কাজাখস্তান থেকে ১ লাখ টন ডিজেল কিনছে সরকার

| রবিবার , ৫ এপ্রিল, ২০২৬ at ৬:৩৫ পূর্বাহ্ণ

ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের সংকট মোকাবেলায় কাজাখস্তান থেকে এক লাখ টন পরিশোধিত ডিজেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গতকাল শনিবার বিকালে সরকারি ছুটির দিনে ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার তথ্য দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালি এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে জানানো হয়, ‘কাজাখ গ্যাস প্রসেসিং প্ল্যান্ট এলএলপি’ থেকে আন্তর্জাতিক সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এক লাখ টন হাই স্পিড ডিজেল আমদানি করা হবে। এছাড়া এদিন দুই কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদনও দেয় ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

আগের মাসে দুটি পৃথক কমিটির সভায় তিন কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সেসময় জরুরি ভিত্তিতে স্পট মার্কেট থেকে কেনার সিদ্ধান্ত হলেও এবার দুই কার্গো কেনা হবে ‘আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড’ থেকে। খবর বিডিনিউজের।

ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার এ বৈঠকে ইরান যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত অস্থিতিশীল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশের জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণে মোট ১৭ লাখ টন তেল আমদানির প্রস্তাব করে জ্বালানি মন্ত্রণালয়। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাজাখস্তান ও ওমান থেকে এসব তেল আনার প্রস্তাব করা হয়। কাজাখস্তান থেকে মোট ৫ লাখ টন আমদানির প্রস্তাব করা হয়, যা আগে অর্থনৈতিক সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন পেয়েছে। তবে ক্রয় সংক্রান্ত কমিটি এখন এক লাখ টন আমদানির অনুমোদন দেয়। বাকি সবমিলিয়ে ১৬ লাখ টন জ্বালানি তেল ‘প্রয়োজন’ অনুসারে কেনা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সভায়।

এর আগে আন্তর্জাতিক সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ‘ডিবিএস ট্রেডিং হাউস এফজেডসিও’ এর কাছ থেকে ১০ লাখ টন (ইএন ৫৯০১০ পিপিএম) মানের ডিজেল ও ১ লাখ টন অকটেন (গ্যাসোলিন ৯৫ আনলেডেড) এবং ‘ম্যাঙওয়েল ইন্টারন্যাশনাল এসপিসি’ থেকে ১ লাখ টন ৫০ পিপিএম সালফার মানের ডিজেল আমদানির প্রস্তাব অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার অনুমোদন পায়।

এক লাখ টন ডিজেল কেনার এ প্রস্তাবের আগে ক্রয় কমিটি গত ৩১ মার্চ মোট ২ লাখ ৬০ হাজার টন জ্বালানি তেল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করে।

ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল আমাদনি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় দেশে জ্বালানির সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সরকারের তরফে সংকট হবে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হওয়ার প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সাশ্রয়ের পথে হাঁটছে সরকার। এমন পরিস্থিতিতে শুক্র ও গতকাল শনিবার দুদিনে পৃথক দুই জাহাজে মোট ৬১ হাজার টন পরিশোধিত ডিজেল দেশে আসে। শুক্রবার ২৭ হাজার টন ডিজেল নিয়ে ‘এমটি ইউয়ান জিং হে‘ নামে একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসার পর গতকাল ভোর রাতে আসে ‘এমটি শান গ্যাং ফা শিয়ান‘ নামের জাহাজ। ৩৪ হাজার টন পরিশোধিত তেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের বর্হিনোঙ্গরে ভিড়ে জাহাজটি। এর আগে গত মঙ্গলবারে ‘পিভিটি সোলানা’ নামে একটি জাহাজ ৩০ হাজার টন ডিজেল নিয়ে বন্দরের ডলফিন জেটিতে এসেছিল।

বাংলাদেশে বছরে গড়ে ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেলের প্রয়োজন। চাহিদার ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে আমদানি করা হয়। বাকি ৮০ শতাংশ জ্বালানি তেল পরিশোধিত অবস্থায় আনা হয় সিঙ্গাপুর, চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়াসহ সাতটি দেশ থেকে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনবিপিসির তথ্য অনুযায়ী, চলতি এপ্রিলে দেশে ডিজেলের চাহিদা প্রায় ৪ লাখ টন। এ মাসে আরও সোয়া ৩ লাখ টন ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা আছে। ইতোমধ্যে ১ লাখ ৬৫ থেকে ৬৮ হাজার টন ডিজেল আসার নিশ্চয়তা পাওয়ার কথা বলেছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়। এর বাইরে প্রায় দেড় লাখ টনের মতো ডিজেল মজুদ রয়েছে।

নতুন করে ক্রয় কমিটি যেসব তেল কেনার অনুমোদন দিচ্ছে তা আসতে আসতে মেজুন লাগবে বলে মন্ত্রণালয়ের তরফে বলা হয়েছে। ক্রয় কমিটিতে অনুমোদনের পর নিয়ম অনুযায়ী কোম্পানিগুলো থেকে পারফরম্যান্স গ্যারান্টি (পিজি) নেয় বিপিসি। এরপর ঋণপত্র (এলসি) খুলে কোম্পানিগুলোকে কার্যাদেশ দেওয়ার পর আসতে মাস দুয়েক লেগে যায় সাধারণত।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবিএনপির জাতীয় কাউন্সিল করতে কয়েক মাস লাগবে : ফখরুল
পরবর্তী নিবন্ধনগরের বিএনপির নেতাদের কাছে চার বিষয়ে সহযোগিতা চান মেয়র