পেনাল্টিতে চেকিয়ার জয় কাড়ল দক্ষিণ আফ্রিকা

বিশ্বকাপের দ্রুততম গোল সাদিলেকের নাটকীয় ড্রয়ে নকআউটের রেসে টিকে রইল আফ্রিকানরা

ক্রীড়া প্রতিবেদক | শুক্রবার , ১৯ জুন, ২০২৬ at ৮:০৭ পূর্বাহ্ণ

বিশ্বকাপের ‘এ’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ১১ গোলে ড্র করে টুর্নামেন্টের প্রথম পয়েন্ট অর্জন করেছে চেক প্রজাতন্ত্র এবং দক্ষিণ আফ্রিকা। বলা ভালো, চেকের কাছ থেকে আক্ষরিক অর্থেই একটি পয়েন্ট কেড়ে নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। আর এই নাটকীয় ঘুরে দাঁড়ানো আফ্রিকান দলটিকে নকআউটে যাওয়ার রেসে ভালোভাবেই টিকিয়ে রাখল।

গতকাল বৃহস্পতিবার আটলান্টায় অনুষ্ঠিত এই ম্যাচের শুরুতেই টুর্নামেন্টের দ্রুততম গোল করে এগিয়ে গিয়েছিল চেক প্রজাতন্ত্র। সেই গোলের লিড তারা ম্যাচের ৮২ মিনিট পর্যন্ত ধরে রাখতে পেরেছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তের পেনাল্টিতে নাটকীয় সমতা ফিরায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

ম্যাচের মাত্র ষষ্ঠ মিনিটেই লিড পায় চেক। আলেকজান্ডার সয়কার সঙ্গে দারুণ এক সমন্বিত আক্রমণ থেকে গোলটি করেন মাইকেল সাদিলেক ()। এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত এটিই সবচেয়ে দ্রুততম গোল। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে, প্রথমার্ধে এটিই ছিল দুই দলের একমাত্র উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত। এর অবশ্য আরও আগে, ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল চেক শিবির। কিন্তু প্যাট্রিক শিকের সাত গজ দূর থেকে নেওয়া চমৎকার হেডটি অল্পের জন্য গোলপোস্টের বাইরে চলে যায়। বিপরীতে, প্রথমার্ধে দক্ষিণ আফ্রিকা গোলের মতো তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য আক্রমণই গড়ে তুলতে পারেনি।

প্রথমার্ধের মতোই দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণাত্মক ফুটবল শুরু করে চেক প্রজাতন্ত্র। ৪৮ মিনিটে লুকাস চের্ভের দূরপাল্লার জোরালো শটটি একটুর জন্য গোলবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। দুই মিনিট পর আবারও সুযোগ পায় তারা। প্রথমার্ধে দারুণ এক হেডের সুযোগ নষ্ট করা প্যাট্রিক শিক এবারও কর্নার থেকে আসা বলে মাথা ছোঁয়াতে সক্ষম হন। তবে তার হেডটি সরাসরি দক্ষিণ আফ্রিকান গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামসের গ্লাভসবন্দী হলে নিশ্চিত বিপদ থেকে রক্ষা পায় আফ্রিকানরা।

এই ধাক্কার পরপরই খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এসে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় দক্ষিণ আফ্রিকা। একের পর এক আক্রমণে তারা কাঁপিয়ে দেয় চেক প্রজাতন্ত্রের রক্ষণভাগ। অবশেষে ৮২ মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মাহেন্দ্রক্ষণ। বঙের ভেতর মাসেকোর জোরালো শটটি চেক ডিফেন্ডার সুলচের হাতে লাগলে রেফারি কালবিলম্ব না করে পেনাল্টির বাঁশি বাজান।

স্পট কিক থেকে চরম ঠাণ্ডা মাথায় বল জালের নিচের বাঁ দিকের কোণে পাঠিয়ে দেন তেবেহো মোকোয়েনা ()। চেক গোলরক্ষক মাতেই কোভার উল্টো দিকে ঝাঁপ দেওয়ায় বল ঠেকানোর কোনো সুযোগই পাননি। দীর্ঘ সময় পিছিয়ে থাকার পর শেষ মুহূর্তের এই গোলই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। শেষ পর্যন্ত ১১ সমতায় খেলা শেষ হলে উভয় দলকেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় ১ পয়েন্ট করে নিয়ে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধঅনুশীলনে ফিরলেও হাইতি ম্যাচে নেই নেইমার
পরবর্তী নিবন্ধদুবাইগামী যাত্রীর লাগেজে ৯৫ লাখ টাকা মূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা