প্রাকৃতিক খাবারে বিশালদেহী ‘গফুর’

তরুণ উদ্যোক্তা মাশরুরের বাজিমাত

| শনিবার , ৯ মে, ২০২৬ at ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ

কর্ণফুলী নদীর তীর ঘেঁষে চট্টগ্রামের মইজ্জারটেক কালারপোল খালপাড় এলাকায় গড়ে উঠেছে আধুনিক এক খামার, যার নাম ‘রাজ এগ্রো’। কোরবানি ঈদ সামনে রেখে এই খামারে এখন ব্যস্ততা তুঙ্গে। তবে পুরো খামারের মূল আকর্ষণ হলো বিশাল আকৃতির একটি ষাঁড়, নাম তার ‘গফুর’। প্রায় এক টনেরও বেশি ওজনের রাজকীয় এই ষাঁড়টিকে দেখতে প্রতিদিন আশপাশের মানুষ ভিড় করছেন। খামারের মালিক তরুণ উদ্যোক্তা মঈন মাশরুর আহমেদ জানান, গত দুই বছর ধরে তিনি অত্যন্ত যত্ন নিয়ে গফুরকে লালনপালন করেছেন। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার খেয়ে বড় হওয়া এই ষাঁড়টির দাম হাঁকা হয়েছে ১০ লাখ টাকা। কোনো ধরনের কৃত্রিম ওষুধ বা স্টেরয়েড ব্যবহার না করাই গফুরের বিশেষ বৈশিষ্ট্য।

রাজ এগ্রো কেবল বড় গরুই নয়, সাধারণ মানুষের বাজেটের কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন জাতের গরু সংগ্রহে রেখেছে। এখানে সর্বনিম্ন ৭০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১০ লাখ টাকা দামের গরু পাওয়া যাচ্ছে। খামারে শাহীওয়াল, অস্ট্রেলিয়ান, ইন্ডিয়ান, ব্রাহমা ক্রস এবং দেশি শংকর জাতের পশুর সমাহার রয়েছে। খামারটি ছোট বাছুর সংগ্রহ করে সেগুলোকে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে কোরবানির জন্য বড় করা হয়। গতকাল শুক্রবার দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বছরের গরু বিক্রি শুরু করেছে রাজ এগ্রো। অনুষ্ঠানে ফিতা কেটে বিক্রয় কার্যক্রমের শুভ সূচনা করেন অতিথিরা। এসময় অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক আজাদীর পরিচালনা সম্পাদক ওয়াহিদ মালেক, ইলিয়াস ব্রাদার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামসুল আলম, বিসিবির সাবেক পরিচালক ও আনজুমান ট্রাস্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট মঞ্জুর আলম, ডব্লিউটিসি’র সদস্য জাহাঙ্গীর আলম দোভাষ, আনজুমানএ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ক্যাবিনেট মেম্বার মাহমুদ, ব্যবসায়ী শোভন, ফেরদৌস, নাজমুল, ব্যবসায়ী জালাল, সিমেন্ট ব্যবসায়ী নুরুদ্দিন সুমনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে তরুণ উদ্যোক্তা তরুণ উদ্যোক্তা মঈন মাশরুর আহমেদকে উৎসাহিত করেন। প্রথম দিনেই ক্রেতাদের কাছ থেকে দারুণ সাড়া মিলেছে। অনেক ক্রেতা আগেভাগেই তাদের পছন্দের পশু বুকিং দিয়ে রাখছেন। এগ্রোর মালিক মাশরুর বলেন, অতিরিক্ত লাভ করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে সুস্থ ও সবল গরু পৌঁছে দেওয়াই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। হাটের ঝক্কিঝামেলা এড়াতে অনেক ক্রেতা সরাসরি খামারে চলে আসছেন। এর প্রধান কারণ হলো এখানকার পরিষ্কারপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং গরু পালনের প্রাকৃতিক পদ্ধতি। খৈল, ভূষি আর ঘাস খাইয়ে বড় করা হয় বলে এখানকার গরুর মাংসের গুণমান নিয়ে ক্রেতারা নিশ্চিন্ত থাকেন। ধর্মীয় নিয়ম মেনে নৈতিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করায় এলাকায় রাজ এগ্রোর প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ছে।

দৈনিক আজাদীর পরিচালনা সম্পাদক ওয়াহিদ মালেক বলেন, গত বছর রাজ এগ্রো থেকে কোরবানির গরু নিয়ে আমি অত্যন্ত সন্তুষ্ট ছিলাম, তাই আল্লাহর ইচ্ছায় এবারও এখান থেকেই নেওয়ার পরিকল্পনা করছি। তাদের সবচেয়ে ভালো দিক হলোকোনো প্রকার ভেজাল ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও হালাল উপায়ে তারা পশু লালনপালন করেন। এই সততাটুকুর কারণেই আমি বারবার এখানে আসতে উৎসাহিত হই। আমাদের উচিত মাশুরুরের মতো তরুণ উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের সাহস দেওয়া। আমি কামনা করি, তাদের এই সুন্দর উদ্যোগটি আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়ুক এবং তারা এভাবেই হালাল উপায়ে নিরাপদ পশুর যোগান দিয়ে এগিয়ে যাক। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচবিতে বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবসে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ও সচেতনতা কর্মসূচি
পরবর্তী নিবন্ধশারীরিক শিক্ষার শিক্ষকদের রিফ্রেশার্স কোর্সের উদ্বোধন