একুশে পদকপ্রাপ্ত, সাবেক লায়ন্স জেলা গভর্নর, দৈনিক আজাদী সম্পাদক লায়ন এম এ মালেক বলেছেন, বাংলাদেশের বুকে শিল্পপতি লায়ন রূপম কিশোর বড়ুয়া সর্বক্ষেত্রে যেভাবে অবদান রেখে যাচ্ছেন তা বলাই বাহুল্য। তার সাথে আমার ২৫ বছরের মতো সম্পর্ক। এই পর্যন্ত তাকে দেখেছি শুধু দিয়ে যেতে। তার মতো মানুষ পাওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত সৌভাগ্যের। প্রতিবছর তিনি সমাজ সেবায় কোটি কোটি টাকা দান দিয়ে যান কিন্তু তার বিনিময়ে রাষ্ট্র তাকে আজও সেভাবে মূল্যায়ন করেনি। অথচ অনেক আগেই তার জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার কথা। আমি মনে করি এরকম সমাজদরদী নিঃস্বার্থ মানুষকে যদি রাষ্ট্র স্বীকৃতি দেয়, তাহলে রাষ্ট্রের সুনামই বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।
তিনি গত ২৬ মার্চ চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবস্থ জুলাই বিপ্লব স্মৃতি অডিটোরিয়ামে অনিরুদ্ধ বড়ুয়া অনি মেমোরিয়াল ট্রাস্ট ও লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং কর্ণফুলীর আয়োজনে বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখতে গিয়ে উপরোক্ত মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আমরা যদি সত্যিকারের গুণীর মূল্যায়ন করতে না পারি তাহলে ভবিষ্যতে সমাজ থেকে গুণীমানুষ হারিয়ে যাবে। এম এ মালেক বলেন, রূপম কিশোর বড়ুয়ার কার্যক্রম দেখে আমারও কিছু করতে ইচ্ছে করছে তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি আগামী কয়েক মাসের মধ্যে দৈনিক আজাদীর নামে ১ কোটি টাকার একটি ট্রাস্ট করে সেখান থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি প্রদানের ব্যবস্থা করব। তিনি বৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্র–ছাত্রীদেরকে মোবাইল আসক্তি থেকে বেরিয়ে লেখাপড়ার প্রতি মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।
অনিরুদ্ধ বড়ুয়া অনি মেমোরিয়াল ট্রাস্টের চেয়ারম্যান, লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং কর্ণফুলীর প্রতিষ্ঠাতা, কনফিডেন্স সিমেন্ট লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান, প্রাক্তন লায়ন জেলা গভর্নর রূপম কিশোর বড়ুয়া বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, দীর্ঘ ২৫ বছর যাবত অনিরুদ্ধ ট্রাস্ট থেকে বৃত্তি দিয়ে আসছি। আমি জানি না বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ক’জন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার কিংবা মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছে। যাদেরকে বৃত্তি দিই তাদের মধ্যে থেকে হাজারে দুয়েকজন বাদে অধিকাংশ শিক্ষার্থী এসে বলে না যে স্যার আমি ভালো পাশ করেছি। এটি কেমন দৃষ্টিভঙ্গি আমি আসলে বুঝি না। শিক্ষা–দীক্ষায় ভালো কৃতিত্ব দেখাতে পারলে দেশের উন্নতির জন্য কাজ করবে সেই জন্য আমি আমার প্রয়াত ছেলের উদ্দেশ্যে বৃত্তিটা চালু করেছি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন লায়ন্স ক্লাবস ইন্টারন্যাশনাল, জেলা ৩১৫–বি৪ বাংলাদেশের গভর্নর লায়ন মোসলেহউদ্দিন আহমেদ অপু। তিনি বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদেরকে দেশের প্রকৃত ইতিহাসকে ধারণ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আজকে তোমরা যার অনুদানে বৃত্তি লাভ করেছ তিনি লায়ন রূপম কিশোর বড়ুয়া। তার মতো দানশীল সমাজসেবক ব্যক্তি না থাকলে তা কোনোদিন সম্ভব হতো না।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন লায়ন্স ক্লাবস ইন্টারন্যাশনালের প্রথম ভাইস জেলা গভর্নর লায়ন মো. কামরুজ্জামান লিটন, দ্বিতীয় ভাইস জেলা গভর্নর লায়ন মোহাম্মদ আবু বক্কর সিদ্দিকী, বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদ জাতীয় কমিটির চেয়ারম্যান চিম্ময় বড়ুয়া রিন্টু। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন অনিরুদ্ধ বড়ুয়া অনি মেমোরিয়াল ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান লায়ন সুপ্রভা বড়ুয়া, ইউএসটিসির প্রাক্তন উপাচার্য প্রফেসর ডা. প্রভাত চন্দ্র বড়ুয়া, বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টবোর্ড চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মৃগাংক প্রসাদ বড়ুয়া, ডা. প্রীতি বড়ুয়া, অধ্যক্ষ তুষার কান্তি বড়ুয়া, প্রকৌশলী তীর্থঙ্কর বড়ুয়া ও প্রকৌশলী সীমান্ত বড়ুয়া। রোটারিয়ান সজীব বড়ুয়া ডায়মন্ড ও লায়ন মিরাজুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন শিক্ষক অঞ্জন বড়ুয়া। কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং কর্ণফুলীর সভাপতি লায়ন ইকবাল হোসেন সুমন। অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিচালক প্রিয়াংকা বড়ুয়ার পরিচালনায় নৃত্যরূপ একাডেমির শিল্পীবৃন্দরা নৃত্য পরিবেশন করেন।
জানা যায়, এ বছর অনিরুদ্ধ বড়ুয়া অনি মেমোরিয়াল ট্রাস্ট থেকে মাধ্যমিক পর্যায়ে ৯৬ জন এবং কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, প্রকৌশল ও মেডিকেল পর্যায় থেকে ৪৪ জনসহ মোট ১৪০ জন শিক্ষার্থীকে মোট ১৩ লাখ ৬২ হাজার টাকার শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করা হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।












