স্বপ্ন ও সম্ভাবনাকে কখনোই ধূসর হতে দেবেন না

ইঞ্জিনিয়ার খালেক-অধ্যাপক খালেদ শিশুমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এম এ মালেক

আজাদী প্রতিবেদন | শনিবার , ১১ জুলাই, ২০২৬ at ৬:০৪ পূর্বাহ্ণ

একুশে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব ও দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক বলেছেন, শিক্ষাই মানুষকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। শিক্ষা ছাড়া আমরা কখনোই উন্নতি করতে পারব না। আমি সব সময় একটি কথা বলি। ইম্পসিবল বলে কিছু নাই। ইংরেজি ইম্পসিবল শব্দটিকে আমরা ভাঙলে দেখতে পাইআই অ্যাম পসিবল। অবশ্যই কোনো কাজকে সম্ভব করতে হলে আমাদের একটু পরিশ্রম করতে হবে, একটু চেষ্টা করতে হবে। স্বপ্ন দেখতে হবে। আশা আর স্বপ্ন হলো এমন জিনিস যা মানুষকে তার লক্ষ্যের দিকে নিয়ে যায়। আজকের দুনিয়া দ্রুত পাল্টাচ্ছে। কিন্তু মানুষের হৃদয় এখনও মানবতার ভাষায় কথা বলে। আপনাদের চোখে স্বপ্ন আছে, হাতে প্রযুক্তি আছে। তাই স্বপ্ন দেখার সাহস রাখুন। কখনোই স্বপ্ন ও সম্ভাবনাকে ধূসর হতে দেবেন না। গতকাল শুক্রবার সকালে নগরীর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘ইঞ্জিনিয়ার খালেকঅধ্যাপক খালেদ শিশুমেলা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উদ্বোধকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সাপ্তাহিক স্লোগান অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।

এম এ মালেক বলেন, আমি অনন্তকাল ধরে এই সমুদ্রতীরে হাঁটব, এই বালি এই ফেনা, জোয়ার এসে আমার পদচিহ্ন মুছে দেবে। দূরন্ত হাওয়া নিশ্চিহ্ন করবে সকল ফেনা, তবু এই সমুদ্র, এই তীর থাকবে চিরকাল বর্তমান। কথাগুলো আমার নয়, কাহলিল জিবরানের। তিনি এই পৃথিবীটাকে সমুদ্র বলে ধরে নিয়েছেন। সেখানে আমাদের পদচিহ্নের একটা কথা বলেছেন। এই পৃথিবী থেকে আসলে আমাদের সবাইকে চলে যেতে হবে। কিন্তু যাওয়ার আগে আমরা যদি আমাদের এই পদচিহ্নটা একটু ভালোভাবে পৃথিবীতে রেখে যেতে পারি, তাহলে এই শহরের বাসিন্দারা বলবে, এই লোকটা ভালো ছিল। এটাই তো আমাদের সবচেয়ে বড় পাওনা বলে আমি মনে করি।

আজাদী সম্পাদক বলেন, আমি আমার বাবাকে নিয়ে গর্বিত। আমার বাবা মোহাম্মদ আবদুল খালেক ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন এই অঞ্চলে প্রথম মুসলিম ইঞ্জিনিয়ার। উনি যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করেছিলেন, তখন কিন্তু চট্টগ্রামে ইলেকট্রিসিটি ছিল না। পাস করে আসার পর উনি চাকরির জন্য রেঙ্গুন গিয়েছিলেন। পরে সেই চাকরি ছেড়ে চলে আসেন এবং এখানে চট্টগ্রামে ইলেকট্রিসিটির ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন।

বাচিক শিল্পী আয়েশা হক শিমুর সঞ্চালনায় এবং দৈনিক আজাদীর সহযোগী সম্পাদক রাশেদ রউফের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী পর্বের অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন, সাপ্তাহিক স্লোগান সম্পাদক মোহাম্মদ জহির। এছাড়া অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, চট্টগ্রাম সরকারি চারুকলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক রীতা দত্ত, সংস্কৃতি ব্যক্তিত্ব হামিদুর রহমান, শিল্পশৈলী সম্পাদক প্রাবন্ধিক নেছার আহমদ ও শিক্ষাবিদ কাঞ্চনা চক্রবর্তী। পরে চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমির বিভিন্ন হলে প্রায় চারশত শিশুকিশোর প্রতিযোগী আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। প্রতিযোগীদের মধ্যে সিংহভাগই ছিলো স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এছাড়া শিশু কিশোরদের পাশাপাশি ‘ইঞ্জিনিয়ার খালেকঅধ্যাপক খালেদকে যেমন জেনেছি’ এই বিষয়ের ওপর রচনা প্রতিযোগিতায় অংশ নেন বড়রাও। এখানে অংশগ্রহণকারীদের বয়সের বাধা ছিল না। পরবর্তীতে বিকেল ৫ টায় পুরস্কার বিতরণী পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। সেই পর্বে প্রতিযোগিতার প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীদের হাতে সনদ, নগদ অর্থ ও পুরস্কার হিসেবে বই তুলে দেয়া হয়। এছাড়া অংশগ্রহণকারী প্রত্যেককে সান্ত্বনা পুরস্কার হিসেবে বই তুলে দেয়া হয়।

পুরস্কার বিতরণী পর্বে সভাপতিত্ব করেন দৈনিক আজাদীর পরিচালনা সম্পাদক ওয়াহিদ মালেক। তিনি বলেন, একটি সুন্দর দেশ গড়ার জন্য সুশিক্ষা এবং সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার কোনো বিকল্প নেই। আর যুগের সাথে তাল মিলিয়ে অবশ্যই আমরা আমাদের বাচ্চাদের ডিজিটাল মিডিয়ার সাথে পরিচয় করাবো, করাতে হবে, না হলে তারা পিছিয়ে যাবে। কিন্তু সেই সাথে যদি আমরা তাদের সংস্কৃতি চর্চায় উদ্বুদ্ধ করি, তাহলে মনে হয় আমরা একটি সুন্দর জাতি করতে পারব। ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল খালেক এবং প্রফেসর মোহাম্মদ খালেদের পরিবারের সদস্য করে আল্লাহ আমাদেরকে পাঠিয়েছেন, আমরা সত্যিই উপরওয়ালার কাছে অনেক কৃতজ্ঞ। আপনারা দোয়া করবেন, যাতে ওনাদের আদর্শ আমরা ধারণ করতে পারি এবং ওনারা সারাজীবন যে কষ্ট করেছেন এবং যেই উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করে গেছেন, আমরা যাতে পথ ধরে এগিয়ে যেতে পারি।

পুরস্কার বিতরণী পর্বে বাচিক শিল্পী আয়েশা হক শিমুর সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, শিক্ষাবিদ ড. আনোয়ারা আলম, অধ্যক্ষ তরুণ কান্তি বড়ুয়া, অধ্যক্ষ ছন্দা চক্রবর্তী, অধ্যাপক বিচিত্রা সেন ও নিজামুল ইসলাম সরফী। সমাপনী পর্বে স্বরচিত লেখা পাঠে সভাপতিত্ব করেন কথাসাহিত্যিক দীপক বড়ুয়া। লেখা পাঠে অংশ নেন কবি বিপুল বড়ুয়া, অমিত বড়ুয়া, মর্জিনা আকতার, অধ্যক্ষ আনোয়ারা আলম, আজিজ রাহমান, অধ্যাপক গোফরান উদ্দীন টিটু, অধ্যাপক কাঞ্চনা চক্রবর্তী, ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী, অপু চৌধুরী, সৈয়দা সেলিমা আকতার, . পৃথীশ রঞ্জন বড়ুয়া, মার্জিয়া খানম সিদ্দিকা, নেভি বড়ুয়া, ইসমাঈল জসীম, প্রদ্যুৎ কুমার বড়ুয়া, কানিজ ফাতেমা লিমা, বিকাশ বড়ুয়া, পুলক চন্দ, তাওহিদুল ইসলাম নুরী, ডা. কল্যাণ বড়ুয়া, সৌভিক চৌধুরী, অধ্যাপক জিতেন্দ্র লাল বড়ুয়া, তানজিনা রাহি, রিনিক মুন, প্রতিমা দাশ, তটিনী তনু, পুষ্পিতা সেন, সোমা মুৎসুদ্দী, তানভির হাসান বিপ্লব, দীপিকা বড়ুয়া, সিমলা চৌধুরী, অধ্যক্ষ তরুণ কান্তি বড়ুয়া, জোনাকী দত্ত, শুকলা আচার্য্য, শর্মিষ্ঠা চৌধুরী, আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, আনিস শাহরিয়ার, ইমদাদ উল্লাহ ফেরদৌস, আবদুল হান্নান হীরা, নাঈম রবিন প্রমুখ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আজকের এইচএসসি পরীক্ষাও স্থগিত
পরবর্তী নিবন্ধবন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীদের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ