সংস্কৃতির নামে যখন প্রহসন করা হয়, তখনই তা অপসংস্কৃতিতে পরিণত হয়। আমাদের সমাজে বর্তমানে অপসংস্কৃতি এতটাই বেড়েছে যে আমরা আমাদের সংস্কৃতিকে ভুলতে বসেছি। আমাদের কাছে এখন উৎসব মানেই অতিরিক্ত শব্দদূষণ আর আতশবাজির ফোয়ারা। যেন প্রতিযোগিতা শুরু হয় কে কার থেকে এগিয়ে থাকবে, কে কাকে কত বেশি টেক্কা দেবে; এরই প্রেক্ষিতে দুমড়ে–মুচড়ে যাচ্ছে হাজার বছরের ঐতিহ্যে লালিত আমাদের সংস্কৃতি। যে সংস্কৃতি নিয়ে আমরা বড়াই করতাম, সেটিই আজ আমাদের কাছে পরিহাসের পাত্র হয়ে উঠেছে। সামনেই আসছে পহেলা বৈশাখ, আর এ বৈশাখের উৎসবকে কেন্দ্র করেই কিন্তু অপসংস্কৃতির চর্চা হবে আরও বেশি। শুধুমাত্র পহেলা বৈশাখেই নয়, বিবাহ অনুষ্ঠান, বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানেও যখন এসব অপসংস্কৃতি চোখে পড়ে, তখন সত্যিই খারাপ লাগে। মনে প্রশ্ন জাগে সত্যিই কি আমরা আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্যে লালিত সংস্কৃতির রক্ষা করতে পারছি? আমরা বাঙালি হয়ে আমাদের বাংলার সংস্কৃতিকে ভুলে গিয়ে পালন করছি বিদেশি অপসংস্কৃতি, যা সত্যিই দুঃখজনক। এমন অবস্থা চলতে থাকলে আমাদের সংস্কৃতির যে ধারাবাহিকতা, তা আর বজায় রাখা সম্ভব হবে না। আমাদের সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে অতিশীঘ্রই অপসংস্কৃতির রোধ করে সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা করতে হবে। যখন এ অপসংস্কৃতি রোধ করা সম্ভব হবে, তখনই আমরা আমাদের সুস্থ সংস্কৃতি উপভোগ করতে পারব।
অন্তি বড়ুয়া
চট্টগ্রাম কলেজ।











