ছোট পরিসরে মন্ত্রিসভা, নবীন-প্রবীণের সমন্বয়

বৃহত্তর চট্টগ্রাম থেকে থাকতে পারেন কয়েকজন

মোরশেদ তালুকদার | মঙ্গলবার , ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৬:২৪ পূর্বাহ্ণ

নবীন–প্রবীণের সমন্বয়ে ছোট আকারের মন্ত্রিসভা গঠন করবে বিএনপি সরকার। এ মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা ৩০ থেকে ৪০–এর মধ্যে থাকতে পারে। এর মধ্যে ২৫ থেকে ২৭ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং বাকিরা প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী হবেন। এর মধ্যে বৃহত্তর চট্টগ্রাম থেকে তিন থেকে চারজনকে মন্ত্রী করা হতে পারে। এছাড়া আরো দুয়েকজনকে পর্যায়ক্রমে প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী করা হতে পারে। বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতার সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানা গেছে।

২০ বছর পর আজ মঙ্গলবার সরকার গঠন করবে বিএনপি। বিকেল ৪টায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা। এর আগে সকাল ১০টায় শপথ নেবেন নব নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর থেকে চট্টগ্রামসহ সারা দেশে আলোচনা শুরু হয় কেমন হবে বিএনপির মন্ত্রিসভা। কারা স্থান পাবেন সেখানে। এর মধ্যে চট্টগ্রামজুড়ে আলোচনা ছিল বৃহত্তর চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচিত বিএনপির ২১ জন সংসদ সদস্য থেকে কয়জন স্থান পাচ্ছেন?

জানা গেছে, মন্ত্রিসভায় কাদের রাখা হবে তা একদিন আগেই চূড়ান্ত করেছেন তারেক রহমান। যা গতকাল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। সাধারণত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে শপথ পড়ানোর বিষয়ে সম্ভাব্য মন্ত্রীদের ফোন দিয়ে জানিয়ে দেয়া হয়। গত রাত সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত কাউকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ফোন দেয়া হয়নি। তবে আজ সকালে তাদের ফোন করা হবে।

এদিকে বিএনপির একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বৃহত্তর চট্টগ্রাম থেকে তিন জনের মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ার বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে। এর মধ্য দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নাম আছে সবার শীর্ষে। তিনি অর্থ মন্ত্রণালয় অথবা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন বলেও জোর আলোচনা চলছে।

এছাড়া প্রায় চূড়ান্ত হওয়াদের মধ্যে আছেন কক্সবাজার থেকে নির্বাচিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ও বান্দরবান থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী। আলোচনায় আছেন রাঙামাটি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ানের নামও।

এদিকে চট্টগ্রাম থেকে মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় আছেন আনোয়ারা থেকে নির্বাচিত সংসদ সরওয়ার জামাল নিজাম, রাউজান থেকে নির্বাচিত গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীও।

নবীনদের মধ্যে আছেন ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, সাঈদ আল নোমান ও হুমাম কাদের চৌধুরী। এই তিনজনের কেউ একজন প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী হতে পারেন বলেও গুঞ্জন আছে।

কেন্দ্রীয় বিএনপির একাধিক নেতার সাথে আলাপকালে তারা জানিয়েছেন, বিএনপি এবার মন্ত্রিসভায় তারুণ্যকে মূল্যায়ন করবে। সেক্ষেত্রে তরুণ সংসদ সদস্যদের দলের প্রতি অবদানের পাশাপাশি শিক্ষাসহ বিভিন্ন যোগ্যতা খাতিয়ে দেখা হবে। চট্টগ্রাম থেকে আলোচনায় থাকা দুই তরুণের মধ্যে উচ্চ শিক্ষিত মীর হেলাল দীর্ঘদিন ধরে দলের আন্দোলন–সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। আবার সাঈদ আল নোমানও উচ্চ শিক্ষিত। তিনি অঙফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে এমফিল এবং লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্স থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়েছেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটি থেকেও স্নাতক ডিগ্রি নিয়েছেন।

সাধারণত চট্টগ্রাম–৯ আসন থেকে দলের কেউ নির্বাচিত হলে তাকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেয়ার প্র্যাক্টিস আছে রাজনৈতিক দলগুলো থেকে। সেক্ষেত্রে এবার এ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান মন্ত্রিসভায় ‘প্রতিমন্ত্রী’ হিসেবে স্থান পেতে পারে বলে দাবি করেছেন তার অনুসারিরা।

প্রথম ধাপে না হলে পরবর্তীতে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকারও টেকনোক্রেট মন্ত্রী হতে পারেন বলেও দাবি তার অনুসারিদের। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে রাউজান থেকে গিয়াস কাদের চৌধুরীর পাশাপাশি দলের প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছিলেন গোলাম আকবরও। যদিও শেষ মুহূর্তে চূড়ান্ত মনোনয়ন পান গিয়াস কাদের। গোলাম আকবর খোন্দকারের অনুসারিদের দাবি, দল মনোনয়ন না দিলেও মূল্যায়ন করবেন তাকে। সেক্ষেত্রে মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন। তিনি ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাউজান থেকে থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এর আগে ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় সদস্য ছিলেন ৬০ জন। তখন শুধু চট্টগ্রাম জেলা থেকে স্থান পান ৬ জন। এর মধ্যে পূর্ণ মন্ত্রী ছিলেন আবদুল্লাহ আল নোমান, এম মোরশেদ খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও এল কে সিদ্দিকী। প্রতিমন্ত্রী ছিলেন জাফরুল ইসলাম চৌধুরী ও মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন। এছাড়া সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরী পূর্ণ মন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন। জাতীয় সংসদের হুইপ ছিলেন সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম। জাতীয় সংসদ–এর হুইপ প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা ভোগ করেন। ২০০১ সালে বৃহত্তর চট্টগ্রামের মধ্যে যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন কঙবাজারের সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ছিলেন মনি স্বপন দেওয়ান।

বিএনপির চট্টগ্রামের নেতারা বলছেন, চট্টগ্রামের উন্নয়ন মানে দেশের উন্নয়ন। বন্দরের অবস্থান এবং ভৌগলিক অবস্থানগত কারণে চট্টগ্রামের আলাদা গুরুত্ব আছে পুরো বাংলাদেশসহ দাক্ষণ এশিয়ায়। কাজেই গুরুত্ব বিবেচনায় সব সরকারই চট্টগ্রামের নেতাদের প্রাধান্য দেয় তাদের মন্ত্রিসভায়। এমনকি সর্বশেষ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও চট্টগ্রাম থেকে ৫ জন মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। কাজেই অতীতের ন্যায় এবারও বিএনপি চট্টগ্রামকে মূল্যায়ন করবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধএবার চরমোনাই পীরের বাসায় তারেক রহমান
পরবর্তী নিবন্ধজনগণ আমাকে কতটুকু পছন্দ করে দেখতে চাই : মেয়র