কক্সবাজারের চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালীতে অপহরণকারীর বাড়ি থেকে অপহৃত কিশোরীকে উদ্ধারে গেলে গুজব ছড়িয়ে স্থানীয়দের হামলার শিকার হয় পুলিশ। এসময় পুলিশের দুটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশের এসআই আরকানুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। গত শনিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ছাইরাখালী গ্রামে অপহরণকারী নুরুল আমিনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
ঈদগাঁও উপজেলার এক কিশোরীকে ডুলাহাজারা থেকে অপহরণের পর মুক্তিপণ চাওয়ার অভিযোগে বাবা বাদী হয়ে শনিবার চকরিয়া থানায় একটি মামলা করেন। ওই কিশোরী পবিত্র ঈদুল আজহার দিন থেকে নিখোঁজ ছিল।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী এবং পুলিশ জানায়, নুরুল আমিনের বাড়িতে অভিযানে গিয়ে পুলিশ ওই কিশোরীকে হেফাজতে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। এসময় থানার উপ–পরিদর্শক (এসআই) আরকানুল ইসলামসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য বলপ্রয়োগ হিসেবে লাঠিচার্জ করলে অপহরণকারী এবং ভিকটিম আহত হয়।
সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, লাঠিচার্জে অপহরণকারী নুরুল আমিন মাটিতে লুটিয়ে পড়লে ‘পুলিশের পিটুনিতে অপহরণকারী নুরুল আমিন মারা গেছে’ –এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এসময় স্থানীয়রা উত্তেজিত হয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পুলিশ ভ্যান ও সিএনজি টেক্সি ভাঙচুর করা হয়।
পরে থানার ওসি মো. মনির হোসেনের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় অপহরণকারী নুরুল আমিনকে আত্মীয়–স্বজনেরা সরিয়ে নেয় এবং ভিকটিম কিশোরীকে উদ্ধার করে পুলিশ। গত শনিবার বিকেলে শুধুমাত্র পুলিশের বলপ্রয়োগের দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এ ঘটনায় বলপ্রয়োগকারী অভিযুক্ত এসআই আরকানুল ইসলামকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে সংযুক্ত করা হয় জেলা পুলিশ লাইনে।
এই বিষয়ে প্রত্যাহার হওয়া এসআই আরকানুল ইসলাম বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ছিল যেভাবেই হোক ভিকটিমকে জীবিত উদ্ধার করতে হবে। কিন্তু অপহরণকারী নুরুল আমিনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় সে ধারালো ছুরি হাতে অপহৃত কিশোরীকে জিম্মি করে পুলিশকে গালিগালাজ করছে। এই অবস্থায় আমাদের লক্ষ্য ছিল যে কোনো উপায়ে অপহরণকারীর কাছ থেকে ধারালো অস্ত্রটি জব্দ করাসহ অপহরণকারী নুরুল আমিনকে গ্রেপ্তার ও ভিকটিমকে জিম্মিদশা থেকে জীবিত উদ্ধার করা। এ সময় পুলিশ সদস্যদের ওপর বাড়ির ভেতরে হামলা চালালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে লাঠিচার্জ করা হয়। তখন ভিকটিম এবং অপহরণকারী আহত হয়ে মাটিতে শুয়ে পড়ে মারা যাওয়ার ভান করে। আর বাইরে ছড়িয়ে দেওয়া হয় পুলিশ নুরুল আমিনকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। এরপর স্থানীয়রা উত্তেজিত হয়ে পুলিশের ওপর আক্রমণ চালায় এবং পুলিশের দুটি গাড়িতেও ভাঙচুর করে।’
চকরিয়া থানা পুলিশ জানায়, ঈদগাঁও উপজেলার এক কিশোরীকে ডুলাহাজারা থেকে অপহরণের পর মুক্তিপণ চাওয়ার অভিযোগে বাবা বাদী হয়ে শনিবার চকরিয়া থানায় একটি মামলা করেন। ওই কিশোরী পবিত্র ঈদুল আজহার দিন থেকে নিখোঁজ ছিল। মামলায় কিশোরীর বাবা অপহরণকারী হিসেবে চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ছাইরাখালী গ্রামের নুরুল আমিন নামের এক যুবককে আসামি করেন। সেই মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার এবং অপহৃত কিশোরীকে উদ্ধার অভিযানে গেলে এই লঙ্কাকাণ্ড ঘটে।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, ‘অপহৃত কিশোরীকে উদ্ধার করতে গেলে গুজব ছড়িয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায় স্থানীয় উত্তেজিত লোকজন। এ ঘটনায় বলপ্রয়োগ তথা লাঠিচার্জ করার ভিডিও ভাইরাল হলে এসআই আরকানুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে সংযুক্ত করা হয় জেলা পুলিশ লাইনে। এই ঘটনায় পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা হয়েছে পুলিশের ব্যবহৃত দুটি বাহন। এই ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।’ ওসি আরও বলেন, বর্তমানে ভিকটিম কিশোরী পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। এদিকে অপহরণকারী নুরুল আমিনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে পরিবার সূত্র জানিয়েছে।












