আকাশে রুপোলি থালার মতো একাদশীর
নির্মল চাঁদ ছিল পূর্ণতার অপেক্ষায়।
সাগর যেন দিয়েছিল বুক পেতে
তার প্রেয়সীর পানে।
ষোড়ষী শশী ঢেলে দিল সবটুকুই আলো
আঠারোর টগবগে যৌবনা সাগরের বুকে।
সমুদ্রের প্রতিটি ফেনিল ঢেউয়ে
চন্দ্র রশ্মি এঁকে দিচ্ছে চুম্বনরেখা।
দুজন সংসারী বাউল হেঁটে চলেছে
জল ও আলোর সঙ্গম দেখতে দেখতে
সাগরের সুদীর্ঘ তীর ধরে।
জাগতিক সম্বলহীন নিঃস্ব দুজনা,
সাথে ছিল শুধু তাদের
আদিম ভালোবাসার লণ্ঠন
আর ছিল চাঁদের স্নিগ্ধ ছায়ায় কবিতার মায়া।
মলয় বাতাসে কথারা গিয়েছিল নির্বাসনে,
শুভ্র ফেনিল স্রোত ক্ষণে ক্ষণে
ছুঁয়ে যাচ্ছিল চার চরণ শীতল শিহরণে।
নির্বাক এই পথচলা যেন অনন্ত সময়ের।
চাঁদের আলোয় সমুদ্র হয়েছিল
অপরূপ সৌন্দর্যময়ও
আকাশ হয়ে উঠেছিল আলোর উঠোন।
আর দুজন পথ ভোলা পথিক যেন
মধ্য বয়সের টগবগে যুবক–যুবতী,
জীবনের সব মিথ্যে কলরব বিসর্জন দিয়েছে
উত্তাল সাগরের গর্জনের সুরের প্লাবনে।
আর কিছুদূর গেলেই পৌঁছে যাবে তারা
অমরাবতীর দ্বার কিংবা ইন্দ্রপুরী।
এখানে শুধু মুগ্ধতার পর মুগ্ধতা,
হাতের পরে হাত বিশ্বাসের আলিঙ্গনে,
হৃদয়ের পাশাপাশি হৃদয় আর
নিঃশব্দে নিঃশ্বাসের সুর শোনে
দুটি বিগলিত প্রাণ।






