যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরান ওয়াশিংটনকে একটি শান্তি প্রস্তাব পাঠানোর পর তিনি ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর একটি পরিকল্পনা স্থগিত করেছেন। এখন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ‘খুব ভালো সুযোগ’ আছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন শান্তি প্রস্তাব পাঠানোর পর ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি মার্কিন সামরিক বাহিনীকে আপাতত হামলা না চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। গত সোমবার সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, আমরা আগামীকাল (মঙ্গলবার) ইরানের ওপর নির্ধারিত হামলাটি চালাবো না। তবে গ্রহণযোগ্য চুক্তিতে পৌঁছানো না গেলে সেক্ষেত্রে আদেশ দেওয়া মাত্র মুহূর্তের মধ্যে ইরানের ওপর পূর্ণমাত্রার ও বড় আকারের হামলা চালানোর জন্য তাদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। খবর বিডিনিউজের। রয়টার্স লিখেছে, এ ধরনের কোনো হামলার পরিকল্পনার কথা এর আগে ঘোষণা করা হয়নি আর হামলা চালানো জন্য কোনো প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল কিনা রয়টার্স তা নিশ্চিত হতে পারেনি। এ ধরনের কোনো হামলা হলে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ট্রাম্প যে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন তা আবার শুরু হবে।
হরমুজ প্রণালি আবার খুলতে পারে, এমন একটি চুক্তিতে পৌঁছানো নিয়ে চাপে থাকা ট্রাম্প এর আগেও যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর খুব কাছাকাছি আছেন বলে আশা প্রকাশ করেছিলেন, তখনও তিনি ‘ইরান একটি চুক্তিতে না পৌঁছলে’ ভয়াবহ হামলা চালানো হবে বলে একইরকম হুমকি দিয়েছিলেন। নিজের পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতারা তাকে হামলা স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন কারণ ‘একটি চুক্তি হবে, যা আমেরিকার কাছে অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য হবে আর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য (পশ্চিম এশিয়া) ও এর বাইরের দেশগুলোর কাছেও গ্রহণযোগ্য হবে’। তবে যে চুক্তিটি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে তিনি তার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেননি। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি জানান, তেহরানকে একটি পারমাণবিক বোমার অধিকারী হওয়া থেকে ঠেকাতে পারবে, ইরানের সঙ্গে এমন একটি চুক্তি করতে পারলেই যুক্তরাষ্ট্র সন্তুষ্ট হবে। সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, তারা কোনো একটা সমাধান বের করতে পারবে তার খুব ভালো সম্ভাবনা আছে বলে মনে হচ্ছে। তাদেরকে বোমা মেরে পুরোপুরি গুড়িয়ে দেওয়ার ছাড়াই যদি এটা আমরা করতে পারি তাহলে আমি খুব খুশি হবো।
তেহরানের মতামত ‘পাকিস্তানের মাধ্যমে আমেরিকান পক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে’, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি এমনটি জানানোর পর ট্রাম্প তার পোস্টে হামলা স্থগিত রাখার ওই নির্দেশ দেওয়ার কথা জানান।
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে হত্যার জন্য পুরস্কার ঘোষণা : এদিকে যুক্তরাজ্যের দৈনিক টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মাথার ওপর পুরস্কার ঘোষণার বিষয়ে আলোচনা করছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি নেতাকে হত্যার জন্য ৫ কোটি ইউরো প্রস্তাব করা একটি বিল নিয়ে দেশটির পার্লামেন্টে ভোটাভুটির কথা রয়েছে।
‘ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা ব্যবস্থা’ শিরোনামের এই বিলটি ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আজিজি তৈরি করেছেন বলে ব্রিটিশ দৈনিকটি জানিয়েছে। আজিজি জানিয়েছেন, ইরান ২৮ ফেব্রুয়ারি চালানো হামলার জন্য ট্রাম্প, নেতানিয়াহু ও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের অ্যাডমিরাল ব্রাড কুপারকে দায়ী করে আর তাদের অবশ্যই ‘পাল্টা ও সমপরিমাণ পদক্ষেপের’ মুখোমুখি হতে হবে।











