী টানেলের ইউটিলিটি ডাক্ট ব্যবহার করে চট্টগ্রাম ওয়াসা কর্তৃ্লপক্ষকে ভান্ডালজুরি পানি শোধনাগারের পানি পতেঙ্গা এলাকায় সরবরাহের লক্ষ্যে পাইপলাইন স্থাপনে সম্ভাব্যতা যাচাই এবং ডিটেইলড ডিজাইন প্রণয়নে অনাপত্তি প্রদান করা হলো।
চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, ‘এই অনাপত্তি শুধুমাত্র সম্ভাব্যতা যাচাই এবং ডিটেইলড ডিজাইন প্রণয়ন কাজের ক্ষেত্রে প্রয়োজ্য। সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও ডিটেইলড ডিজাইন প্রণয়ন শেষে প্রকৃত পাইপ লাইন স্থাপন বা নির্মাণ কাজ শুরুর পূর্বে কর্ণফুলী টানেলের অবকাঠামোগত ও কারিগরি নিরাপত্তা, অগ্নি–নিরাপত্তা, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয় বিবেচনাপূর্বক সেতু কর্তৃপক্ষের পৃথক অনুমোদন গ্রহণ অত্যাবশ্যক।’
চট্টগ্রাম ওয়াসার বোয়াখালীস্থ ভান্ডালজুড়ি পানি শোধনাগার থেকে দৈনিক প্রায় ২ কোটি লিটার পানি পতেঙ্গা এলাকায় সরবরাহ করা হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ওয়াসায় যোগদানের পর টানেল দিয়ে ভান্ডালজুড়ি থেকে পানি পতেঙ্গা এলাকায় আনা ছিল আমার প্রথম পদক্ষেপ। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের অনাপত্তি প্রদানের মাধ্যমে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথ সুগম হলো।
তিনি আরও বলেন, টানেল দিয়ে পানি আনার জন্য পাইপলাইন স্থাপন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ সেতু কর্তৃপক্ষ ও টানেলের মূল ঠিকাদারের মাধ্যমে করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাইপ লাইনের জন্য বাড়তি কোনো ঝামেলা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, টানেলের আনোয়ারা অংশের সিইউএফএল পর্যন্ত আমাদের পানির সংযোগ রয়েছে। সেখান থেকে শুধুমাত্র টানেলের ইউটিলিটি ডাক্ট ব্যবহার করে পানি সহজেই পতেঙ্গা এলাকায় চলে আসবে।
গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বন্দর–পতেঙ্গা এলাকাবাসীকে ওয়াসার পানি সররাহের দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ওয়াসার পানি সরবরাহের ব্যাপারে এই উদ্যোগ নেন।
প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৩৯, ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে কয়েক লাখ বাসিন্দা চট্টগ্রাম ওয়াসার পানি পেতে যাচ্ছে। নগরীর ৩৯, ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ড গুলো সাগর তীরবর্তী হওয়ায় এসব এলাকার পানি লবণাক্ততা প্রবণ।










