কলকাতা হাই কোর্টে মমতাকে ঘিরে বিক্ষোভ, গালাগাল

মারধরের অভিযোগ

| শুক্রবার , ১৫ মে, ২০২৬ at ৯:৫৭ পূর্বাহ্ণ

দীর্ঘ ১৫ বছরের ক্ষমতার অবসান হতেই আইনজীবী বেশে প্রথমবারের মত রাজ্যের হাই কোর্টে গিয়ে বিক্ষোভ ও গালাগাল শুনলেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সদ্য সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়, বিধানসভা নির্বাচনে ভোট পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় হওয়া একটি মামলায় লড়তে আইনজীবী বেশে গতকাল বৃহস্পতিবার হাই কোর্টে শুনানিতে যান মমতা। সেখানে শুনানি শেষ বের হওয়ার পরই আইনজীবীদের বিক্ষোভের মধ্যে পড়েন তিনি।

বিক্ষোভকারীরা মমতাকে ঘিরে ধরে ‘চোর চোর’ স্লোগান দেন। এছাড়া অশ্রাব্য গালাগালিও করা হয়। প্রথমে প্রতিবাদের চেষ্টা করলেও এক পর্যায়ে মমতাকে সেখান থেকে গাড়িতে সড়িয়ে নেন তার লোকজন। যাওয়ার সময় মমতা অভিযোগ করেন, বিক্ষোভকারীরা তাকে মারধর করেছে। ঘটনার জন্য তিনি ক্ষমতাসীন বিজেপি সমর্থিত আইনজীবীদের দায়ী করেন। খবর বিডিনিউজের। ভোট পরবর্তী একটি সহিংসতার ঘটনা নিয়ে তৃণমূল বিধায়ক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় জনস্বার্থে ওই মামলাটি করেন। মামলার শুনানি হয় বৃহস্পতিবার সকালে। ওই মামলাতেই আইনজীবী হিসাবে শুনানির জন্য এজলাসে যান মমতা।

বর্তমানে পুরোদস্তুর রাজনীতিবিদ হলেও মমতার পড়ালেখা আইনপেশায়। তিনি কলকাতার যোগেশচন্দ্র চৌধুরী ল কলেজ (যা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত) থেকে আইনের ডিগ্রি নিয়েছেন। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি আলিপুর আদালতে আইনজীবী হিসেবে কাজও করেছেন। আইন ছাড়াও তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে এমএ এবং বিএড করেছেন।

আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার কিছু আগে হাই কোর্ট চত্বরে যান মমতা। আইনজীবীর পোশাকে তিনি হাজির হন প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের এজলাসে। সেখানে বাদীর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন। কিন্তু এজলাস থেকে বের হওয়ার সময়েই ঘটে বিপত্তি।

তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী যে মামলা লড়তে গেছেন, সে কথা ততক্ষণে ছড়িয়ে পড়েছিল হাই কোর্টের আইনজীবী মহলে। শুনানি পর্ব শেষে এজলাস থেকে বেরিয়েই লবিতে বিক্ষুব্ধ আইনজীবীদের একাংশের সামনে পড়ে যান মমতা। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে দেখতে পেয়েই তার বিরুদ্ধে ‘চোর’ স্লোগান দিতে থাকেন আইনজীবীদের একাংশ। ভিড়ের মধ্যে মমতাকে গালাগালও করা হয়। বিক্ষোভের মধ্যেই হাই কোর্ট চত্বর ছেড়ে বেরিয়ে যান মমতা। তবে এরই মধ্যে আইনজীবীদের একাংশের দিকে হাত দেখিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ওরা আমাকে মেরেছে।

হাই কোর্ট চত্বরের এই পরিস্থিতির নিন্দায় সরব হয়েছে বর্তমানে রাজ্যের বিরোধী দল তৃণমূল। দলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, যারা এতদিন গণতন্ত্রের বুলি আওড়াতেন, তারা আজ কী বলবেন? রাজ্যের তিনবারের নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী আদালতের দরজায় গিয়েছেন। সেখানে যদি এই ঘটনা ঘটে, তা হলে বিজেপি রাজ্যে কী ধরনের গণতন্ত্রের চাষ করতে চাইছে, তা বোঝাই যাচ্ছে।

অন্যদিকে ক্ষমতাসীন বিজেপি হাই কোর্টের এ ঘটনাকে তৃণমূলের গত ১৫ বছরের কৃতকর্মের ফল বলে আখ্যা দিয়েছে। দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে ‘চোরচোর’ স্লোগান, কুমন্তব্য, এগুলো কোনটাই বিজেপির কাজ নয়। এগুলো বিজেপির সংস্কৃতি না। এই বিক্ষোভ তৃণমূলের কৃতকর্মের ফল।

পূর্ববর্তী নিবন্ধঅতিরিক্ত বাঁশ বোঝাই করে ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল
পরবর্তী নিবন্ধবিনা ভাড়ায় প্রতিবন্ধীদের চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে : জুবাইদা