বর্ষাকে সামনে রেখে নগরের ৪৭টি খাল–নালা থেকে ১৪ লক্ষ ১০ হাজার ৬১০ সিএফটি ফুট মাটি উত্তোলনের সিদ্ধান্ত হয়েছে এক মাস আগে। গত ৮ মার্চ অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ (সিডিএ) সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেবা সংস্থার সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০ দশমিক ৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এসব খাল–নালা খনন করবে চসিক। কিন্তু মাস পেরুলেও আর্থিক সক্ষমতার অভাবে এ খনন কাজ শুরু করতে পারছে না সংস্থাটি। এদিকে নগরের ২৫টি খাল থেকে আনুমানিক এক কোটি ঘনফুট মাটি–আবর্জনা উত্তোলন ও অপসারণ এবং চসিকের আওতাধীন ১৬শ কিলোমিটার সার্ভিস ড্রেন পরিষ্কার, ড্রেনে জমে থাকা মাটি ও আবর্জনা অপসারণে ১২ দিন আগে ৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পরিকল্পনা কমিশন হয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পত্র পাঠানো হয়। কিন্তু স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সে অর্থ ছাড় করেনি। অর্থাৎ কেবল আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় খাল খননে আর্থিক সংকট পড়েছে চসিক। ফলে কাজ শুরু করতে পারছে না সংস্থাটি।
জানা গেছে, চসিকের আওতাধীন এলাকায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল ও ড্রেন থেকে মাটি উত্তোলনের জন্য ৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে গত ৩১ মার্চ পরিকল্পনা কমিশনে পত্র পাঠায় অর্থ মন্ত্রণালয়। পরদিন ১ এপ্রিল সেটা অনুমোদন করে পরিকল্পনা কমিশন থেকে স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হয়। এরপর ১২ দিন পেরুলেও অর্থ ছাড় করেনি স্থানীয় সরকার বিভাগ। ফলে নগরের খাল ও নালা থেকে মাটি অপসারণ কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না।
এদিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের চিঠি সূত্রে জানা গেছে, বরাদ্দকৃত ৪৫ কোটি টাকার মধ্যে ২৫ কোটি টাকা খরচ হবে নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে। ২৫টি খাল থেকে আনুমানিক এক কোটি ঘনফুট মাটি–আবর্জনা উত্তোলন ও অপসারণে এ অর্থ ব্যয় হবে। এছাড়া বাকি ২০ কোটি টাকা খরচ করবে চসিক। এদিকে নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ২৫ খাল থেকে মাটি উত্তোলনের কথা বলা হলেও তারা সমন্বয় করবে চসিকের সঙ্গে। আবার চসিক তাদের বরাদ্দকৃত টাকা খরচ করে ড্রেন থেকে মাটি উত্তোলনে নিয়োগ করবে ঠিকাদার, যা সময়সাপেক্ষ। ফলে দ্রুত বরাদ্দকৃত অর্থ ছাড় না হলে বর্ষার আগে কাজ শুরু করতে বেগ পেতে হবে।
এ বিষয়ে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন আজাদীকে বলেন, খাল ও নালা পরিষ্কারের জন্য ৪৫ কোটি বরাদ্দ হয়েছে। আমরা যোগাযোগ করেছি। আমাদের মন্ত্রণালয় (স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়) থেকে দ্রুত এটা ছাড় হবে। এরপর আমরা টেন্ডারে চলে যাব। তবে বরাদ্দকৃত অর্থ ছাড় হতে দেরি হলেও আমরা বসে থাকব না। বর্ষাকে সামনে রেখে রাজস্ব খাত থেকে কাজ শুরু করে দেব। আগামী সপ্তাহে এ কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা আছে।
তিনি বলেন, গত বছর আগ্রাবাদের বঙ কালভার্ট আমরা নৌবাহিনী দিয়ে পরিষ্কার করিয়েছিলাম। এ বছরও যেসব খালে আমাদের নরমাল টেকনোলজি দিয়ে খনন করা সম্ভব হবে না সেগুলোতে নৌবাহিনী কাজ করবে। আমরা সমন্বয় করে কাজ করব। সম্মিলিত প্রচেষ্টার কারণে গত বর্ষায় নগরের জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে এসেছে। সেই সাফল্য ধরে রেখে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে এ বছরও পরিকল্পিতভাবে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে শুধু খাল–নালা পরিষ্কার করা যথেষ্ট নয়, বরং সেগুলো পরিষ্কার রাখাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্য নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। অনেক সময় প্লাস্টিক, পলিথিন ও অন্যান্য অপচনশীল বর্জ্য খাল–নালায় ফেলার কারণে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় এবং জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। আমরা খাল পরিষ্কার করলাম, পলি অপসারণ করলাম, কিন্তু পরে আবার যদি সেখানে ময়লা বা বর্জ্য পড়ে, তাহলে সেই প্রচেষ্টা বৃথা যাবে। এজন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে নাগরিক সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।
চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন আহমেদ চৌধুরী আজাদীকে বলেন, সেনাবাহিনী যে ৪৭টি খাল–নালা পরিষ্কারের কথা বলেছে সেগুলো তাদের প্রকল্পভুক্ত ৩৬ খালের সঙ্গে কানেকটেড। আসলে পুরো শহরে ১৬শ কিলোমিটার ড্রেন আছে। শহরকে জলাবদ্ধতামুক্ত রাখার জন্য সেগুলো পরিষ্কার রাখতে হবে। শীঘ্রই আমরা এসব খাল–নালা পরিষ্কার শুরু করব। আমাদের পরিকল্পনা আছে, বর্ষার আগে ৩০০–৩৫০ কিলোমিটার পরিষ্কার করার। বর্ষার মাঝখানেও কাজ চলবে।














