ভাটিয়ারী ফুটওভার ব্রিজের বিভিন্ন স্পটে ফাটল, ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা

সন্ধ্যা নামলেই বাড়ে মাদকসেবীদের আড্ডা

সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি | শুক্রবার , ১৪ আগস্ট, ২০২৬ at ৫:১৯ পূর্বাহ্ণ

সীতাকুণ্ডে ভাটিয়ারীতে অবস্থিত ফুটওভার ব্রিজটি রক্ষাণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তার অভাবে এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। ফলে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে ৫টি স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসার ৫ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীকে ঢাকাচট্টগ্রাম মহসড়ক পার হয়ে যেতে হচ্ছে। শুধু তাই নয় সন্ধ্যা নামলেই বাড়ে ফুটওভার ব্রিজের ওপর মাদকসেবীদের আড্ডা।

দীর্ঘদিন এই ব্রিজের সংস্কারের কাজ না হওয়ায় এটি আস্তে আস্তে বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। আর ব্রিজের নিচে রয়েছে ময়লা আবর্জনার স্তূপ। অন্যদিকে ঢাকা চট্টগ্রম মহাসড়কে স্ক্র্যাপবোঝাই ট্রাক ও লরি থেকে চুরিকৃত স্ক্র্যাপ বিক্রির টাকা ভাগ বাটোয়ারা চলে এই ব্রিজের উপরেই। কারণ ব্রিজটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ায় রাতের আঁধারে স্থানীয় কেউ ব্রিজের উপর দিয়ে চলাচল করে না। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মাদক সেবী ও চোরের দলদের ভাল একটি আস্তানা হয়েছে বলেন স্থানীয় আলমগীর মুন্নাসহ অনেকে। তারা বলেন, দীর্ঘদিন পর্যন্ত ওভার ব্রিজটির সিঁড়ি অথবা উপরের বিভিন্ন স্পটে অসংখ্য ফাটল ও জং ধরে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। তবে যে কোনো সময়ে জং ধরা ব্রিজের উপরের প্লেট ভেঙে নিচে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সড়ক পার হতে গিয়ে নিয়মিত ঘটে ছিল দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা। তখন শিক্ষার্থীরা ভাটিয়ারীতে একটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের দাবি তোলে আন্দোলনে নামে। এরপর সড়ক ও জনপদ বিভাগ প্রায় ১০ বছর আগে ভাটিয়ারীতে ফুটওভার ব্রিজটি নির্মাণ করে। এরপর শিক্ষার্থীরা খুবই নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে ফুটওভার ব্রিজ দিয়ে যাওয়া আসা করে আসছিল। কিন্তু কয়েক বছর যাওয়ার পর ধীরে ধীরে ব্রিজের বিভিন্ন স্পটে জংধরে ও অসংখ্য ফাটল দেখা দেয়। যার ফলে কয়েক বছরের মাথায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিনিয়ত মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ওভারব্রিজ দিয়ে চলাচল করছে। উপরে ওভারব্রিজ আর নিচে মৃত্যুঝুঁকি। কিন্তু দুটিই তাদের মৃত্যুর ফাঁদ বলে মনে করছেন ভাটিয়ারী হাজী তোবারক আলী চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় ও বিজয় স্মরণী ডিগ্রী কলেজর শিক্ষকবৃন্দ।

এ বিষয়ে হাজী তোবারক আলী চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী বলেন, আমরা সীতাকুণ্ড ইউএনও মহোদয়কে বিষয়গুলো উল্ল্যেখ করে এ ব্রিজটি সংস্কারের জন্য অবহিত করেছি। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনেক ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক পার হতে হচ্ছে। ব্রিজটি উদ্বোধনের পর ২০১৬ সালে অত্র বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী বাবুল দাস নামের একজন মহাসড়ক পার হতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়ে ছিলেন। তাই আমাদের দাবি ব্রিজটি দ্রুত মেরামত করার। এবিষয়ে ভাটিয়ারী বিজয় স্মরণী কলেজের অধ্যক্ষ শিব শংকর শীল বলেন, ফুটওভার ব্রিজ চলাচলের অযোগ্য হওয়ায় কলেজের শিক্ষার্থীরা যেমন ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক পার হচ্ছে, ঠিক তেমনিভাবে অন্যান্য স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও একইভাবে ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক পার হতে হচ্ছে। সেই সাথে ব্রিজের নিচে রয়েছে ময়লা আবর্জনার স্তূপ।

এলাকার সকলেই আবর্জনা ব্রিজের নিচে ফেলে। এতে দুর্গন্ধের কারণে শিক্ষার্থীদের পাশ দিয়ে হেঁটে চলাচল করতে কষ্ট হয়। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ফুটওভার ব্রিজটি সংস্কারের দাবি জানাই।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমাকে স্থানীয়রা ও স্কুল কলেজের পক্ষ থেকে অবহিত করা হয়েছে। আমি এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপদ বিভাগ অধিদপ্তরের সাথে কথা বলবো। কিভাবে দ্রুত সময়ের মধ্যে ওভারব্রিজটি সংস্কার করা যায়।

এ বিষয় চট্টগ্রাম সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কুতুব উদ্দিন বলেন, আমি মাত্র কিছুদিন আগে যোগদান করেছি। তাই বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে আমি স্যারের সাথে কথা বলে ভাটিয়ারী ফুটওভার ব্রিজ সংস্কার কাজের উদ্যোগ গ্রহণ করবো।

পূর্ববর্তী নিবন্ধগতি ৮০০ কিমি তুলতে কেবল ৫ সেকেন্ড লাগে এই চীনা ট্রেনের
পরবর্তী নিবন্ধপটিয়ায় অপহরণের তিন দিন পর যুবক উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২