রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে (রাজারহাট হাসপাতাল) গত মার্চ মাসে নিরাপদ মাতৃত্ব সেবায় অনন্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এই কেন্দ্রে দক্ষ চিকিৎসাসেবার মাধ্যমে মোট ২১ জন প্রসূতি মায়ের ‘নরমাল ডেলিভারি’ বা স্বাভাবিক প্রসব সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব নিশ্চিতকরণ এবং মাতৃ ও শিশু মৃত্যু রোধে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি। মার্চ মাসে ২১টি সফল প্রসবের পাশাপাশি শারীরিক জটিলতা থাকায় আরও ৯ জন প্রসূতিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করতে বিশেষ ভূমিকা রাখায় পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা (এফডব্লিউভি) রুবি প্রভা দে এবং পুরো ‘টিম পদুয়া’–এর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন স্থানীয় সেবাগ্রহীতারা। দক্ষ জনবল ও আন্তরিক সেবার কারণে এই এলাকায় সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রসবের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়ছে।
পদুয়া ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে দায়িত্বরত পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক (এফপিআই) মো. এনামুল হক জানান, ঘরে প্রসব (হোম ডেলিভারি) মা ও শিশুর জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিতে তারা শতভাগ প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারির ওপর জোর দিচ্ছেন। ‘হোম ডেলিভারিকে না বলুন, প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারিকে উৎসাহিত করুন’–এই স্লোগানকে সামনে রেখে কাজ করে যাচ্ছে পুরো টিম। জানা যায়, মাতৃ ও শিশু মৃত্যুহার কমিয়ে আনতে বর্তমান সরকার ইউনিয়ন পর্যায়ের এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোকে ঢেলে সাজিয়েছে, যার ইতিবাচক ফল পাচ্ছে রাঙ্গুনিয়ার সাধারণ মানুষ।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নাব জমিলা জানান, হাসপাতালে নিরাপদে ডেলিভারি করানো হলে মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে না, পাশাপাশি কোনো প্রকার অর্থও ব্যয় হয় না। হাসপাতালে গর্ভবতী মায়েদের প্রসব পূর্ববর্তী ও পরবর্তী চিকিৎসা ও পরমার্শ প্রদান করা হচ্ছে। এতে নিয়মিত নরমাল ডেলিভারির সংখ্যা বাড়ছে। নরমাল ডেলিভারিতে পদুয়ার এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছে বলে জানান তিনি।












