জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন ২৮ জুন

চট্টগ্রাম বিভাগে ৫৪ লাখ ৭৮ হাজার শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্য

আজাদী ডেস্ক | বৃহস্পতিবার , ১৮ জুন, ২০২৬ at ৮:৪৪ পূর্বাহ্ণ

আগামী ২৮ জুন চট্টগ্রাম বিভাগে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন। ক্যাম্পেইন চলাকালীন ৬১১ মাস বয়সী শিশুকে একটি করে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ও ১২৫৯ মাস বয়সি শিশুকে একটি করে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এ বয়সের কোনো শিশু যাতে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়া থেকে বাদ না পড়ে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক থাকতে হবে।

জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে বিভাগীয় ওরিয়েন্টেশন ও পরিকল্পনা সভা গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতির বক্তব্যে বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান ও জাতীয় পুষ্টি সেবার বাস্তবায়নে বিভাগীয় পরিচালকের (স্বাস্থ্য) দপ্তর সভার আয়োজন করে।

তিনি বলেন, অসুস্থতার কারণে ৬৫৯ মাস বয়সী কোনো শিশু যদি ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়া থেকে বাদ পড়ে তাকে সুস্থতা পরবর্তী এ ক্যাপসুল খাওয়াতে হবে। সিটি কর্পোরেশসহ চট্টগ্রাম বিভাগীয় পর্যায়ে মোট ৫৪ লাখ ৭৮ হাজার ৫২৯ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬১১ মাস বয়সি শিশু ৬৭ হাজার ৭৬৮ জন এবং ১২৫৯ মাস বয়সি শিশু ৪৮ লাখ ৭ হাজার ৭৬১ জন।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক বলেন, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল শিশুর অপুষ্টি, অন্ধত্ব প্রতিরোধ, দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত, হাম ও ডায়রিয়াজনিত মৃত্যুর হার হ্রাসসহ সকল ধরনের মৃত্যুর হার হ্রাস করে। পরিবারের রান্নায় ভিটাামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ ভোজ্যতেল ব্যবহার শিশুর জন্য যথেষ্ট উপকারী। মা ও শিশুর পুষ্টির জন্য গর্র্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি করে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ খাবার খেতে দিতে হবে।

ক্যাম্পেইন বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (শিশু স্বাস্থ্য) ডা. মাহমুদা আক্তার। রিসোর্স পার্সন ছিলেন চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগীয় পরিচালক আবু সালেহ মো. ফোরকান উদ্দিন, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয়ের উপপরিচালক ডা. কমরুল আযাদ, বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও এঙিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ইনামুল হাছান, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ও স্টাফ অফিসার টু ডিআইজি লোপামুদ্রা, ইউনিসেফের হেড অব জোন মাধুরী ব্যানার্জী ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় পরিচালক সরকার সারোয়ার আলম।

বক্তব্য রাখেন চসিকের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. তপন চক্রবর্তী ও ইউনিসেফের নিউট্রিশন কর্মকর্তা ডা. উবাসুই। সভায় বিভাগের বিভিন্ন জেলার সিভিল সার্জন, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি, পরিবার পরিকল্পনা বিভিন্ন জেলার উপপরিচালক, সহকারী পরিচালক, চিকিৎসক, সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের প্রতিনিধিবৃন্দ অংশ নেন।

বক্তারা বলেন, বিভিন্ন কারণে শিশুরা অপুষ্টিতে ভূগছে। শিশুর সুস্থভাবে বেঁচে থাকা, স্বাভাবিক বৃদ্ধি, দৃষ্টিশক্তি, রক্তস্বল্পতা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ভিটামিন ‘এ’ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ । এই ক্যাম্পেইন কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে অপুষ্টি দূর করা সম্ভব হবে। ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন ও পুষ্টিবার্তা বিষয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সোশ্যাল মিডিয়া, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় নিয়মিত প্রচারপ্রচারণার ব্যবস্থা করলে জনগণ এ ব্যাপারে আরো সচেতন হবে।

বক্তারা বলেন, ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন সফল করতে হলে মসজিদ, মন্দির, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাটবাজার, বাস স্ট্যান্ড, নৌঘাটসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মাইকিং করে সচেতনতামূলক প্রচারপ্রচারণা চালানো হবে। স্বাস্থ্য বিভাগ, সরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, আনসারভিডিপি ও এনজিও সংস্থাগুলোকে ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নে এগিয়ে আসতে হবে। স্থায়ী ও অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে মাঠকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী শিশুদেরকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কাজে নিয়োজিত থাকবে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয় সূত্র জানায়, আগামী ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন চলাকালীন বিভাগের ১১ জেলা ও সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৬১১ মাস বয়সি মোট ৬ লাখ ৭০ হাজার ৭৬৮ জন শিশুকে একটি করে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ও ১২৫৯ মাস বয়সি ৪৮ লাখ ৭ হাজার ৭৬১ জন শিশুকে একটি করে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় ৬১১ মাস বয়সি ৯৩ হাজার ৯৮৭ জন, ১২৫৯ মাস বয়সি ৭ লাখ ৫৭ হাজার ৭৪৬ জন, কক্সবাজার জেলায় ৬১১ মাস বয়সি ৬২ হাজার ৮২৫ জন, ১২৫৯ মাস বয়সি ৪ লাখ ৩০ হাজার ১৭২ জন, বান্দরবান জেলায় ৬১১ মাস বয়সি ১১ হাজার ৪৫৮ জন, ১২৫৯ মাস বয়সি ৬৭ হাজার ২৩৪ জন, রাঙ্গামাটি জেলায় ৬১১ মাস বয়সি ১৩ হাজার ১১৮ জন, ১২৫৯ মাস বয়সি ৮২ হাজার ১৭৪ জন, খাগড়াছড়ি জেলায় ৬১১ মাস বয়সি ১৪ হাজার ৭৭৫ জন, ১২৫৯ মাস বয়সি ৮৮ হাজার ৩১০ জন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় ৬১১ মাস বয়সি ৯২ হাজার, ১২৫৯ মাস বয়সি ৪ লাখ ৭২ হাজার জন শিশু রয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধশান্তি-সাম্যের দেশ ও মানবিক বিশ্ব গড়ার আহ্বান
পরবর্তী নিবন্ধপশ্চিম বাকলিয়ায় মাদকবিরোধী প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্ট