নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে সমন্বিত কার্যক্রম আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গতকাল চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মধ্যে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সমন্বয় সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
গতকাল বুধবার সকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেড কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের ডিরেক্টর জেনারেল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামসের সভাপতিত্বে উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভায় সেনাবাহিনীর জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহসিনুল হক চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সিডিএর পক্ষ থেকে চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেনের নেতৃত্বে চউকের সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ নূরুল্লাহ নুরী (অতিরিক্ত সচিব), সদস্য (প্রকৌশল) মো. জামিলুর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল, সচিব মাহবুবউল করিম, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আহম্মদ মঈনুদ্দিন, কালুরঘাট–চাক্তাই সংযোগ সড়ক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক রাজিব দাশসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় চট্টগ্রাম নগরীর চলমান জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি, তাৎক্ষণিক করণীয় এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষভাবে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার অধীন নগরীর ৩৯টি রেগুলেটর সার্বক্ষণিক সচল রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এই রেগুলেটরগুলোর বেশিরভাগ চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্পের আওতায় নির্মিত। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে এসব রেগুলেটরের কার্যকারিতা নিয়মিত তদারকি ও নিশ্চিত করা হবে। কোনো ধরনের অবহেলা বা ব্যত্যয় ঘটলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘ ৪২ বছরের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ভোগান্তিতে পড়া নগরবাসীর প্রতি চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এবং ব্যক্তিগতভাবে আমি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করছি। আমাদের লক্ষ্য আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে হিজরাখালসহ জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতাধীন সব খালের কাজ সম্পন্ন করা। প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনকালে আমরা খালের পানি প্রবাহ গতিশীল পেলেও খাল সমূহে সংযোগকারী নালা সমূহে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে দেখতে পাই। যার ফলে পানি খালে প্রবাহিত না হয়ে রাস্তায় উপচে আসতে দেখা গেছে। প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রকল্প সংশ্লিষ্ট এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে নাগরিকদের যে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, তা যতটা সম্ভব লাঘব করতে আমরা তাৎক্ষণিক ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। তিনি সমন্বয় সভায় নগরীর রেগুলেটরগুলো সার্বক্ষণিক সচল রাখার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে বলেন, নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, চট্টগ্রাম ওয়াসাসহ সকল সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে একযোগে কাজ করবে।











