নার্সিসিজম বা আত্মপ্রেম কী?

শারমিন সুলতানা রীনা | শনিবার , ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৮:৪০ পূর্বাহ্ণ

নিজের প্রতি গভীর ভালোবাসা, সম্মান ও যত্ন নেওয়া, নিজেকে বিশ্বাস করা ও নিজের মূল্য বোঝা, যাকে নার্সিসিজমবা আত্মমগ্নতা বলে, যেখানে নিজের প্রতি অতিরিক্ত মুগ্ধ থাকা ও অন্যদের গুরুত্ব না দেয়া, যা থেকে স্বার্থপরতা বা অহংকারের জন্ম হয়। একে অনেকটা মানসিক রোগও বলা হয়। এই স্বভাবের মানুষেরা নিজেরা যাই হোক, কিন্ত নিজেকে খুব সুন্দর আত্মবিশ্বাসী এবং সবার থেকে আলাদা ভাবে। অন্যেদের অবহেলা করে যায় অনায়েসে। অন্যদের আবেগ অনুভূতির মূল্য বোঝে না। নিজের প্রতি সারাক্ষণই অনুরক্ত থাকে। গ্রীক পুরাণের বিখ্যাত চরিত্র নার্সিসাস থেকে নার্সিজিজম শব্দটি এসেছে। অবর্ণনীয় সৌন্দর্যের অধিকারী নার্সিসাস পর্বতদেবী ইকোর প্রেমকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। এই প্রত্যাখ্যানে অপমানিত হয়ে দেবী ইকো দেবতা নেমেসিসের সহায়তায় নার্সিসাসকে অভিশাপ দেন। অভিশাপের কারণে নার্সিসাস নিজেই নিজের প্রেমে পড়ে যান। একদিন শিকারকালে প্রবল তৃষ্ণায় পানি খুঁজতে খুঁজতে একটি স্বচ্ছ হ্রদের সন্ধান পান। তৃষ্ণা কাতর নার্সিসাস আজলা দিয়ে পানি তুলতে গেলে দেখেন অতুলনীয় সুন্দর এক মুখ। যা ছিলো তার নিজেরই প্রতিবিম্ব। তখনই নিজের সৌন্দর্যের প্রেমে পড়ে যান এবং একাগ্রতায় তাকিয়ে থাকেন পানির দিকে প্রতিবিম্ব ভেঙে যাবে বিধায় তিনি আর পানি পান করলেন না। এক সময় ক্ষুধা তৃষ্ণায় মারা যান।তার মরদেহের পচা গলা অংশ থেকে জন্ম নেয় এক তরুলতা। যার থেকে বেরিয়ে আসে সুন্দর এক ফুল। সেই ফুলের নাম নার্সিসাস পোয়েটিকাস। বাংলায় যার নাম নার্গিস। নার্সিসিস ড্যাফোডিল জাতীয় ফুল। এই রোগে আক্রান্তরা অন্যদের পুরো মনোযোগ পেতে চায়, না পেলে রাগ অভিমানে ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। ব্যক্তিত্ব সংকট এদের চরমে থাকে। তবে এই আত্মপ্রেম আত্মযত্ন ও আত্মসহানুভূতি যা কঠিন সময়েও নিজেকে সমর্থন করতে শেখায়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআকর্ষণের নিয়ম ও মানবচেতনার শক্তি
পরবর্তী নিবন্ধশিশুরাই তো চির প্রবীণ