স্বাধীনতা পুরস্কার একটি দায়িত্ব, সামনে যত পারি কাজ করে যেতে চাই

আজাদীকে ড. সুকোমল বড়ুয়া

মোরশেদ তালুকদার | শুক্রবার , ৬ মার্চ, ২০২৬ at ৫:১৬ পূর্বাহ্ণ

একটি অসাম্প্রদায়িক ও আলোকিত রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেন জানিয়ে এ রাষ্ট্র গড়তে যতটুকু শ্রমসাধনা দেওয়া প্রয়োজন সবটুকু দেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন এ বছর স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত ঢাকা বিশ্বাবদ্যালয়ের বৌদ্ধধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি ও পালি এন্ড বুড্ডিস্ট স্টাডিজ বিভাগের সংখ্যাতিরিক্ত অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া। তিনি বলেন, আমি সামনে যত পারি আরো কাজ করতে চাই। দেশের সেবা, মানবিক সেবা, মানুষের সেবা ও জনগণের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসা দিয়ে এবং কোনো ধরনের স্বার্থপরতা না রেখে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে এই দেশকে শ্রেষ্ঠত্বের দিকে নেওয়ার জন্যে যা কিছু করণীয় সেটা করবো। সেটা শিক্ষার ক্ষেত্রে, বিদ্যার ক্ষেত্রে, পান্ডিত্যের ক্ষেত্রে, গবেষণার ক্ষেত্রে, মানবিক মূল্যবোধের ক্ষেত্রে ও সম্প্রীতি রক্ষার ক্ষেত্রে। দেশের নানা মানুষের যে চাহিদাগুলো থাকে, অর্থাৎ একটা আলোকিত বাংলাদেশ তৈরি হোক, আলোকিত রাষ্ট্র তৈরি হোক; এর পেছনে আমার যতটুকু শ্রমসাধনা দেওয়া প্রয়োজন আমি সেভাবে ঢেলে দেব। এই পুরস্কার আমাকে কিন্তু সেভাবে একটা দায়িত্ব দিয়েছে বলে মনে করি।

স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য নাম ঘোষণার পর আজাদীর সাথে একান্ত আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ এবার স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন ১৫ ব্যক্তি ও পাঁচ প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে আছেন চট্টগ্রামের সন্তান ড. সুকোমল বড়ুয়াও। তিনি গবেষণা ও প্রশিক্ষণে অবদান রাখায় পুরস্কার পাচ্ছেন। এর আগে ২০০৬ সালে শিক্ষায় অবদান রাখায় একুশে পদক পান তিনি। বর্তমানে ড. সুকোমল বড়ুয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি এন্ড বুড্ডিস্ট স্টাডিজ বিভাগে সুপার নিউমারারি অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তিনি ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলবিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত হওয়ার অনুভূতি জানতে চাইলে ড. সুকোমল বড়ুয়া বলেন, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ একটা পদক দিয়ে আমাকে ভারস্থ করে ফেলেছে, এই রাষ্ট্রের আমি একটা অংশীজন হলাম। সম্মাননা দিয়ে আমাকে মূল্যায়ন করায় প্রথমেই বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মহোদয়কে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি, আমার গবেষণা কর্ম কিভাবে তার দৃষ্টিতে এসেছে আমি জানি না। বর্তমান সরকারে যারা দায়িত্বে আছেন, মন্ত্রী এবং সচিবসহ সংশ্লিষ্ট যারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সকলকেও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এই প্রাপ্তিতে আমি এই রাষ্ট্রকে অভিনন্দন জানাই এবং রাষ্ট্রের মানুষদেরকে আমি অভিনন্দন জানাই।

তিনি বলেন, ৭৫ বছর বয়সের শেষের দিকে এসে আমার শ্রেষ্ঠ পুরস্কারটা যে আমাকে দিয়েছে, এজন্য বর্তমান সরকার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। ২০০৬ সালে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় আমাকে একুশে পদক দিয়েছেন। তারই সুযোগ্য সন্তান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাকে স্বাধীনতা পদক দিচ্ছেন, এটা আমার জন্য আনন্দের। একুশে পদক দিয়েছিলেন শিক্ষায়, এবার গবেষণা এবং প্রশিক্ষণে পদক পাচ্ছি।

সুকোমল বড়ুয়া বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যিনি দেশকে পরিবর্তনের ধারায় আনার জন্য ধর্মবর্ণ, জাতিগোষ্ঠী রেইনবোনেশনের একটা চিন্তাভাবনা করছেন এবং দেশকে সচল করার জন্য তার যে প্রাণপণ কর্মপ্রবাহ দেখছি। তিনি (তারেক রহমান) দায়িত্ব পাওয়ার পর বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে আমাকে নির্বাচিত করেছেন, এর মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িক চেতনার একটা প্রকাশ দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একজন শিক্ষক হিসেবে আমি এই জাতি ধর্ম বর্ণের জন্য সৌহার্দ্যপূর্ণ অবস্থান, শান্তির পরিবেশ তৈরি করা, মানবিক পরিবেশ তৈরি করা, সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরি করা এবং দেশে সব নাগরিকের সৌহার্দপূর্ণ অবস্থান ও দেশমাতৃকাকে ভালোবাসার বাণীগুলো দিয়েছিলাম। সবসময় সবার কাছে আমি এগুলো বলতামএই দেশ আমার, আমি এই মাটির মানুষ, এই দেশ ছেড়ে আমি কখনো কোথাও যাবো না। এই দেশ আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। আজকে তারই একটা প্রাপ্তি আসলো আমার মনে হয়। স্বাধীনতা পদক পেয়ে আমি আমি খুবই আনন্দিত।

তিনি বলেন, আমি চট্টগ্রামের সন্তান। বৃহত্তর চট্টগ্রামের সন্তান আমি। চট্টগ্রামের মাটি ও মানুষের জন্য কতটুকু পেরেছি জানি না, তবে এখন দায়ভার বেড়ে গেছে। আমার শিক্ষাজীবন কেটেছে চট্টগ্রামে। আজ আমি আমার প্রাইমারি, হাইস্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। পাশাপাশি আমার মাবাবা, আত্মীয়স্বজন, পরিবার পরিজন এবং গ্রামবাসী, সাতকানিয়ার জনপদকে স্মরণ করছি, আমাকে তৈরি করার পেছনে তাদের অবদান আছে। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যে মুসলিম পরিবার কাছে আমি ছিলাম, সেখানে থেকে আমি লেখাপড়া করেছি, আজকে তাদেরকে আমি স্মরণ করছি, তারা আমার জীবনের একটি অংশ। বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট ফেডারেশনযেখানে আমি নেতৃত্ব দিয়েছি, আন্তর্জাতিক বৌদ্ধবিহার যেখানে গড়ে তুলেছিলাম তাদের স্মরণ করি। বাংলাদেশ আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। সেই তুলনায় আমি বাংলাদেশকে এখনো কিছু দিতে পারি নাই। আগামী দিনে যদি আমি আরো দেওয়ার জন্য সুযোগ পেলে দেব। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের সন্তানেরা কিন্তু অনেক কৃতিত্ব রেখেছে নানা কাজে। স্বাধীনতা যুদ্ধ, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে তারা অবদান রেখেছে। চট্টগ্রামবাসী দেশপ্রেমিক বেশি, এজন্য আমি এই চট্টগ্রামকে ভালোবাসি।

সুকোমল বড়ুয়া বলেন, আজাদী চট্টগ্রামের প্রথম সারির পত্রিকা। আজাদীকে নিয়ে আমরা গর্ব করি। অনেক আগে আজাদীতে লিখতাম। বৃহত্তর চট্টগ্রামের সর্বশ্রেষ্ঠ পত্রিকা হল আজাদী। আজাদীর সকল শুভানুধ্যায়ী, মালিকসহ সংশ্লিষ্ট যারা আছেন সকলের প্রতি আমার ভালোবাসা থাকল। আজকে আজাদী আমাকে স্মরণ করেছে, আনন্দঘন পরিবেশে আমার স্বাধীনতা পুরস্কার প্রাপ্তিতে আজাদী যে আমাকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছে এইজন্য আমি ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ৯ এপ্রিল
পরবর্তী নিবন্ধধানের শীষ পেয়েছে ৩ কোটি ৭৪ লাখ ভোট, দাঁড়িপাল্লা ২ কোটি ৩৮ লাখ