চট্টগ্রামে আকস্মিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন এবং দুর্গত ১৫০০ মানুষের মাঝে জরুরি ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম–মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি। গতকাল মঙ্গলবার আনোয়ারা উপজেলার তৈলারদ্বীপ বাজার সংলগ্ন এলাকা, বাঁশখালী উপজেলার ইলিশা এবং সাতকানিয়া পাঠানের পুল এলাকা সরজমিনে পরিদর্শন করেন দুই নেতা। পরবর্তীতে সাতকানিয়ার পাঠানের পুল এলাকা থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় নৌকা যোগে কেউচিয়াসহ মারাত্মকভাবে প্লাবিত ও জলমগ্ন এলাকাগুলো পরিদর্শন করেন। এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে জলবন্দী ও ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে তারা সরাসরি কথা বলেন এবং তাদের দুর্ভোগের খোঁজখবর নেন। এসময় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রিজভী আহমেদ বলেন, বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে দেশের প্রতিটি বন্যার্ত মানুষের পাশে রয়েছে। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। এসময় রিজভী সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন এবং সাম্প্রতিক আলোচিত ইস্যু এইচএসসি পরীক্ষা নিয়েও কথা বলেন।
বিডিনিউজ জানায়, দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতিতে এইচএসসি পরীক্ষা পেছাতে আন্দোলনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, অবিলম্বে আমিও জনগণের প্রত্যাশার প্রতি একাত্মতা ঘোষণা করে বলছি, পরীক্ষা অতি দ্রুত কয়েকদিনের জন্য পিছিয়ে দিন। পানি কমুক আবার পরীক্ষা নেওয়া যাবে।
গতকাল দুপুর ২টার দিকে বাঁশখালীতে বন্যাকবলিতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে একথা বলেন রিজভী। তিনি বলেন, আমি শিক্ষামন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করব যে, এই বন্যায় এ সমস্ত এলাকায় যে দুর্গতি হয়েছে, এখন ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা চলছে। এই বন্যার পানি ডিঙিয়ে আজকে (মঙ্গলবার) আমাদেরই তো এই গ্রামে আসতে হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটা দিন পিছিয়ে দিলে এমন কী ক্ষতি হত? পরীক্ষা দিতে গিয়ে, কলেজে যেতে গিয়ে শিক্ষার্থী পানিতে পড়ে গেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী এদিকে দৃষ্টি দেবেন। এটা ভয়ংকর রকমের জনদুর্ভোগ। পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তির কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, একটি বাচ্চা ছেলে, একটি কিশোর ছেলে এই বন্যার কারণে পরীক্ষা দিতে যেতে পারছে না। দিতে গিয়ে সে যদি পানিতে ডুবে যায়। তাহলে এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা।
এসময় পার্বত্য চট্টগ্রাম ও ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, দুর্যোগ শুরু হওয়ার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন। আমি যেই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি সেই জায়গায় কোমর সমান পানি ছিল। এখন কিছুটা কমেছে। তবে এখনও হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে আছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বন্যার্তদের পাশে রয়েছে।
এর আগে বেলা সাড়ে ১২টায় বিএনপির পক্ষ থেকে আনোয়ারায় তৈলারদ্বীপে বন্যাকবলিত স্থান পরিদর্শন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী ও ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। এসময় রিজভী বলেন, দুর্যোগের প্রথম দিকে যতটুকু প্রয়োজন সেইভাবে খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলেও বর্তমানে সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও খাদ্য ঘাটতি দূর করতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ দিয়েছে। এসব খাদ্য ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে যারা খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে। দখলদার যেই হোক না কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন।
এসময় চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সরওয়ার হোসেন, জাগির হোসেন, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিন উদ্দিন ত্রাণ বিতরণ ও পরিদর্শন কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।












