ইরানে আটকে পড়া বিমানবাহিনীর এক সদস্যকে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান চলাকালে একাধিক মার্কিন বিমান ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। গতকাল রোববার এক বিবৃতিতে খাতামুল আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদরদপ্তরের এক মুখপাত্র এ কথা বলেছেন বলে জানিয়েছে ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিম। এক যৌথ অভিযানে (এরোস্পেস, স্থল বাহিনী, পপুলার ইউনিটস, বাসিজ ও পুলিশ বাহিনী) শত্রু বিমান ধ্বংস করা হয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ফের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, অবরুদ্ধ করে রাখা হরমুজ প্রণালি মঙ্গলবার রাতের মধ্যে খুলে দিতে হবে। না হয় মঙ্গলবার ইরানের সব গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করা হবে। খবর বিডিনিউজ ও বাংলানিউজের।
ইস্পাহানের দক্ষিণে ধ্বংস হওয়া বিমানগুলোর মধ্যে একটি সি–১৩০ সামরিক পরিবহন বিমানের পাশাপাশি দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার আছে বলে জানিয়েছেন ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর একীভূত কমান্ডের মুখপাত্র। তার আগে ইরানি পুলিশ বাহিনীও দক্ষিণ ইস্পাহানে একটি মার্কিন সি–১৩০ বিমান ভূপাতিত হয়েছে বলে জানায়। গতকাল ইস্পাহানে একটি ইসরায়েলি ড্রোনও ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরানি সেনারা।
ইরানের খাতামুল আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদরদপ্তরের মুখপাত্র মার্কিন উদ্ধার অভিযানকে ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন। তবে কাছাকাছি সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী যাকে উদ্ধারে গিয়েছিল, আগে ভূপাতিত এফ–১৫ই বিমানের সেই দ্বিতীয় ক্রুকে পাওয়া গেছে। ট্রাম্প বলেছেন, দ্বিতীয় এই ক্রু একজন কর্নেল। ওই বিমানসেনা ভূপাতিত এফ–১৫ বিমানের অস্ত্র ব্যবস্থা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা।
ইরানের খাতাম্বুল আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদরদপ্তরের মুখপাত্র বলেছেন, তাদের অভিযানের ফলে একাধিক শত্রু বিমান ধ্বংস হয়েছে। ১৯৮০ সালের এপ্রিলের ব্যর্থ ‘অপারেশন ঈগল ক্ল’ অভিযানের সঙ্গে সাদৃশ্য টেনে এবারের উদ্ধার অভিযানেও যুক্তরাষ্ট্রের অপমানজনক পরাজয় হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। হরমুজ খুলতে হবে মঙ্গলবার রাতের মধ্যে : ইরানের অবরুদ্ধ করে রাখা হরমুজ প্রণালি খোলার জন্য নতুন করে সময়সীমা বেঁধে দিয়ে হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে’ এক সাক্ষাৎকারে তিনি মঙ্গলবার রাতের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খোলার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। এই সময়সীমার মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোতে হামলা চালানোর হুমকি দিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, তাদের কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সেতু আর দাঁড়িয়ে থাকবে না।
ট্রাম্প এরপর সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেন। এতে তিনি ইরানের নাম উল্লেখ না করে এবং বিস্তারিত কিছু না জানিয়ে লেখেন, মঙ্গলবার রাত ৮টা ইস্টার্ন টাইম!
এর আগে গতকাল আলাদা পোস্টে ট্রাম্প লিখেছিলেন, ইরান হরমুজ প্রণালি মঙ্গলবারের মধ্যে খুলে না দিলে তাদের অবকাঠামোগুলো হামলার মুখে পড়বে। তবে সেই পোস্টে ট্রাম্প নির্দিষ্ট কোনো সময় উল্লেখ করেননি।
শনিবার ট্রাম্প ইরানকে একটি চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ করার জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। তেহরানের সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে বলে হুঁশিয়ার করেন তিনি। ইরান যদি এই সময়সীমার মধ্যে একটি চুক্তি করতে ব্যর্থ হয় বা গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয় তাহলে দেশটিতে আরও তীব্র হামলা চালানোর হুমকি দেন তিনি।
ট্রাম্পের বেপরোয়া পদক্ষেপে পুরো অঞ্চল জ্বলবে : ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ট্রাম্পের হুমকির জবাব দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, আপনার বেপরোয়া পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিটি পরিবারের জন্য এক জীবন্ত নরকে ঠেলে দিচ্ছে এবং আপনি নেতানিয়াহুর নির্দেশ অনুসরণে অনড় থাকায় আমাদের পুরো অঞ্চল জ্বলতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ভুল করবেন না, যুদ্ধাপরাধ করে আপনি কিছুই অর্জন করতে পারবেন না। একমাত্র বাস্তব সমাধান হলো ইরানি জনগণের অধিকারকে সম্মান করা এবং এই বিপজ্জনক খেলা বন্ধ করা।
ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলী আকবর ভেলায়াতিও সতর্ক করে বলেন, হোয়াইট হাউস যদি আবারও তার বোকামিপূর্ণ ভুলগুলো পুনরাবৃত্তি করে, তাহলে খুব দ্রুত বুঝতে পারবে একটি সংকেতেই জ্বালানি প্রবাহ ও বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যাহত করা সম্ভব।












