ঈদকে কেন্দ্র করে নগরীর অভিজাত বিপণী থেকে রাস্তার ফুটপাত সর্বত্র জমজমাট ঈদ বাজার। বিশেষ করে নিম্নবিত্ত শ্রেণীর মানুষের একমাত্র ভরসাস্থল বলা যায়, এই ফুটপাত। ফুটপাতে অস্থায়ীভাবে টেবিল বসিয়ে পণ্যের পসরা নিয়ে বসা এই শহরের পুরনো চিত্র। এছাড়া এর সাথে যোগ হয়েছে ভ্যান গাড়িও। এখন ফুটপাতের পাশে ভ্যান গাড়িতেও ঈদের বাজারে কেনাকাটা চলছে পুরোদমে। নির্মাণ শ্রমিক, দিনমজুর, রিক্সা চালক ও খেটে খাওয়া মানুষ পরিবার পরিজন নিয়ে ছুটে আসেন ফুটপাতের ঈদ বাজারে।
গতকাল সরেজমিনে নগরীর আগ্রাবাদ, নিউমার্কেট, লালদীঘির পাড়, আন্দরকিল্লা মোড় এবং জিইসি মোড়ের ফুটপাত ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন বয়সী নারী পুরুষ ফুটপাত থেকে কেনাকাটা করছেন। কেবল নিম্নবিত্ত মানুষ নয়, উচ্চবিত্তের অনেকেই ফুটপাতের বিভিন্ন পণ্য খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছেন। আগ্রাবাদ মোড়ের বিক্রেতা ইসমাইল হোসেন বলেন, এ বছর অনেক আশা ভরসা নিয়ে ব্যবসায় নেমেছি। দুটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছি। কারণ ঈদের ব্যবসা সম্পূর্ণ মৌসুমকেন্দ্রিক। পুরো বছরের অর্ধেক বেচাবিক্রি এই এক মাসে হয়। ঈদ উপলক্ষে অনেক ভালো পণ্য এনেছি। আমাদের বেশিরভাগ পোশাক গার্মেন্টেসের। সব শ্রেণীর ক্রেতারা আমাদের দোকানে আসেন। ঈদ উপলক্ষে গত দুইদিন বেচাবিক্রিও বেশ ভালো হচ্ছে।
আগ্রাবাদ মোড়ের ফুটপাতে কথা হয় দিনমজুর আলী আহমদের সাথে। তিনি বলেন, বউ বাচ্চার জন্য কিছু পোশাক কিনতে এসেছি। আমরা গরীব মানুষ, চাইলেও তো আর মার্কেট থেকে কেনাকাটা করতে পারি না।
অন্যদিকে নগরীর লালদীঘি মাঠের ফুটপাতে তিন চাকার ভ্যান গাড়িতে শার্ট, প্যান্ট, লুঙ্গি এবং বাচ্চাদের ফ্রক বিক্রি করছেন সৈয়দ আহমদ। বেচাবিক্রির অবস্থা জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুপুরের পর থেকে মূলত বেচাবিক্রি শুরু হয়। ইফতারের পর বেচাবিক্রির পরিমাণও বাড়ে। এখন পর্যন্ত যে পরিমাণ বিক্রি হচ্ছে তাতে আমি সন্তুষ্ট। জহুর হকার্স মার্কেট এলাকায় কথা হয় একটি বেসরকারি হাসপাতালের আয়া জেসমিন আকতারের সাথে। তিনি বলেন, ফুটপাতে অনেক সুন্দর জামা কাপড় এসেছে। প্রতি বছর এখান থেকে কেনাকাটা করি। বিক্রেতারা দামও একটু বেশি হাঁকছেন।
অপরদিকে বহদ্দারহাট মোড় এলাকার কয়েকজন বিক্রেতা আক্ষেপ করে বলেন, ফুটপাতে পোশাক বিক্রি আগের চেয়ে কমে গেছে। এখন প্রতিযোগিতা বেড়ে গেছে। খরচের সাথে আয়ের তেমন সামঞ্জস্য নাই। দোকান ভাড়া কাদের দিতে হয় জানতে চাইলে তারা বলেন, ভাড়া অবশ্য নির্দিষ্ট না। পুলিশ ও স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা এই ভাড়ার টাকা নিয়ে থাকেন। এখন যেহেতু ঈদের মৌসুম তাই ভাড়াও বেশি গুনতে হবে।












