পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং সাপ্লাই চেইনে যে কোনো ধরনের বিলম্ব রোধে জরুরি কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ লক্ষ্যে গতকাল বন্দরে অনুষ্ঠিত হয় দুটি কৌশলগত (স্ট্র্যাটেজিক) উচ্চপর্যায়ের সভা। প্রথম সভায় সভাপতিত্ব করেন চবক চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস. এম. মনিরুজ্জামান। সভা শেষে বন্দরকে তাৎক্ষণিকভাবে পূর্ণকালীন ২৪/৭ নিরবচ্ছিন্ন অপারেশন মোডে পরিচালনার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
সভায় চেয়ারম্যান আসন্ন রমজান উপলক্ষে বাজারে খেঁজুর, ফলমূল, মসলা, চিনি, ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস ২৪/৭ আমদানি পণ্যের শুল্কায়ন ও রপ্তানি পণ্যের জাহাজীকরণ কার্যক্রম চালু রাখবে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ তিন শিফটে দিন–রাত অপারেশন পরিচালনা করবে এবং রমজানের নিত্যপণ্যগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খালাস ও ডেলিভারি নিশ্চিত করা হবে।
বন্দর চেয়ারম্যান দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের স্বার্থে সাপ্লাই চেইন বিলম্বের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেন। অপরদিকে ঢাকামুখী কন্টেনার সরাতে ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ গ্রহণ করা হয়েছে।
বন্দরে ঢাকা আইসিডিগামী প্রায় দুই হাজার কন্টেনার জমে থাকায় সৃষ্ট চাপ নিরসনে বিশেষ ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ গ্রহণ করা হয়েছে। এর আওতায় বাংলাদেশ রেলওয়ের মাধ্যমে দ্রুত কন্টেনার পরিবহনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমদানি–রপ্তানিকারকদের সঙ্গে রেলওয়ের জরুরি সভা আয়োজনের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। এর ফলে বন্দরের ইয়ার্ডে জট কমে অপারেশনাল গতি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
বন্দর অভ্যন্তরে কাস্টমস স্থাপিত ৪/৫টি স্ক্যানার বিকল থাকায় স্ক্যানিংয়ের অপেক্ষায় থাকা যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে, যা স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করছে। এ প্রেক্ষাপটে গেট এলাকায় জট কমাতে স্ক্যানারগুলোর দ্রুত মেরামত ও আধুনিকায়নের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
অপারেশনাল কার্যক্রম ও কন্টেনার হ্যান্ডলিং রিয়েল–টাইম মনিটরিংয়ের জন্য দুটি উচ্চ–ক্ষমতাসম্পন্ন ফোর্স গঠন করা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রতিটি ইক্যুইপমেন্ট সচল রাখতে একটি কুইক রেসপন্স টিম গঠন করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
একই দিনে সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ বন্দরের অপারেশনাল লজিস্টিকস ও টেকনিক্যাল সক্ষমতা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে বিশেষ মতবিনিময় সভা করেন। সভায় চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ কন্টেনার শিপিং অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ শিপ হ্যান্ডলিং অ্যান্ড বার্থ অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতি, প্রাইম মুভার ও ফ্লাটবেড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনসহ পরিবহন সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো ২৪/৭ শিডিউলের সাথে তাল মিলিয়ে অতিরিক্ত জনবল ও লজিস্টিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।
বন্দরের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানান, সাময়িক স্থিতিশীলতা কাটিয়ে বর্তমানে পণ্য খালাসের যে গতি তৈরি হয়েছে, তা আরও বেগবান করা সম্ভব হবে সম্মিলিত প্রচেষ্টায়। রমজানে বাজারে কৃত্রিম সংকট বা সরবরাহ বিঘ্ন এড়াতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ দেশের আমদানি–রপ্তানির বৃহত্তর স্বার্থে সবপক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে।










