ঈদের আগে পরিবহন ধর্মঘটের মতো পরিস্থিতি থেকে নিস্তার পেয়েছে কক্সবাজার, টেকনাফসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের লাখো মানুষ। নগরীর অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল ইজারা নিয়ে সিডিএর সাথে বিরোধ হয় টার্মিনাল ইজারা নেওয়া ১১টি বাস মালিক সমিতির। ৩৩ বছর ধরে তারা ইজারা নবায়ন করে টার্মিনাল পরিচালনা করলেও গত জানুয়ারি মাসে ইজারা নবায়ন না করে টার্মিনালের জমি অন্যদের ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে চলাচলকারী ১১টি বাস মালিক সমিতি সিডিএকে ৫ দিনের আল্টিমেটাম দিয়ে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং ইজারা নবায়নের আবেদন করে। উক্ত চিঠিতে তারা পরিবহন ধর্মঘটের হুমকি প্রদান করে। কিন্তু সিডিএ সাড়া না দেওয়ায় ১১টি বাস মালিক অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট শুরু করার উদ্যোগ নেয়।
বিষয়টি জানতে পেরে সিএমপি কর্তৃপক্ষ বাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠক করে যাত্রীদের ভোগান্তি হয় এমন কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান। বাস মালিক সমিতিগুলো ইজারামূল্য ১০ শতাংশ বাড়িয়ে পে–অর্ডার করে। কিন্তু সিডিএর সাড়া না পাওয়ায় বাস মালিক সমিতিগুলো উচ্চ আদালতে রিট করে। চট্টগ্রাম কক্সবাজার টেকনাফ বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতিসহ ১১টি বাস মালিক সমিতি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়সহ সিডিএকে বিবাদী করে রিট দাখিল করলে হাই কোর্ট বিভাগের বিচারপতি রাজিক–আল–জলিল এবং বিচারপতি মোঃ আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত একটি ডিভিশন বেঞ্চ শুনানির পর ৪ সপ্তাহের জন্য রুল জারি করে এবং উক্ত আদেশ প্রাপ্তির ৬০ দিনের মধ্যে আবেদনকারীর গত ২১ জানুয়ারি করা আবেদনের নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেন।
আবেদনকারীরা বহদ্দারহাট টার্মিনালে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার জন্য পৃথক একটি আবেদন করেন। গত ১৭ মে বিচারপতি রাজিক–আল–জলিল এবং বিচারপতি দেবাশিস রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত একটি ডিভিশন বেঞ্চের শুনানিতে উক্ত আবেদনটি মঞ্জুর করা হয় এবং ৬ মাসের জন্য টার্মিনালে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ প্রদান করে। হাই কোর্টের উক্ত স্থিতাবস্থার আদেশ প্রদানের প্রেক্ষিতে ১১টি বাস মালিক সমিতি ধর্মঘটে যাচ্ছে না বলে গতকাল জানিয়েছে।













