আন্দ্রেস এস্কোবারের কথা মনে আছে অনেক ফুটবলপ্রেমীদের। কলম্বিয়ার জাতীয় দলের ফুটবলার ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোল করেন আমেরিকার বিরুদ্ধে। সেই ম্যাচ হেরে সে বারের বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গিয়েছিল কলম্বিয়া। আত্মঘাতী গোলের অপরাধে দেশে ফেরার পর দুষ্কৃতিদের গুলিতে মৃত্যু হয়েছিল ২৭ বছরের ডিফেন্ডারের। ২৬ বছর আগে সেই বিশ্বকাপের আয়োজক ছিল আমেরিকা। এ বারের বিশ্বকাপের মূল আয়োজকও আমেরিকা। কালতালীয় হলেও আবার তেমনই হুমকির সামনে কলম্বিয়ার এক ফুটবলার এবং তাঁর পরিবার। যে ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কলম্বিয়ার ফুটবল সংস্থা। হুমকির নিন্দাও করা হয়েছে। এ বারের বিশ্বকাপে কলম্বিয়া দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন মিডফিল্ডার জ্যামিন্টন ক্যাম্পাজ। বিশ্বকাপ থেকে কলম্বিয়া ছিটকে যাওয়ার পর ক্যাম্পাজ এবং তাঁর পরিবারকে খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছে। রাউন্ড অফ ১৬–র ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের কাছে টাইব্রেকারে হেরে যায় কলম্বিয়া। টাইব্রেকারে ক্যাম্পাজের শট একটুর জন্য বাইরে চলে যায়। যা শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয় এবং কলম্বিয়া বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যায়। সুইজারল্যান্ড–কলম্বিয়া ম্যাচের পর ক্যাম্পাজকে নানা কটূক্তি করা হয়েছে সমাজমাধ্যমে। তাঁর অ্যাকাউন্টে ঢুকে গালিগালাজ করছেন ফুটবলপ্রেমীদের একাংশ। সেখানেই তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্টে কমেন্ট বন্ধ করার পরও নানা হুমকি এসেছে তাঁর কাছে। একের পর হুমকিতে ভয় পেয়ে গিয়েছেন আর্জেন্টিনার রোসারিয়ো সেন্ট্রালের ফুটবলার। দলের সঙ্গে দেশে ফেরেননি। আমেরিকাতেই রয়েছে আপাতত। এই ঘটনায় উদ্বিগ্ন কলম্বিয়ার ফুটবল কর্তারা। কলম্বিয়ার ফুটবল ফেডারেশন এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘দেশের প্রতিনিধিত্ব করার পর কোনও খেলোয়াড় বা তাঁর পরিবারকে হুমকির মুখে পড়তে হবে, এটা কাম্য নয়। ভয় দেখানো ঠিক নয়। ফুটবল সব সময় ঐক্য, শ্রদ্ধা এবং আশার মাধ্যম। কখনই ঘৃণা, ভীতি প্রদর্শন বা হিংসার হতে পারে না।
এই ধরনের হুমকি অত্যন্ত নিন্দনীয়।’ টাইব্রেকারে গোল করতে না পারায় দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন ক্যাম্পাজ। সমাজিকমাধ্যমে মুখ ঢেকে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেছেন তিনি। তাতে কলম্বিয়ার মিডফিল্ডার বলেছেন, ‘ফুটবল অনেক কঠিন সময়ও নিয়ে আসে। প্রিয় কলম্বিয়া, আমরা যেন কখনও নিজেদের সম্মানবোধ না হারাই। আমাদের চিন্তা ভাবনা আলাদা হতে পারে। সকলেই হতাশ এবং দুঃখিত। কিন্তু কোনও আবেগই ঘৃণা বা ভয় নিয়ে বেঁচে থাকাকে সমর্থন করে না।’ কলম্বিয়ার ফুটবল কর্তারা ক্যাম্পাজ এবং তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন। তাঁর গতিবিধি সম্পূর্ণ গোপন রাখা হচ্ছে। আর কাউকে এস্কোবার হতে দিতে চান না তাঁরা।












